পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఏ88 বিভূতি-রচনাবলী পবে যে আপিসটাতে কাজ করিত, সেখানে গটি গটি চলিয়াছেন। অপ; জিজ্ঞাসা করিল, রামধনবাব, কতদিন কাজ হ’ল ওদের ওখানে আপনার সবসন্ধ ? রামধনবাব পরনো দিনের মত গম্বিবতসরে বললেন, এই সাঁইত্রিশ বছর যাচ্ছে, কেউ পারবে না বলে দিচ্ছি,—এক কলমে এক সেরেস্তায় । আমার দ্যাখতায় পাঁচ পাঁচটা ম্যানেজার বদল হ’ল—কত এল, কত গেল—আমি ঠিক বজায় আছি । এ শব্ম"ার চাকরি ওখান থেকে কেউ নড়াতে পারছেন না—যিনিই আসন । হাসিয়া বলিলেন—এবার মাইনে বেড়েছে, এই প"য়তাল্লিশ হ’ল । অপর মাথা কেমন ঘরিয়া উঠিল—সাঁইত্রিশ বছর একই অন্ধকার ঘরে একই হাতবাক্সের উপর ভারী থেরো-বাঁধানো রোকড়ের খাতা খুলিয়া কালি ও স্টিলপেনের সাহায্যে শীলেদের সংসারের চালডালের হিসাব লিখিয়া চলা—চারিধারে সেই একই দোকান-পসার, একই পরিচিত গলি, একই সহকমী'র দল, একই কথা আলোচনা—বারোমাস, তিনশোতিরিশদিন । —সে ভাবিতে পারে না—এই বন্ধজল, পণ্ডিকল, পচা পানা পুকুরের মত গতিহীন, প্রাণহীন, ক্ষুদ্র জীবনের কথা ভাবিলেও তাহার গা কেমন করিয়া উঠে । বেচারী রামধনবাব –দরিদ্র, বন্ধ, ওর দোষ নাই, তাও সে জানে। কলিকাতার বহন শিক্ষিতসমাজে, আন্ডায়, ক্ল,বে সে মিশিয়াছে । বৈচিত্র্যহীন, একঘেয়ে জীবন—অথহীন, ছন্দহীন, ঘটনাহীন, দিনগুলি ! শুধু টাকা, টাকা—শ,ধ খাওয়া, পানাসক্তি, ব্রিজখেলা, ধুমপান, একই তুচ্ছ বিষয়ে একঘেয়ে আসার বকুনি—তরণ মনের শক্তিকে নষ্ট করিয়া দেয়, আনন্দকে ধংস করে, দটিকে সৎকীর্ণ করে, শেষে ঘোর কুয়াশা আসিয়া সয্যালোককে রন্ধ করিয়া দেয়—ক্ষুদ্র, পৰিকল, অকিঞ্চিৎকর জীবন কোন রকমে খাত বাহিয়া চলে ! --সে শক্তিহীন নয়—এই পরিণাম হইতে সে নিজকে বাঁচাইবে । তারপর সে রামধনবাবর অনুরোধে ও কতকটা কৌতুহলের বশবত্তী হইয়া শীলেদের বাড়ি গেল । সেই আপিস, ঘরদোর, লোকের দল বজায় আছে । প্রবোধ মনুহ-রী বড়লোক হইবার জন্য কোন লটারীতে প্রতি বৎসর একখানি টিকিট কিনিতেন, বলিতেন—ও পাঁচটা টাকা বাজে খরচের সামিল ধরে রেখেছি দাদা। যদি একবার লেগে যায়, তবে সনদে আসলে সব উঠে আসবে । তাহা আজও আসে নাই, কারণ তিনি আজও দেবোত্তর এস্টেটের হিসাব কষিতেছেন । খুব আদর-অভ্যর্থনা করিল সকলে । মেজবাব কাছে বসাইয়া জিজ্ঞাসাবাদ করিলেন। বেলা এগারোটা বাজে, তিনি এই মাত্র ঘুম হইতে উঠিয়াছেন—বিলিয়াড ঘরের সামনের বারান্দাতে চাকর তাঁহাকে এখনি তৈল মাখাইবে, বড় রুপার গড়গড়িতে রেশমের গলাবন্ধওয়ালা নলে বেহারা তামাক দিয়া গেল । - এ বাড়ির একটি ছেলেকে অপ পাবে দিনকতক পড়াইয়াছিল, তখন সে ছোট ছিল, বেশ সন্দের দেখিতে ছিল—ভারী পবিত্র মুখশ্রী, স্বভাবটিও ছিল ভারী মধর। সে এখন আঠার উনিশ বছরের ছেলে, কাছে আসিয়া পায়ের ধলা লইয়া প্রণাম করিল—অপ দেখিয়া ব্যথিত হইল, সে এই সকলেই অন্ততঃ দশটা পান খাইয়াছে—পান খাইয়া খাইয়া ঠোঁট কালো— হাতে রপোর পানের কোঁটা—পান জন্দৰ্ণ । এবার টেস্ট পরীক্ষায় ফেল মারিয়াছে, খানিকক্ষণ কেবল নানা ফিলে্মর গল্প করিল, বাস্টার কিটনকে মাস্টারমশায়ের কেমন লাগে ?•••চালি" চ্যাপলিন ? নম"া শিয়ারার—ও সে অদ্ভুত । ফিরিবার সময় অপর মনটা বেদনায় পাণ’ হইয়া গেল। বালক, ওর দোষ কি ? এই আবহাওয়ায় খুব বড় প্রতিভাও শুকাইয়া বায়-ও তো অসহায় বালক রামধনবাব বলিলেন, চললেন অপববাব ? নমস্কার। আসবেন মাঝে মাঝে।