পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


సిరిసి বিভূতি-রচনাবলী ওপাড়ার গণেশ মচি একাজে তাঁর সহকৰ্ম্মী ও বন্ধ । গণেশ এসে বললে, বাবাঠাকুর, তৈরী ? —সব ঠিক আছে, কোথায় যাবি, গড়ের পুকুরে না নদীতে ? —চারকাঠি বে*ধেছ কোথায়? কেদার রাজা চোখে-মুখে স্বীয় কমদক্ষতা ও বৃদ্ধিমত্তার আত্মপ্রসাদসচক একখানি হাস্য বিস্তার করে বললেন, ওরে বেটা, আজ ত্রিশ বছর বশে িলগিরি করছি এটুকু আর বঝিনে ? ঘোলার শেষের গাঙ, সেখানে চারকাঠি না বেধে বধিব কি না পাকুরে ?...হ্যা-হ্যা 咬了T一 গণেশ কেদার রাজার ছিপ ও সরঞ্জাম বয়ে নিয়ে চলল নিজের ছিপগুলোর সঙ্গে । গড়ের পকুরের ধারে বেতস ও কণ্টকগুলোর দাভেদ্য জঙ্গল । গত বর্ষার জলে সে জঙ্গল বেড়ে মধ্যেকার অন্ধকার সাঁড়ি পথটাকে প্রায় ঢেকে দিয়েছে—তার মধ্যে দিয়ে দুজনে সন্তপণে চলল, পায়ের পাতায় কটিা না মাড়িয়ে ফেলে । পাড়ের ওপারে যেখানে জঙ্গলটা একটু পাতলা হয়ে এসেচে, সেখানে পৌঁছে গণেশ বললে, আমার কিন্ত পাঠাকুর, জোড়া দেউলের নীচে চারকাঠি পোঁতা, দেখে যাবো না একবারটি ? { কেদার বললেন, উঃ, বাটা বড় চালাক তো ! ওখানে পতেছিস তা আমাকে বলিস নি মোটেই ? চল দেখি— গড়ের দীঘির বা পাড়ে জঙ্গলের মধ্যে থেকে সেকালের ভাঙা প্রকাণ্ড দেউলের চড়া যেখানে মাথা তুলে দড়িয়ে, তারই নীচে দীঘির জলে গণেশ গিয়ে নামল । দীঘটা এত বড় যে এপার থেকে ওপারের গাছপালা যেন মনে হয় ছোট। অনেকগলো দেউল এখানে আছে গড়ের দীঘির গভীর জঙ্গলের মধ্যে—কোনো কোনো মন্দিরের গায়ে কালো স্লেট পাথরের ওপর মন্দির-নিম্মর্ণতার নাম ও সন তারিখ লেখা। একটার ওপর সন লেখা আছে ১০২৪ । এ থেকে দেউলগুলির প্রাচীনত্ব অনুমান করা কঠিন হবে না। গণেশ বললে, ভাল মাছ লেগেছে বাবাঠাকুর, এখানেই বসবা এসো— —আরে না না, চল গাঙে—এথেনে আবার মাছ— —আপনি নেমে দ্যাখোই না— আমি কি মসকরা করছি তোমার সঙ্গে ? দজনে পক্লরের ধারেই মাছ ধরতে বসে গেল। কেদার রাজা যা হকুম করেন, গণেশ মচি তখনই তা তামিল করে, যদিও কাযfতঃ সে কেদার রাজার ইয়ার । —তামাক সাজ গণ্যশা, আর পাতা ভেঙে নিয়ে বসবার জায়গা করে দে দিকি ! গণেশ পাড়ের ওপরকার জঙ্গল থেকে বন-ডুমারের বড় বড় ফচি পাতা ভেঙে এনে বিছিয়ে দিলে। গণেশ নিজে কিন্তু সেখানে বসল না—বললে, আমি এই বাঁধাঘাটের সানে গিয়ে বসি বাবাঠাকুর— g একটু দরে প্রাচীন দিনের প্রকাণ্ড বাঁধাঘাট যেখানে ছিল, এখন সেখানে পাকুরপাড়ে সোপানশ্রেণীর চিহ্ন দেখা যায় মাত্র । ঘাট ব্যবহার.করা চলে না, তবে ভাঙা চাতালে বসে মাছ ধরা চলতে পারে এই পৰ্য্যস্ত । - দীঘির চার ধারে বড় বড় বট, শিমল, ছাতিম গাছের বহনকালের বন ৷ ঘাটের ওপরকার" বন্ধ বট গাছটা দীঘির ঘাটের বাঁধা সোপানশ্রেণীর ফাটলে কাটলে শিকড় চালিয়ে যদি তার কয়েকটা ধাপকে না ধরে রাখতো, তবে প্রাচীন দিনের ঘাটের একখানা ইটও আজ খুজে পাওয়া যেতো কি না সন্দেহ । এর প্রধান কারণ এই সব ধংসস্তপের পোড়ো ইণ্ট দিয়ে এর গ্রামের বহন গহন্থের বাড়ি তৈরি হয়ে আসছে আজ একশো বছর ধরে।