পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত ՏՏԳ অপর মনে মনে হাসিয়া ভাবে—এই কথা আবার কানে কানে বলা !" রাস্তার মধ্যে ওকে চেনেই বা কে আর শনেছেই বা কে --ছেলেটা বেজায় বোকা । - আর একদিন কাজল লাজকে মুখে বলিল -বাবা একটা কথা বলব ? —কি ? —নাঃ বাবা --বলব না-– — বল না কি ? কাজল সরিয়া আসিয়া চুপি চুপি লাজুক সরে বলিল—তুমি মদ খাও বাবা ? অপু বিস্মিত হইয়া বলিল - মদ ? 'কে বলেছে তোকে ? —সেই যে সেদিন খেলে ? সেই রাস্তার মোড়ে একটা দোকান থেকে ? পান কিনলে আর সেই যে--- অপ প্রথমটা অবাক হইয়া গিয়াছিল-পরে বঝিয়া হো-হো করিয়া হাসিয়া উঠিয়া বলিল,—দর বোকা - সে হলে! লেমনেড -সেই পানের দোকানে তো ? “তোর ঠান্ডা লেগেছিল বলে তোকে দিই নি ’খাওয়াব তোকে একদিন, ও একরকম মিটি শরবৎ। দরে- 願 কাজলের কাছে অনেক ব্যাপার পরিকার হইয়া গেল । কলকাতায় আসিয়া সে দেখিয়া অবাক হইয়া গিয়াছিল যে এখানে মোড়ে মোড়ে মদের দোকান –পান ও মদ একসঙ্গে বিরুয় হয় প্রায় সৰব‘ব । সোডা লেমনেড সে কখনো দেখে নাই ইহার আগে, জানিত না—কি করিয়া সে ধরিয়া লইয়াছে বোতলে ওগুলো মদ, তাই তো সেদিন বাবাকে খাইতে দেখিয়া অবাক হইয়া গিয়াছিল—এত দিন লৎজায় বলে নাই । সেই দিনই আপ তাহকে লেমনেডখাওয়াইয়া তাহার ভ্রম ঘচাইয়া দিল । এই অবস্থায় একদিন সে বিমলেন্দর পত্র পাইল, একবার আলিপুরে লীলার ওখানে পত্রপাঠ আসিতে । লীলার ব্যাপার সুবিধা নয় । তাহারও আর্থিক অবস্থা বড় শোচনীয় । নিজের যাহা কিছু ছিল গিয়াছে, আর কেহ দেয়ও না, বাপের বাড়িতে তাহার নাম করিবার পযf্যন্ত উপায় নাই। ইদানীং তাহার মা কাশী হইতে তাহাকে টাকা পাঠাইতেন । বিমলেন্দনিজের খরচ হইতে বাঁচাইয়া কিছু টাকা দিদির হাতে দিয়া যাইত। তাহার উপর ম:শকিল এই যে লীলা বড়মানুষের মেয়ে, কািট করা অভ্যাস নাই, হাত ছোট কী তে জানে না। এই রকম কিছুদিন গেল। লীলা যেন দিন দিন কেমন হইয়া যাইতেছিল। অমন হাস্যমুখী লীলা, তাহার মন্খে হাসি নাই, মনমরা বিষন্ন ভাব । শরীরও যেন দিন দিন শকাইয়া যাইতে থাকে। গত বর্ষাকাল এই ভাবেই কাটে, বিমলেন্দ পাজার সময় পীড়াপীড়ি করিয়া ডাক্তার দেখায় । ডাক্তার বলেন, থাইসিসের সত্রপাত হইয়াছে, সতক হওয়া দরকার । বিমলেন্দ লিখিয়াছে-লীলার খুব জর । ভুল বকিতেছে, কেহই নাই, সে একা ও একটি চাকর সারারাত জাগিয়াছে, আত্মীয়স্বজন কেহ ডাকিলে আসিবে না, কি করা যায় এ অবস্থায় । অপর এখানে আজকাল তত আসতে পারে না, অনেকদিন লীলাকে দেখে নাই । লীলার মথে যেন রাঙা, অস্বাভাবিকভাবে রাঙা ও উজ্জল দেখাইতেছে । বিমলেন্দ শঙ্কমথে বলিল -কাল রঘয়ার মদখে খবর পেয়ে এসে দেখি এই অবস্থা । এখন কি করি বলন তো ? বাড়ির কেউ আসবে না, আমি কাউকে বলতেও যাব না, মাকে একখানা টেলিগ্রাম করে দেব ? অপর বলিল—মা যদি না আসেন ? —কি বলেন? এক্ষনি ছুটে আসবেন—দিদি-অন্ত প্রাণ তাঁর। তিনি যে আজ চার