পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SOR . বিভূতি-রচনাবলী নামে, টিয়া পাখির ঝাঁক সারাদিন কলরব করে, আরও উপরে যেখান হইতে বাদাম ও সেগন বনের শর, সেখানে অঙ্গস সাদা মাজফেল, আরও উপরে রিঠাগাছে থোলো-থোলো ফুল ধরিয়াছে, এমন কি ভাল করিয়া খ:জিয়া দেখিলে দু-একটা রিঠাগাছে এখনও দল এক ঝাড় দেরিতে-ফোটা রিঠা ফুলও পাওয়া যাইতে পারে। o সেখানকার সেই বিরাট রক্ষ আরণ্যভূমি, নক্ষত্রালোকিত আলো-অাঁধার, উদ্বার জনহীন, বিশাল তৃণভূমি সেই টানা একঘেয়ে পশ্চিমে হাওয়া, সেই অবাধ জ্যোৎস্না, স্বাধীনতা, প্রসারতা, সেই বিরাট নিউজ’নতা তাহাকে আবার ডাকিতেছে । - এক এক সময় তাহার মনে হয় কানাডায়, অস্ট্রেলিয়ায়, নিউজিল্যান্ডে, আফ্রিকায় মানুষ প্রকৃতির এই মুক্ত সেন্দ্যি"কে ধংস করিতেছে সত্য, গাছপালাকে দীর করিয়া দিতেছে বটে, কিন্তু প্রকৃতি একদিন প্রতিশোধ লইবে । ট্রপিকস-এর অরণ্য আবার জাগিবে, মানবকে তাহারা তাড়াইবে, আদিম অরণ্যানী আবার ফিরিবে । ধরাবিদ্রাবণকারী সভ্যতাদপী মানুষ যে স্থানে সাম্রাজ্য স্থাপন করিয়াছে, পৰ্বতমালার নাম দিয়াছে নিজের দেশের রাজার নামে, হ্রদের নাম দিয়াছে রাজমন্ত্রীর নামে ; ওর শশক, পাখি, শিল, বলগা-হরিণ, ভালককে খন করিয়াছে –তেল, বসা, চামড়ার লোভে, ওর মহিমময় পাইন অরণ্য ধর্মলিসাৎ করিয়া কাঠের কারখানা খালিয়াছে, এ সবের প্রতিশোধ একদিন আসিবে । এ যেন এমন একটা শক্তি র্যা বিপুল, বিশাল, বিরাট । অসীম ধৈয্যের ও গাম্ভীয্যের সহিত সে সংহত শক্তিতে চুপ করিয়া অপেক্ষা করিতেছে, কারণ সে জানে তাহার নিজ শক্তির বিপ্লতা । অপর একবার ছিন্দওয়ারার জঙ্গলে একটা খনির সাইডিং লাইন তৈরি হওয়ার সময়ে আরণ্যভূমির তপস্যাস্তবধ, দরদশীি, রুদ্রদেবের মত মৌন, এই গম্ভীর ভাব লক্ষ্য করিয়াছিল। ঐ শক্তিটা ধীরভাবে শুধ সংযোগ প্রতীক্ষা করিতেছে মাত্র । অপর কিন্তু চাকরি হইল না। এবার একা মিঃ রায়চৌধুরীর হাত নয় । জয়েন্ট-স্টক কোম্পানীর অন্যান্য ডাইরেক্টররা নাকি রাজী হইল না । হয়ত বা তাহারা ভাবিল, এ-লোকটার সেখানে ফিরিবার এত আগ্রহ কেন ? পরোনো লোক, চুরির সুলক-সন্ধান জানে, সেই লোভেই যাইতেছে । তা ছাড়া ডাইরেক্টররাও মানুষ, তাহাদেরও প্রত্যেকেরই বেকার ভাগনে, ভাইপো, শালীর ছেলে আছে । সে ভাবিল, চাকরি না হয়, বইখানা বাহির করিয়া দেখিবে চলে কিনা। মাসিক পত্রিকায় দ-একটা গল্পও দিল, একটা গল্পের বেশ নাম হইল, কিন্তু টাকা কেহ দিল না। হঠাৎ তাহার মনে হইল -অপণার গহনাগুলি বশরবাড়িতে আছে, সেগুলি সেখান হইতে এই সাত-আট বৎসর সে আনে নাই। সেগুলি বেচিয়া তো বই বাহির করার খরচ যোগাড় হইতে পারে । এই সহজ উপায়টা কেন এতদিন মাথায় আসে নাই ? সে লীলার কাছে আরও কয়েকবার গেল, কিন্তু কথাটা প্রকাশ করিল না। উপন্যাসের খাতাখানা লইয়া গিয়া পড়িয়া শোনাইল । লীলা খুব উৎসাহ দেয়। একদিন লীলা হিসাব করিতে বসিল বই ছাপাইতে কত লাগিবে । অপর ভাবিল-অন্য কেউ যদি দ্বিত হয়ত নিতুম, কিন্তু লীলা বেচারীর টাকা নেব না। একদিন সে হঠাৎ খবরের কাগজে তাহার সেষ্ট কবিরাজ বন্ধটির ঔষধের দোকানের বিজ্ঞাপন দেখিতে পাইল । সেইদিনই সন্ধ্যার পর সে ঠিকানা খুজিয়া সেখানে গেল, সকিয়া স্ট্রীটের একটা গলিতে দোকান। বন্ধটি বাহিরেই বসিয়া ছিল, দেখিয়া বলিয়া উঠিল—বাঃ তুমি ! তুমি বে'চে আছ দাদা ? অপ: হাসিয়া বলিল—উঃ, কম খাঁজি নি তোমায় । ভাগ্যিস আজ তোমার শিলপাগ্রমের