পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SSo বিভূতি-রচনাবলী সঙ্গে সঙ্গে কাজলের সব ভয়টা কাটিয়া গেল, একজন অসীম শক্তিধর বজ্রপাণি দেবতা যেন , হঠাৎ বাহুদ্বয় মেলিয়া তাহাকে আশ্রয় ও অভয়দান করিয়াছে—মাভৈঃ । রাত্রে কাজল বলিল --আমি তোমার সঙ্গে যাব বাবা । 参见 অপর অনিচ্ছা ছিল না, কিন্তু কলিকাতায় এখন নিজেরই অচল । সে ভুলাইবার জন্য বলিল— আচ্ছা হবে, হবে । শোন একটা গলপ বলি থোকা । কাজল চুপ করিয়া গল্প শুনিল । বলিল—নিয়ে যাবে তো বাবা ? এখানে সবাই বকে, মারে বাবা! তুমি নিয়ে চল, তোমার কত কাজ করে দেব । অপর হাসিয়া বলে কাজ করে দিবি ? কি কাজ করে দিবি রে খোকা ? তারপর সে ছেলেকে গল্প শোনায়, একবার চাহিয়া দেখে, কখন সে ঘুমাইয়া পড়িয়াছে। খানিক রাত্রি পয্যন্ত সে একখানা বই পড়িল, পরে আলো নিভাইবার পর্বে ছেলেকে ভাল করিয়া শোয়াইতে গেল । ঘুমন্ত অবস্থায় বালককে কি অদ্ভুত ধরণের অবোধ, অসহায়, দবেলি ও পরাধীন মনে হইল অপর ! কি অদ্ভুত ধরণের অসহায় ও পরাধীন! সে ভাবে, এই যে ছেলে, পৃথিবীতে এ তো কোথাও ছিল না, যাচিয়াও তো আসে নাই—অপণা ও সে, দু’জনে যে উহাকে কোন অনন্ত হইতে সন্ট করিয়াছে - তাহার পর সংসারে আনিয়া অবোধ নিপাপ বালককে, একা এভাবে সংসারে ছাড়িয়া দিয়া পালানো কি অপণাই সহ্য করিবে ? কিন্তু এখন কোথায়ই বা লইয়া যায় ? প্রাচীন গ্রীসের এক সমাধির উপরে সেই যে সমৃতিফলকটির কথা সে পড়িয়াছিল ফ্রেডারিক হ্যারিসনের বই-এ — - This child of ten years Philip, his father said here, His great hope, Nikoleles. সে দরে কালের ছোট্ট বালকটির সুন্দর মখে, সন্দের রং, দেব-শিশর মত সুন্দর দশ বৎসরের বালক নিকোটিলিসকে আজ রাত্রে সে যেন নিজনি প্রান্তরে খেলা করিতে দেখিতে পাইতেছে—সোনালী চুল, ডাগর ডাগর চোখ। তাহার স্নেহমতি গ্রীসের সে নিজন প্রান্তরের সমাধিক্ষেত্রের বকে অমর হইয়া আছে । শতশতাব্দী পাবে সেই বিরহী পিতৃহৃদয়ের সঙ্গে সে যেন আজ নিজের নাড়ির যোগ অনুভব করিল। মনে হইল, মানুষ সব কালে, সব অবস্থায় এক, এক । কিংবা “দেবতার মন্দির-দ্বারে আরোগ্যকামী বহন যাত্রী জড়ো হইয়াছে নানা দিক দেশ হইতে “ছোট ছেলেটির গরীব বাবা তাহাকে আনিয়াছে ছেলেটি অসুখে ভোগে, রািগণ, স্বপ্নে দেবতা আসিয়া বলিলেন—যদি তোমার রোগ সারিয়ে দিই, আমায় কি দেবে ইউফেনিস ? উঃ, সত্যি ! অসুখ সারিলে সে বাঁচে 1 ছেলেটি উৎসাহের সরে বলিল -দশটা মাৰেবল আমার আছে, সব কটাই দিয়ে দেব-দেবতা খুশীর সরে বলিলেন —স - ব ক-টা ! বলো কি ?--বেশ বেশ, রোগ সারিয়ে দেব তোমার। বাৎসল্যরসের এমন গভীর অনুভুতি জীবনে তাহার এই প্রথম--- অনেক দিন পরে উপরের ঘরটাতে শুইল । সেই তাহার ফুলশয্যার খাটটাতে। কাজল পাশেই ঘুমাইতেছে -কিন্তু রাত পৰ্য্যন্ত তাহার নিজের ঘমে আসিল না । জানালার বাহিরে চাহিয়া চাহিয়া কি ভাবিতে লাগিল । গত পাঁচ ছয় বৎসর বিদেশে সম্পণে অন্য ধরণের জীবনযাত্রা ও নবতর অনুভুতিরাজির ফলে পুরাতন দিনের অনেক অনুভূতিই অস্পষ্ট হইয়া গিয়াছে—এখানকার তো আরও, কারণ আট নয়"বৎসর এখানকার জীবনের সঙ্গে কোনো প্রত্যক্ষ যোগ নাই । তাই আজ এই চিলে-কোঠার বহু-পরিচিত ঘরটা, এই পালৎকটা, ঐ সপোরি বনের সারি - এসব যেন বপ্ন বলিয়া মনে হইতেছে । ঠিক আবার পরানো দিনের