পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


अश्वप्नाछठ S&& গলির বাহিরে সেই পচা খড় বিচালি, পচা আপেলের খোলা, শটকি মাছের গন্ধ রান্নিতে অপর মনে হইল সে একটা বড় অন্যায় করিতেছে, কাজলের প্রতি একটা গর্ভর অবিচার করিতেছে। ওরও তো সেই শৈশব। কাজলের এই অমল্য শৈশবের দিনগুলিতে সে তাহাকে এই ইট, কংক্রিট, সিমেন্ট ও বাড'-কোম্পানীর পেটেণ্ট স্টোনে বাঁধানো কারাগারে আবদ্ধ রাখিয়া দিনের পর দিন তাহার কাঁচা, উৎসক, স্বপ্নপ্রবণ শিশমন তুচ্ছ বৈচিত্র্যহীন অনুভুতিতে ভরাইয়া তুলিতেছে—তাহার জীবনে বন-বনানী নাই, নদী-ম-মর নাই, পাখির কলস্বর, মাঠ, জোৎস্না, সঙ্গী-সাথীদের সংখদঃখ—এসব কিছুই নাই, অথচ কাজল অতি সন্দের ভাবপ্রবণ বালক—তাহার পরিচয় সে অনেকবার পাইয়াছে । কাজল দুঃখ জনক, জানিয়া মানুষ হউক। দুঃখ তার শৈশবের গল্পে পড়া সেই সোনা-করা জাদুকর ! ছেড়া-খোঁড়া কাপড়, ঝুলি ঘাড়ে বেড়ায়, এই চাপ-স্বাড়ি, কোণেকাঁদাড়ে ফেরে, কার্যর সঙ্গে কথা কয় না, কেউ পোছে না, সকলে পাগল বলে, দর দরে করে, রাতদিন হাপর জালায়, রাতদিন হাপর জালায় । পেতল থেকে, রাং থেকে, সাঁসে থেকে ও-লোক কিস্ত সেনা করিতে জানে, করিয়াও থাকে । o এই দিনটিতে বসিয়া ভাবিতে ভাবিতে সৰবfপ্রথম এতকাল পরে একটা চিন্তা মনে উদয় হইল । নিশ্চিশিদপুর একবারটি ফিরিলে কেমন হয় ? সেখানে আর কেউ না থাক, শৈশবসঙ্গিনী রাণ দিদি তো আছে। সে যদি বিদেশে চলিয়া যায়, তার আগে খোকাকে তার পিতামহের ভিটাটা দেখাইয়া আনাও তো একটা কত্তব্য ? পরদিনই সে কাশীতে লীলাদিকে প’চিশটা টাকা পাঠাইয়া লিখিল, সে খোকাকে লইয়া একবার নিশ্চিন্দপুর যাইতেছে, খোকাকে পিতামহের গ্রামটা দেখাইয়া আনিবে। পত্রপাঠ যেন লীলাদি তার দেওরকে সঙ্গে লইয়া সোজা নিশ্চিন্দিপুর চলিয়া যায় । চতুৰ্বিবংশ পরিচ্ছেদ ট্রেনে উঠিয়াও যেন অপর বিশ্বাস হইতেছিল না, সে সত্যই নিশ্চিন্দিপুরের মাটিতে আবার পা দিতে পারিবে—নিশ্চিন্দিপুর, সে তো শৈশবের স্বপ্নলোক ! সে তো মছিয়া গিয়াছে, মিলাইয়া গিয়াছে, সে শুধু একটা অনতিপস্ট সুখসমৃতি মাত্র, কখনও ছিল না, নাই-ও । মাঝেরপাড়া স্টেশনে ট্রেন আন্সিল বেলা একটার সময় । খোকা লাফ দিয়া নামিল, কারণ প্লাটফম” খাব নিচু। অনেক পরিবত্তান হইয়াছে স্টেশনটার, প্লাটফমে'র মাঝখানে জাহাজের মাস্তলের মত উচু যে সিগন্যালটা ছেলেবেলায় তাহাকে তাক লাগাইয়া দিয়াছিল সেটা আর এখন নাই । স্টেশনের বাহিরে পথের উপর একটা-বড় জাম গাছ, অপর মনে আছে এটা আগে ছিল না। ওই সেই বড় মাদার গাছটা, যেটার তলায় অনেককাল আগে তাহাদের এদেশ ছাড়িবার দিনটাতে মা খিচুড়ি বুধিয়াছিলেন। গাছের তলায় দ্বখানা মোটর-বাস যাত্রীর প্রত্যাশায় দাঁড়াইয়া, অপরা থাকিতে থাকিতে দুখানা পুরনো ফোড" ট্যাক্সিও আসিয়া জটিল। আজকাল নাকি নবাবগঞ্জ পয্যন্ত বাস ও ট্যাক্সি হইয়াছে, জিজ্ঞাসা করিয়া জানিল— জিনিসটা অপর কেমন যেন ভাল লাগিল না। কাজল নবীন যুগের মানুষ, সাগ্রহে বলিল— মোটর কাটে করে যাব বাবা ? • অপ ছেলেকে জিনিসপত্রসমেত ট্যাক্সিতে উঠাইয়া দিল, বটের ঝুরি দোলানো স্নিগ্ধ ছায়াভরা সেই প্রাচীন দিনের পথটা দিয়া সে নিজে মোটরে চড়িয়া যাইতে পারবে না কখনই । এ দেশের সঙ্গে পেট্রোল গ্যাসের গন্ধ কি খাপ খায় ? বি. র. ৩-১০