পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত పిసిరి কাজল ভাবিল, বাবাও তো সারাদিন কিছদ খায় নাই –স্টোভ ধরাইয়া বাবাকে সাব্য তৈরি করিয়া দিবে। কিন্তু সেটাভ সে ধরাইতে জানে না, কি করে এখন ? সেটাভটা ঘরের মেঝেতে লইয়া দেখিল তেল নাই। আবার পরমানন্দের দোকানে গেল। পরমানন্দকে সব কথা খলিয়া বলিল। পাশেই একজন নতুন-পাশকরা হ্যোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের ডিস্পেন্সারী। ডাক্তারটি একেবারে নতুন, একা ডাক্তারখানায় বসিয়া কড়ি-বরগা গণিতেছিলেন, তিনি তাহাদের সঙ্গে বাসায় আসিলেন, অপরকে ডাকিয়া তাহার হাত ও বািক দেখিলেন, কাজলকে ঔষধ লইবার জন্য ডাক্তারখানায় আসিতে বলিলেন । অপু তখন একটু ভাল - সে ব্যস্তসমস্ত হইয়া ক্ষীণসরে বলিল—ও পারবে না, রাত্তিরে এখন থাক, ছেলেমানষে, এখন থাক - এই সবের জন্য বাবার উপর রাগ হয় কাজলের । কোথায় সে ছেলেমানষে, সে বড় হইয়াছে। কোথায় সে না যাইতে পারে, বাবা পাঠাইয়া দেখকে দিকি সে কেমন পারে না ? বিশেষতঃ অপরের সামনে তাহাকে কচি বলিলে, ছেলেমানষে বলিলে, আদর করিলে বাবার উপর তাহার ভীষণ রাগ হয় । বাবার সামনে সেটাভ ধরাইতে গেলে কাজল জানে বাবা বারণ করিবে,—বলিবে—“উহু, কারস নে খোকা, হাত পড়িয়ে ফেলবি । সে সরদ বারান্দাটার এক কোণে সেটাভটা লইয়া গিয়া কয়েকবার চেণ্টা করিয়াও সেটা জালিতে পারিল না । অপু একবার বলিল—কি কচ্ছস ও খোকা, কোথায় গেলি ও খোকা ? আঃ, বাবার জবালায় অস্থির - ঘরে আসিয়া বলিল – বাবা কি খাবে ? মিছরী আর বিস্কুট কিনে আনবো ? অপ বলিল—না না, সে তুই পারবি নে। আমি খাবো না কিছল ৷ লক্ষী বাবা, কোথাও যেও না ঘর ছেড়ে, রাত্তিরে কি কোথাও যায় ? হারিয়ে যাবি– 變 হ্যাঁ, সে হারাইয়া যাইবে । ছাড়িয়া দিলে সে সব জায়গায় যাইতে পারে, পথিবীর সম্ববত্র একা যাইতে পারে, বাবার কথা শুনিলে তাহার হাসি পায় । পরদিন সকালে উঠিয়া কাজল প্রথমে ঔষধ আনিল । বাবার জন্য ফুটপাতের দোকান হইতে খেজর ও কমলালেব কিনিল । একটু দরের দধের দোকান হইতে জাল-দেওয়া গরম দ-ধও কিনিয়া আনিল । দধের ঘটি হাতে ছেলে ফিরিলে অপ বলিল—কথা শনবি নে খোকা ? দুধ আনতে গেলি রাস্তা পার হয়ে সেই আমহাস্ট পট্টীটের দোকানে ? এখন গাড়ি ঘোড়ার বড় ভিড়—যেও নুা বাবা-দে বাকী পয়সা । খুচরা পয়সা না থাকায় ছেলেকে সকালে ঔষধের দামের জন্য একটা টাকা দিয়াছিল, কাজল টাকাটা ভাঙাইয়া এগুলি কি’নয়াছে, নিজে মাত্র এক পয়সার বেগনি খাইয়াছিল ( তেলভাজা খাবারের উপর তাহার বেজায় লোভ ), বাকী পয়সা বাবার হাতে ফেরত দিল । অপ-বলিল—একখানা পাউরটি নিয়ে আয়, ওই দধের আমি অতটা তো খাবো না, তুই অন্ধে"কটা রটি দিয়ে থা— -- —না বাবা, এই তো কাছেই হোটেল, আমি ওখানে গিয়ে— —না, না, সেও তো রাস্তা পার হয়ে, আপিসের সময় এখন মোটরের ভিড়, এ-বেলা ওই খাও বাবা, আমি তোমাকে ওবেলা দটো রোধে দেবো। কিন্তু দুপুরের পর অপর আবার খুব জর আসিল । রাত্রের দিকে এত বাড়িল, আর কোনও সংজ্ঞা রহিল না। কাজল দোরে চাবি দিয়া ছটিয়া আবার ডাক্তারের কাছে গেল । ডাক্তার আবার আসিলেন, মাথায় জলপটির ব্যবস্থা দিলেন, ঔষধও দিলেন । জিজ্ঞাসা করিলেন—এখানে আর কেউ থাকে না? তোমরা দুজন মোটে ?---অসুখ যদি বাড়ে, তবে বাড়িতে টেলিগ্রাম ক’রে দিতে হবে । দেশে কে আছে ? —দেশে কেউ নেই। আমার মা তো নেই -- আমি আর বাবা শুধ