পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১২৮ বিভূতি-রচনাবলী একজন বন্ধা একটা পিতলের ঘটিতে গঙ্গাজল ভক্তি করিয়া লইয়া স্নান সারিয়া উঠিতেছেন —চাহিয়া চাহিয়া দেখিয়া সে চিনিল-কলিকাতার সেই জ্যাঠাইমা ! সরেশের মা -“বহুকাল সে আর জ্যাঠাইমাদের বাড়ি যায় নাই,সেই নববষের দিনটার অপমানের পর আর কখনও না। সে আগাইয়া গিয়া পায়ের ধলা লইয়া প্রণাম করির বলিল—চিনতে পারেন জ্যাঠাইমা ? আপনারা কাশীতে আছেন নাকি আজকাল ? -বন্ধা খানিকক্ষণ ফ্যাল ফ্যাল করিয়া চাহিয়া থাকিয়া বলিলেন~নিশ্চিশিদপুরের হরি ঠাকুরপোর ছেলে না ? --এসো, এসো, চিরজীবী হও বাবা—আর বাবা চোখেও ভাল দেখি নে—তার ওপর দেখ এই বয়সে একা বিদেশে পড়ে থাকা—ভারী ঘটিটা কি নিয়ে উঠতে পাপ্লি ? ভাড়াটেদের মেয়ে জলটুকু বয়ে দেয়—তো তার আজ তিনদিন জবর —ও, আপনিই বুঝি একল কাশীবাস—সনীলদাদারা কোথায় ? বন্ধা ভারী ঘটিটা ঘাটের রাণার উপর নামাইয়া বলিলেন—সব কলকাতায়, আমায় দিয়েছে ভেন্ন করে বাবা । ভাল ঘর দেখে বিয়ে দিলম সনীলের, গীপ্তিপাড়ার মুখুয্যে— ওমা, বৌ এসে বাবা সংসারের হ’ল কাল-সে সব বলব এখন বাবা--তিন-এর-এক ব্ৰজেশ্বরের BBYBBBBB BB B BSYKK BBBS BBB KB BBBB BB B BBBB BBS ছিল, পুজোর সময় দু'দিন ছিল । থাকতে পারে না-"তুমি এসো বাবা আমার বাসায় আজ বিকেলে, অবিশ্যি, অবিশ্যি । অপ বলিল - দাঁড়ান জ্যাঠাইমা, চট করে ডুব দিয়ে নি, আপনি ঘটিটা ওখানে রাখনে, পৌঁছে দিচ্ছি । —না বাবা, থাক, আমিই নিয়ে যাচ্ছি, তুমি বললে এই যথেষ্ট হ’ল—বেচে থাকো । তবুও অপু শুনিল না, স্নান সারিয়া ঘটি হাতে জ্যাঠাইমার সঙ্গে তাঁহার বাসায় গেল । ছোট্ট একতলা ধরে থাকেন— পশ্চম দিকের ধরে জ্যাঠাইমা থাকেন, পাশের ঘরে আর একজন প্রৌঢ়া থাকেণ—তাঁহার বাড়ি ঢাকা । অন্য ঘরগুলি একটি বাঙালী গৃহস্থ ভাড়া লইয়াছেন, যাঁদের ছোট মেয়ের কথা জ্যাঠাইমা বলিতেছিলেন । তিনি বলিলেন- সুনীল আমার তেমন ছেলে না । ঐ যে হাড়হাবাতে ছোটলোকের ঘরের মেয়ে এনেছিলাম, সংসারটা সন্ধ উচ্ছন্ন দিলে । কি থেকে শ.রম হ'ল শোন ও বছর শেষ মাসে নবান্ন করেছি, ঠাকুরঘরের বারকোশে নবান্ন মেখে ঠাকুরদের নিবেদন করে রেখে দিইছি। দই নাতিকে ডাকছি, ভাবলাম ওদের একটু একটু নবান্ন মুখে দি । বেটা এমন বদমাধেস, ছেলেদের আমার ধরে আসতে দিলে না শিখিয়ে দিয়েছে, ও-ঘরে যাস নি, নবান্নর চাল খেলে নাকি ওদের পেট কামড়াবে । তাই আমি বললাম, বলি হ্যাঁ গা বেীমা, আমি কি ওদের নতুন চলি থাইয়ে, মেরে ফেলবার মতলব করছি ? তা শুনিয়ে শুনিয়ে বলছে, সেকেলে লোক ছেলেপিলে মানুষ করার কি বোঝে ? আমার ছেলে আমি যা ভাল বঝেব করব, উনি যেন তার ওপর কথা না কহতে আসেন। এই সব নিয়ে ঝগড়া শর, তারপর দেখি ছেলেও তো বোমার হয়ে কথা বলে । তখন আমি বললাম, আমাকে কাশী পাঠিয়ে দাও, আমি আর তোমার সংসারে থাকব না । বেী রাত্রে কানে কি মস্তর দিয়েছে, ছেলে দেখি তাতেই রাজী। তাহলেই বোঝ বাবা, এত ক'রে মানুষ ক'রে শেষে কিনা আমার কপালে—জ্যাঠাইমার দুই চোখ দিয়া টপ টপ করিয়া জল পড়িতে লাগিল । অপু জিজ্ঞাসা করিল—কেন, সরেশদা কিছু বললেন না ? --আহা, সে আগেই বলি নি ? সে বশরবাড়ির বিষয় পেয়ে সেখানেই বাস করছে, সেই রাজসাহী না দিনাজপুর। সে একখানা পত্তর দিয়েও খোঁজ করে না, মা আছে কি মলো । তবে আর তোমাকে বলছি কি ? সরেশ কলকাতায় থাকলে কি আর কথা ছিল বাবা ?