পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ՖtԵի বিভূতি-রচনাবলী জন্য, সে-সব কথা পরে লিখব। খোকাকেও এনেছি। সে তোমায় বড় মনে রেখেছে, তুমি ওর মাথায় জল দিয়ে বাতাস করে জর সারিয়েছিলে সে-কথা ও এখনও ভোলে নি । দেখ প্রণব, আজকাল আমার মনে হয়,—অনুভুতি, আশা, কল্পনা, স্বপ্ন—এসবই জীবন ! এবার এখানে এসে জীবনটাকে নতুন চোখে দেখতে পাই, এমন সবিধে ও অবকাশ আর কোথাও হয় নি—এক নাগপুর ছাড়া ! কত আনন্দের দিনের যাওয়া-আসা হ’ল জীবনে । যেদিনটিতে ছেলেবেলায় বাবার সঙ্গে প্রথম কুঠির মাঠ দেখতে যাই সরস্বতী পজোর বিকেলে—যেদিন আমি ও দিদি রেলরাস্তা দেখতে ছুটে যাই—যেদিন বিয়ের আগের রাত্রে তোমার মামার বাড়ির ছাদটিতে বসে ছিলম সন্ধ্যায়,—জন্মাষ্টমীর তিমিরভরা বষণসিক্ত রাত জেগে কাটিয়েছিলাম আমি ও অপণা মনসাপোতার খড়ের ঘরে, জীবনের পথে এরাই তো আনন্দের অক্ষয় পাথেয় যে আনন্দ অথেরি উপর নিভর করে না, ঐখবয্যের ওপর নিভীর করে না, মান-সন্মান বা সাফল্যের উপরও নিভর করে না, যা সয্যের কিরণের মত অকুপণ, অপক্ষপাতী, উদার—ধনী-দরিদ্র বিচার করে না, উপকরণের স্বলপতা বা বাহুল্যের উপর নিভ’র করে না । বড়-লোকের মেয়েরা নতুন মোটর কিনে যে আনন্দ পায়, মা অবিকল সেই আনন্দই পেতেন যদি নেমন্তন থেকে আমি ভাল ছাঁদা বেধে আনতে পারতুম, আমার দিদি সেই আনন্দই পেত যদি রনঝোপে কোথাও পাকা ফলে ভরা মাকাললতা কি বৈচিগাছের সম্প্রধান পেত । জীবনে সর্বপ্রথম ষেবার একা বিদেশে গেলাম পিসিমার বাড়ি সিদ্ধেশ্বরী কালীর পজা দিতে, বছর নয়েক বয়স তখন—হাজার বছর যদি বাঁচি, কে ভুলে যাবে সেদিনের সে আনন্দ ও অনভূতির কথা ? বহন পয়সা খরচ করে মের পয্যটকেরা তুষারবষী' শীতের রাত্রে, উত্তরহিমকটিবন্ধের বরফ-জমা নদী ও অন্ধকার আরণ্যভূমির নিজনতার মধ্যে, Northern light জলা আকাশের তলায়, অবাস্তব, হলদেরঙেরচাঁদের আলোয়, শুভ্রতুষারাবত পাইন ও সিলভার -প্রসের অরণ্যে নেকড়ে বাঘের ডাক শনে সে আনন্দ পান না—আমি সেদিন খালি পায়ে বালমাটির পথে শিমল সৌদালি বনের ছায়ায় ছায়ায় ভিন-গাঁয়ে যেতে যেতে যে আনন্দ পেয়েছিলাম। আমি তো বড় হয়ে জীবনে কত জায়গায় গেলাম, কিন্ত জীবনের উষার মুক্তির প্রথম আসবাদের সে পাগল-করা আনন্দের সাক্ষাৎ আর পাই নি—তাই রেবাতটের সেই বেতস তরতলেই অবব মন বার বার ছটে ছটে যায় যদি, তাকে দোষ দিতে পারি কৈ ? . আজ একথা বুঝি ভাই যে, সখ ও দুঃখ দুই-ই অপৰব । জীবন খুব বড় একটা রোমান্স—বেচে থেকে একে ভোগ করাই রোমান্স—অতি তুচ্ছতম, হীনতম, একঘেয়ে জীবনও রোমান্স। এ বিশ্বাসটা এতদিন আমার ছিল না—ভাবতুম লাফালাফি ক'রে বেড়ালেই বুঝি জীবন সাথক হয়ে গেল—তা নয়, দেখলাম ভাই । i. এর সখে, দুঃখ, আশা, নিরাশা—আত্মার যে কি বিচিত্র, অমল্য য়্যাডভেঞ্চার—তা বঝে দেখতে ধ্যানদৃস্টির প্রয়োজনীয়তা আছে, তা আসে এই রহস্যমাখা যাত্রাপথের অমানবীয় সৌন্দয্যের ধারণা থেকে ।-- শৈশবের গ্রামখানাতে ফিরে এসে জীবনের এই সৌন্দৰ্য্যর পটাই শধে চোখে দেখছি। এতদিনের জীবনটা এক চমকে দেখবার এমন সংযোগ আর হয় নি কখনও । এত বিচিত্র অনুভুতি, এত পরিবর্তন, এত রস—অনেকক্ষণ শয়ে শয়ে চারিধারের রৌদ্রদীপ্ত মধ্যাহ্নের অপব্ব’ শাস্তির মধ্যে কত কথাই মনে আসে, কত বছর আগেকার সে শৈশব-সরটা যেন কানে বাজে, এক পরনো শান্ত দাপরের রহস্যময় সর“কত দিগন্তব্যাপী মাঠের মধ্যে এই শাস্ত ঘপেরে কত বটের তলা, রাখালের বাঁশির সরের ওপারের যে দেশটি অনস্ত তার কথাই মনে ওঠে। কিছুতেই আমাদের দেশের লোকে বিস্মিত হয় না কেন বলতে পার, প্রণব ? বিস্মিত