পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত Sఫిషి —কোথায় ? —যেখানে হোক। তোমার সেই পোতো প্লাতায় - মনে নেই, সেই ষে সমাদের মধ্যে কোন ডুবোজাহাজ উদ্ধার করে বলেছিলে সোনা আনবে ? সেই যে মতুলে পড়ে বলেছিলে ? কথাটা অপর মনে পড়িল । হাসিয়া বলিল, হ'iা সেই—ঠিক । উঃ সে কথা মনে আছে তোমার ! 媳 —আমি বলেছিলাম, কেমন ক'রে যাবে ? তুমি বলেছিলে, জাহাজ কিনে সমদ্রে যাবে। অপ: হাসিল । শৈশবের সাধ-আশার নিফলতা সম্বন্ধে সে কি একটা বলিতে যাইতেছিল, কিন্তু হঠাৎ তাহার মনে পড়িয়া গেল, লীলাও এ ধরণের নানা আশা গোষণ করিত, বিদেশে যাইবে, বড় আটিপট হইবে ইত্যাদি—ওব সামনে আর সে কথা বলার আবশ্যক নাই । কিন্তু লীলাই আবার খানিকটা চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল—যাবে না ? যাও যাও— পরে হি-হি করিয়া হাসিয়া কেমন একটা অদ্ভুত সরে বলিল সমুদ্র থেকে সোনা আনবে তো তোমরাই –পোতো প্লাতা থেকে, না ? “দ্যাখো, এখনও ঠিক মনে ক'রে রেখেছি— রাখি নি ? হি-হি—একটু চা খাবে ? - লীলার মাখের শীর্ণ হাসি ও তাহার বাঁধনীহারা উদভ্ৰভু আলগা ধরণের কথাবাত্তা অপর বকে তীক্ষন তীরের মত বিধিল । সঙ্গে সঙ্গে বঝিল এত ভালবাসে নাই সে লীলাকে আর কোনো দিন আজ যত বাসিয়াছে । —দপুর বেলা চা খাব কি ? সেজন্য ব্যস্ত হয়ো না লীলা । লীলা বলিল—তোমার মুখে সেই পুরনো গানটা শুনি নি অনেকদিন - সেই “আমি চঞ্চল হে’—গাও তো ? মেঘলা দিনের দপুর । বাহিরের দিকে একটা সাহেব-বাড়ির কক্ষপাউণ্ডে গাছের ডালে অনেকগুলি পাখি কলরব করিতেছে। অপর গান আরম্ভ করিল, লীলা জানালার ধারেই বসিয়া বাহিরের দিকে মুখ রাখিয়া গানটা শুনিতে লাগিল । লীলার মনে আনন্দ দিবার জন্য অপর গানটা দু-তিনবার ফিরাইয়া ফিরাইয়া গাহিল । গান শেষ হইয়া গেল, তব লীলা জানালার বাহিরেই চাহিয়া আছে, অন্যমনস্কভাবে যেন কি জিনিস লক্ষ্য করিতেছে । খানিকক্ষণ কাটিয়া গেল । দুজনেই চুপ করিয়া ছিল । হঠাৎ লীলা বলিল-- একটা কথার উত্তর দেবে ? ' লীলার গলার স্বরে অপর বিস্মিত হইল । বলিল—কি কথা ?... —আচ্ছা, বেচে লাভ কি ? • অপর এ প্রশ্নের জন্য প্রস্তুত ছিল না—বলিল-এ কথার কি-এ কথা কেন ? —বল না ?--- — না লীলা । এ ধরণের কথাবাত্তা কেন ? এর দরকার নেই। —আচ্ছা, একটা সত্যি কথা বলবে ? -- —কি বল ?--- –আচ্ছা, আমাকে লোকে কি ভাবে ? * সেই লীলা । তাহার মখে এ রকম দাব’ল ধরণের কথাবাত্তা, সে কি কখনও স্বপ্নেও ভাবিয়াছিল । অপর এক মহত্তে সব বঝিল—অভিমানিনী তেজস্বিনী লীলা আর সব সহ্য করিতে পারে, লোকের ঘণা তাহার অসহ্য । গত কয়েক বৎসরে ঠিক তাহাই জটিয়াছে তাহার কপালে। এতদিন সেটা বোঝে নাই—সম্প্রতি বুঝিয়াছে—জীবনের উপর টান হারাইতে বসিয়াছে ।