পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SOU বিভূতি-রচনাবলী কাছে বসিয়া আছে, হার কবিরাজ দাওষায় বসিয়া লোকজনের সঙ্গে কি কথা বলিতেছে । বৈকালে দু-তিনবার শোনা গেল ব্রহ্মঠাকরণের রাত্রি কাটে কিনা সন্দেহ । কাজল কিছু বিস্মিত হইল। এমন দোদণ্ডপ্রতাপ ব্রহ্মঠাকরণ, যাঁহাকে গামছা পরিয়া উঠানে গোবরজল ছিটাইতে দেখিয়া সে তখনই ভাবিত – তাহার দাদামশায়ের মত লোক পৰ্য্যন্ত যাঁহাকে মানিয়া চলে --তাহার এ কি দশা হইয়াছে আজ ! এত অসহায়, এত দাবলি তাঁহাকে কিসে করিয়া ফেলিল ? ব্রহ্মঠাকরণে সন্ধ্যার আগে মায়া গেলেন। কাজলের মনে হইল পাড়াময় একটা নিস্তব্ধতা —কেমন একটা অবোধ্য বিভীষিকার ছায়া যেন সারা পাড়াকে অন্ধকারের মত গ্রাস করিতে আসিতেছে- ‘সকলেরই মুখে যেন একটা ভয়ের ভাব । শীতের সন্ধ্যা ঘনাইয়াছে । পাড়ার সকলে ব্রহ্মঠাকরণের সৎকারের ব্যবস্থা করিতে তাঁহার বাড়ির উঠানে সমবেত হইয়াছে । কাজলের দাদামশায়ও গিয়াছেন। কাজল ভয়ে ভয়ে খানিকটা দরে অগ্রসর হইয়। দেখিতে গেল কিন্তু ব্ৰহ্মঠাকরণের বাড়ি পয্যন্ত মাইতে BBB DSBBS BB gBB BBBBB BBt0 mmBB BBB S BBB BBB উঠানটা বা বাড়িটা দেখা যায় না -- কথাবত্তার শব্দও কানে আসে না । বাতাস লাগিয়া বাঁশঝাড়ের কটিতে কঞ্চিতে শব্দ হইতেছে - চারিধার নিজ’ন-কাজলের বকে দরদের করিতেছিল একটা অদ্ভুত ধরনের ভাবে তাহার মন পণ্য হইল - ভয় নয়, একটা বিস্ময়মাখানো রহস্যের ভাব-অন্ধকারে গা লুকাইয়া দু-একটা বাদড় আকাশ দিয়া উড়িয়া চলিয়াছে...অন্যদিন এমন সময়ে বাদড় দেখিলেই কাজল বলিয়া উঠে—বাদড় বাদড় মেথর, যা খাবি তা তে’তর— 畿 আজ উড়নশীল বাদাড়ের দশ্য তাহার মনে কৌতুক না জাগাইয়া সেই অজানা রহস্যের ভাবই যেন ঘনীভূত করিয়া তুলিল !— ব্রহ্মঠাকরণ মারা গেলেন বটে-কিন্তু মৃত্যুকে কাজল এই প্রথম চিনিল । দিদিমা মারা গিয়াছিলেন কাজলের পাঁচবছর বয়সে—তাহাও গভীর রাতে কাজল তখন ঘুমাইয়া ছিল – কিছু দেখে নাই—বোঝেও নাই। এবার মৃত্যুর বিভীষিকা, এই অপৰব রহস্য তাহার শিশুমনকে আচ্ছন্ন করিয়া ফেলিল ৷ একা একা বেড়ায়, তেমন সঙ্গী-সেজড় নাই -আর ঐ সব কথা ভাবে । একদিন তাহার মনে হইল যদি সেও ব্রহ্মঠাকরণের মত মরিয়া যায় ! •••হাত-পায়ে যেন সে বল হারাইয়া ফেলিল, –সত্য, সে-ও হয়তো মারা যাইবে ••• দিনের পর দিন ভয়টা বাড়িতে লাগিল। একলা শ্যইয়া শইয়া কথাটা ভাবে –নদীর বাঁধা ঘাটের পৈঠায় সন্ধ্যার সময় বসিয়া ঐ কথাই মনে ওঠে ।--এই বড়দলের তীরে দিদিমার মত, ব্রহ্মঠাকরণের মত তার দেহও একদিন পড়াইতে— কথাটা ভাবিতেই ভয়ে সৰব"শরীর যেন অবশ হইয়া আসে** কাজল তাহার জন্মের সালটা জানিত ; কিছুদিন আগে তাহার দাদামশায় সীতানাথ পণ্ডিতের কাছে কাজলের ঠিকুজি করাইয়াছিলেন—সে সে-সময় সেখানে ছিল। কিন্তু তারিখটা জানে না--তবে মাঘ মাসের শেষের দিকে, তা জানে । একদিন সে দাপরে চুপি চুপি কাছারিঘরে ঢুকিল । তাকের উপরে রাশীকৃত পরানো পাঁজি সাজানো থাকে । চুপি চুপি সবগলি নামাইয়া ১৩৩০ সালের পঞ্জিখানা বাছিয়া লইয়া মাঘ মাসের শেষের দিকের তারিখগলা দেখিতে লাগিল –কি সে বঝিল সে-ই জানে —তাহার মনে হইল ২৫শে মাঘ বড় খারাপ দিন । ঐ দিন জমিলে আয় কম হয়, খব কম। তাহার প্রাণ উড়িয়া গেল -ঐ দিনটাতেই হয়তো সে জমিয়াছে।--“ঠিক।••• বড়মামীকে বৈকালে জিজ্ঞাসা করিল –আমি জন্মেছি কত তারিখে মামীম ? বড়