পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১08 বিভূতি-রচনাবলী দাদামশায়ের সহিত পারতপক্ষে কাজল খাইতে বসিতে চাহে না। বড় ভাত ফেলে, ছড়ায় — গছাইয়া খাইতে জানে না বলিয়া দাদামশায় তাকে খাইতে বসিয়া সহবৎ শিক্ষা দেন। কাজল আলভাতে দিয়া শুকনা ভাত খাইতেছে—দাদামশায় হকিয়া বলিলেন - ডাল দিয়ে মাখো—শধ্যে ভাত খাচ্চো কেন ?–মাথো-মেখে খাও— o তাড়াতাড়ি কম্পিত ও আনাড়ী হাতে ডাল মাখিতে গিয়া থালার কানা ছাড়াইয়া কিছ: ডাল-মাখা ভাত মাটিতে পড়িয়া গেল । দাদামশায় ধমক দিয়া উঠিলেন–পড়েগেল, পড়েগেল —আঃ, ছোঁড়াভাতটা পয্যন্ত যদি গুছিয়েখেতে জানে!—তোলতোল—খটে খটেতোল— কাজল ভয়ে ভয়ে মাটি-মাখা ভাতগুলি থালার পাশ হইতে আবার থালায় তুলিয়া লইল। —বেগন পটোল ফেলছিস কেন ?—ও খাবার জিনিস না ?--সব একসঙ্গে মেখে নে— খানিকটা পরে তাঁহার দটি পড়িল, কাজল উচ্ছেভাজা খায় নাই-- তখন অবল দিয়া খাওয়া হইয়া গিয়াছে—তিনি বলিলেন—উচ্ছেভাজা খাসনি ? - খাও—ও অবলমাখা ভাত ঠেলে রাখো । উচ্ছেভাজা তেতো বলিয়া কাজলের মাথে ভালো লাগে না—সে তাতে হাতও দেয় নাই। দাদামশাষের ভয়ে অবল-মাখা ভাত ঠেলিয়া রাখিয়া তিক্ত উচ্ছেভাজা একটি একটি করিয়া খাইতে হইল—একখানি ফেলিবার জো নাই—দাদামশায়ের সতক দটি । ভাত খাইবে কি কান্নায় কাজলের গলায় ভাতের দলা আটকাইয়া যায়। খাওয়া হইয়া গেলে মেজ মামীমার কাছে গিয়া বলিয়া কহিয়া একটা পান লয়—পান খলিয়া দেখেকি কি মশলা আছে, পরে মিনতির সরে একবার মেজমামীমার কাছে, একবার ছোট মামীমার কাছে বলিয়া বেড়ায়-ইতি একটু কাং, ও মামীমা তোমার পায়ে পড়ি—একটু কাং দাও না— কাঠ অর্থাৎ দারচিনি । মামীমারা ঝাকার দিয়ে বলেন-রোজ রোজ ডালচিনি চাই—ছেলে আবার শৌখিন কত ?--উঃ, তায় আবার জিব দেখা চাই—মুখ রাঙা হ’ল কিনা -- তবে পড়াশনার আগ্রহ তাহার বেশী ছাড়া কম নয় । বিবেক্ষবর মহরীর হাতবাক্সে কেশরঞ্জনের উপহারের দরন গল্পের বই আছে অনেকগুলি । খনী আসামী কেমন করিয়া ধরা পড়িল, সেই সব গল্প। আর পড়িতে ইচ্ছা করে আরব্য উপন্যাস, কি ছবি ! কি গল্প । দাদামশায়ের বিছানার উপর একদিন পড়িয়া ছিল-সে উলটাইয়া দেখিতেছে, টের পাইয়া বিশ্বেশ্ববর মহেন্রী কাড়িয়া লইয়া বলিল, এঃ, আট বছরের ছেলের আবার নবেল পড়া ? এইবার একদিন তোমার দাদামশায় শনতে পেলে দেখো কি করবে । কিন্তু বইখানা কোথায় আছে সে জানে-দোতলায় শোবার ঘরের সেই কাঁঠালকাঠের সিন্দকেটার মধ্যে—একবার যদি চাবিটা পাওয়া যাইত! সারারাত জাগিয়া পড়িয়া ভোরের আগেই তাহা হইলে তুলিয়া রাখে। m এ কয়েকদিন বৈকালে দাদামশায় বসিয়া বসিয়া তামাক খান, আর সে পণ্ডিতমশায়ের কাছে বসিয়া বসিয়া পড়ে। সেই সময় পণ্ডিতমশায়ের পেছনকার অর্থাৎ চণ্ডীমণ্ডপের উত্তরধারের সমস্ত ফাঁকা জায়গাটা অদ্ভুত ঘটনার রঙ্গভূমিতে পরিণত হয়, ঘটনাটাও হয়ত খব পষ্ট নয়, সে ঠিক বঝাইয়া বলিতে তো পারে না । কিন্তু দিদিমার মথে শোনা নানাগল্পের রাজপত্রে ও পালের পত্রেরা নাম-না-জানা নদীর ধারে ঠিক অই সন্ধ্যাবেলাটাতেই পৌঁছায় —কোন রাজপরীকে কপিাইয়া রাজকন্যাদেয় সোনার রথ বৈকালের আকাশপানে উঠিয়া অদশ্য হইয়া যায়—সে অন্যমনক হইয়া দেওয়ালের পাশে ঝু"কিয়া আকাশটার দিকে চাহিয়া থাকে, কেমন যেন দুঃখ হয়—ঠিক সেই সময় সীতানাথ পণ্ডিত বলেন দেখন, দেখন, বড়িয্যেমশায়, আপনার নাতির কাল্ডটা দেখন, শ্লেটে বড়কে লিখতে দিলাম, তা গেল চুলোয়—হী করে তাকিয়ে কি দেখছে দেখন—এমন অমনোযোগী ছেলে যদি— দাদামশায় বলেন–দিন না ধী করে এক থাপড় বসিয়ে গালে-হতভাগা ছেলে