পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত t" $0& কোথাকার-হাড় জালিয়েছে, বাবা করবে না খোঁজ, আমার ঘাড়ে এ বয়সে যত ঝুকি। তবে কাজল যে দলু হইয়া উঠিয়াছে, এ কথা সবাই বলে। একদণ্ড সস্থির নয়, সাদা চঞ্চল, একদণ্ড চুপ করিয়া থাকে না, সব'দা বকিতেছে। পণ্ডিতমশায় বলেন-দেখতো দল কেমন অঙ্ক কষে ? ওর মধ্যে অনেক জিনিস আছে—আর তুই অঙ্কে একেবারে গাধা। —পণ্ডিত পিছন ফিরিলেই কাজল মামাতো-ভাই দলকে আঙুল দিয়া ঠেলিয়া চুপিচুপি বলে, —তো-তোর মধ্যে অনেক জিনিস আছে, কি জিনিস আছে রে, ভাত-ডাল খিখিচুড়ি--- খিচুড়ি ? হি-হি ইল্লি ! খিচুড়ি খাবি, দল ? দাদামশায়ের কাছে আবার নালিশ হয় । তখন দাদামশায় ডাকিয়া শাস্তিস্বরুপ বানান জিজ্ঞাসা করিতে আরম্ভ করেন—বানান কর সষে" । কাজল বানানটা জানে, কিন্তু ভয়জনিত উত্তেজনার দরনে হঠাৎ তাহার তোতলামিটা বেশী করিয়া দেখা দেয়—দ একবার চেণ্টা করিয়াও দন্ত স' কথাটা কিছতেই উচ্চারণ করিতে পারিবে না বুঝিয়া অবশেষে বিপন্নমুখে বলে—তা-তালব্য শয়ে দীঘ্যউকার – ঠাস করিয়া চড় গালে । ফরসা গাল, তখনই দাড়িমের মত রাঙা হইয়া ওঠে, কান পৰ্যন্তি রাঙা হইয়া যায়।” কাজলের ভয় হয় না, একটু নিম্ফল অভিমান হয় –বাঃ রে, বানানটা তো সে জানে, কিন্তু মুখে যে আটকাইয়া যায় তা তার দোষ কিসের ?, কিন্তু মখে অত কথা বলিয়া বঝাইয়া প্রতিবাদ বা আত্মপক্ষ সমর্থন করিবার মত এতটা জ্ঞান তাহার হয় নাই—সবটা মিলিয়া অভিমানের মাতাটাই বাড়াইয়া তোলে। কিন্তু অভিমানটা কাহার উপর সে নিজেও ভাল বোঝে না । ” এই সময়ে কাজলের জীবনে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটিল। সীতানাথ পণ্ডিতমহাশয় একটু-আধটু জ্যোতিষের চচ্চা করিতেন । কাজলের পড়িবার সময় তাহার দাদামশায়ের সঙ্গে সীতানাথ পণ্ডিত সে সম্বন্ধে আলোচনা করিতেন-পাঁজি দেখিয়া ঠিকুজি তৈয়ারী, জন্মের লগ্ন ও যোগ গণনা, আয় কাল নির্ণন ইত্যাদি । আজ বছরখানেক ধরিয়া কাজল প্রায়ই এসব শুনিয়া আসিতেছে- যদিও সেখানে সে কোন কথা বলে না । কাত্তিক মাসের শেষ, শীত তখনও ভাল পড়ে নাই। বাড়ির চারিপাশে অনেক খেজারবাগান, শিউলিরা কাত্তিকের শেষে গাছ কাটিয়াছে। শীতের ঠাণ্ডা সান্ধ্য বাতাসে টাটকা খেজর-রসের গন্ধ মাখানো থাকে। কাজলদের পাড়ায় ব্ৰহ্মঠাকরণে এই সময় কি রোগে পড়িলেন । ব্ৰহ্মঠাকরণের বয়স কত তা নিণয় করা কঠিন—মুড়ি ভাজিয়া বিক্রয় করিতেন, পতি-পত্রে কেহই ছিল না—কাজল অনেকবার মুড়ি কিনিতে গিয়াছে তাঁহার বাড়ি । অত্যন্ত খিটখিটে মেজাজের লোক, বিশেষ করিয়া ছেলেপিলেদের দ,চক্ষ পাড়িয়া দেখিতে পারিতেন না—দর দরে করিতেন, উঠানে গা দিলে পাছে গাছটা ভাঙে, উঠানটা খাড়িয়া ফেলে - এই ছিল তাঁহার ভয় । কাজলকে বাড়ির কাছাকাছি দেখিলে বলিতেন—একটা যেন মগ—মগ একটা -বাড়ি ষা বাপ-কটিটটির খোঁচা মেরে বসবি—ষা বাপ এখান থেকে। ঝালের চারাগালো মাড়াস নে— সেদিন দাপরের পর তাহার মামাতো-বোন অর বলিল-বেক্ষ-ঠাকুমা মর-মর হয়েছে, সবাই দেখতে যাচ্ছে—যাবি কাজল ? ছোট্ট একতলা বাড়ির ঘর, পাড়ার অনেকে দেখিতে আসিয়াছে—মেজেতে বিছানা পাতা, কাজল ও অর দোরের কাছে দাঁড়াইয়া উকি মারিয়া দেখিল । ব্রহ্মঠাকরণকে আর চেনা যায় না, মাখের চেহারা যেমন শীণ তেমনি ভয়ংকর, চক্ষ কোটরগত, তাহার ছোট-মামা