পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


సిసి কেদার রাজা’-র গল্পের বিস্তার। শহরে দ্বত্তিটি যখন শিকারী বিড়ালের মত ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছিল তার গোফ দেখে শরৎ অনায়াসে তাকে চিনতে পারত। শরতের যৌবনী অবশ্যই এরকম বহু শিকারী বিড়ালকে আকৃষ্ট করেছে । সুতরাং শরৎ তাদের চেনে এবং তাদের হাত থেকে আত্মরক্ষার কৌশলও জানে। প্রভাসকে যে শরৎ চিনতে পারে নি তাতেই মনে হয়, শরৎ চিনে না-চেনার ভান করেছে কিবা লেখক ইচ্ছে করে তাকে চিনতে দেন নি, গল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে। গড়শিবপরে ইতিহাসের শর্মশানে নিঃসঙ্গ নিঃসহায় শরৎ প্রাকৃতঅতিপ্রাকৃতকে ভয় করে নি। প্রভাস গিরীনের কবল থেকে কৌশলে সে নিজেকে মুক্ত করেছে। মন্ত হওয়ার পর বন্ধি এবং তেজস্বিতায় সে দেবী চৌধরাণীর সমতুল্য। এরকম বধিমতী তেজস্বিনী যাবতীকে দটি নেংটি ইন্দরে ফাঁদে ফেলতে পারে এ-কথা অবিশ্বাস্য । কেদার রাজা’-র ঘটনা ও চরিত্রে রূপকথার অবাস্তবতা, কিন্তু এর পরিবেশ বাস্তব । কেদার রাজা নামক লোকটিকে প্রথম দিকে চলাফেরা করতে দেখা যায়, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই ব্যক্তিত্বহীন এই লোকটি কন্যা শরৎসন্দেরীর আড়ালে আত্মগোপন করে। অবশ্য কেদার সম্পকে আমাদের কৌতুহলও তেমন তীব্র নয় । কারণ পাইমাচা’-র সহায়হরি এবং ‘পথের পাঁচালী”-র হরিহর-এর সঙ্গে কেদার রাজার জ্ঞাতি সম্পক । প্রথমদিকে কেদার রাজাকে যেটুকু দেখা গিয়েছিল তাতেই তাকে সম্পণে দেখা হয়েছে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র শরৎসন্দেরী। শরতের জীবনের বিপয়ায় থেকে মুক্তি-ই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় ঘটনা । সে বিচারে উপন্যাসের নামকরণ ঠিক হয় নি। সমগ্র বইখানির মধ্যে যে-চরিত্রটিকে মানুষ বলে চেনা যায় সে গোপেশ্বর চাটুজে । ●ሶ একটা পরনো মন্দির দেখে কেদার রাজা'-র প্লট লেখকের মনে এসেছিল। শীতের সন্ধ্যায় চাঁচড়া দশমহাবিদ্যার মন্দির দেখতে দেখতে কি অভূত ভাব যে মনে জাগছিল— চারিধারের ঘন সবুজ বেত-ঝোপ, পরোনো মজা দীঘি—মহলের পর মহল নিজ’ন, সঙ্গীহীন, ধন্সর সাধ্য ছায়ায় শ্রীহীন অথচ গভীর রহস্যময় পাথর-পরীর মত দেখাচ্ছিল। পেছনের ঘাট বাঁধানো প্রকান্ড দীঘিটাই বা কি অদ্ভুত “রাজা রামচন্দ্র খায়ের চাল ধোয়া পুকুরই বা দেখলাম কতকাল পরে। একটা সন্দের প্লট মাথায় এসেচে । এই ভাঙা পরী, বনেদী ঘরের দারিদ্র্য, জীবনের দুঃখ কষ্ট, Back ground-এ সব সময়ই পরাতন দিনের আড়ম্বর ও ঐশ্বয"—সহস্র tradition—এই সব নিয়ে ' ( "তৃণাকুর", পৃ. ৬১ ) কেদার রাজা”-য় ভগ্ন রাজপ্রাসাদ, দীঘি মন্দির আছে বটে কিন্তু সেগুলি গ্রাম্য থিয়েটারের স্টেজ-সজ্জার মত কৃত্রিম । Grand theme or majestic style—g দটিই বিভুতিভূষণের পক্ষে অনুপযুক্ত । বিভুতিভূষণের লেখনীতে ক্ষুদ্র মহনীয় হয়। সেই কারণে দশমহাবিদ্যা মন্দির দেখতে দেখতে যে-প্লট বিভূতিভূষণের মনে এসেছিল 'কেদার রাজা’-র সঙ্গে তার মিল শুধ বাইরের সাজের । এবং সে সাজও কৃত্রিম সাজ । © | S is যাত্রাবদল এবং ‘উমি্মখের যথাক্রমে ছোটগল্পের সমষ্টি এবং দিনলিপি। সমালোচকেরা অন্য কথা বলতে পারেন, আমার বিশ্বাস ছোটগল্পেই বিভূতিভূষণের স্বকীয়তার ছাপ সংপ্রকট । তাঁর উপন্যাসের সংখ্যা কম ; তথুপি, উপন্যাসের বহৎ পটভূমিকায় নানা ঘটনার সমাবেশে চরিত্রের সক্ষম এবং জটিল ক্লিয়া-প্রতিক্লিয়া সন্টিতে বিভুতিভূষণের কৃতিত্ব নগণ্য । বিভূতিভুষণের রচনায় ছোট ফ্রেমে ছোট ঘটনা, ছোট মাপের চরিত্র, এবং ছোট ছোট সংখ-দঃখের