পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S్పa3 বিভূতি-রচনাবলী জোরে। শরৎ এবার পা টিপে টিপে উঠে গিয়ে বাইরের দরজার খিলটা খুলে ফেলল । বাইরে বেশ অন্ধকার, কিন্ত কোথায় কে ? শরতের ভয় ভয় করতে লাগল। তবুও সে খুব সাহসী মেয়ে—এই জঙ্গলের মধ্যে পোড়ো বাড়ির ধবংসস্তপ চারিদিকে, কত কাণড সেখানে ঘটে—একা শরৎ কত রাত্রি পয্যন্ত বাবার ভাত নিয়ে বসে থাকে। ভয় করলে চলে না তার । মাঝে মাঝে দু-একটা ঘটনাও ঘটে । ঘটনা অন্য বেশী কিছ নয়, খটখাট শব্দ, একা রান্নাঘরে যখন শরৎ রাঁধছে—বিশেষ করে সন্ধ্যাবেলা, ৩খন কে কোথায় ফিসফিস করে কি যেন বলে ওঠে—বেশ কি একটা কথা বললে সেটা বোঝা যায়, কিন্তু কথাটা কি, তা বোঝা যায় না । এ-সব গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে শরতের । শরৎ বাপের বাড়িতেই আছে আজীবন, মধ্যে বিয়ের পর বছর-তিনেক বশুরবাড়ি ছিল। শিবনিবাসে ওর শ্বশুরবাড়ি, রাণাঘাটের কাছে । স্বামী মারা যাওয়ার পর আর সেখানে যায় নি, তার কারণ মায়ের মৃত্যুর পর পিতার সংসারে লোক নেই, কে এই বয়সে তাঁকে দটি রোধে দেয়, কে একটু জল দেয়—এই ভাবনা শরতের সব চেয়ে বড় ভাবনা । শরতের খবশুরবাড়ির অবস্হা নিতান্ত খারাপ নয়, অন্ততঃ এখানকার চেয়ে অনেক ভাল—কিন্ত দরিদ্র পিতাকে একা ফেলে রেখে সে সেখানে গিয়ে থাকতে পারে কি করে ? তার বশরে বলে পাঠিয়েছিলেন, এখানে যদি না আস বোমা, তা হলে ভবিষ্যতে তোমার প্রাপ্য অংশ সম্বন্ধে আমি দায়ী থাকব না । শরৎ তার উত্তরে বলে দেয়—আপনার সম্পত্তি আপনি যা খুশি করবেন, আমার কি বলার আছে সে সম্বন্ধে ? বাবাকে ফেলে আমার সবগে গিয়েও সখে হবে না । আজ বছর দুই আগে মা মারা যান, এই দু-বছরের মধ্যে বশর সাত বার লোক পাঠিয়েছিলেন । শরৎ জানে, বাবার অবত্তমানে এ-গাঁয়ে তার চলা-চলতির মহা অসুবিধে । বাবা সামান্য কিছর খাজনা আদায় করেন, দু-তিন বিঘে ধান করেন,—কন্টেসন্টে একরকম চলে। কিন্ত সে একা থাকলে এ দুটি আয়ের পথও বন্ধ । গ্রামে লোক নেই, থাকলেও সবাই নিজেরটা নিয়ে ব্যস্ত, শরতের মুখের দিকে চেয়ে কেউ নিজের কাজের ক্ষতি করে শরতের কাজ করে দেবে—তেমন প্রকৃতির লোক এ গাঁয়ে নেই । f সব জেনেশনেও শরৎ এখানেই রয়ে গিয়েছে। তার অদণ্টে যা ঘটে ঘটুক । সন্ধ্যার পর দেড় ঘণ্টা উত্তীণ হয়ে গিয়েছে । কেদারের সঙ্কোচমিশ্রিত কাশির আওয়াজ এই সময় বাইরের উঠানে পাওয়া গেল । শরৎ বললে, কে ? বাবা ? —হ’্যা—ইয়ে—এই যে আমি— শরৎ ঝাঁঝালো গলায় বলে উঠল—হ’্যা, তুমি যে তা তো বেশ বুঝলাম । এত রাত পৰ্য্যন্ত এই জঙ্গলের মধ্যে একা মেয়েমানুষ বসে আছি, তা তোমার কি একটু কান্ডজ্ঞান নেই—জিজ্ঞেস করি ? কেদার কৈফিয়তের সরে বলতে গেলেন, তাঁর নিজের কোন দোষ নেই—তিনি এক ঘণ্টা আগেই আসতেন। ইউনিয়ন বোডের প্রেসিডেন্ট পঞ্চানন বিশ্বাস তাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল একটা গরতর বিষয়ের পরামশের জন্যে—সেখানেই দেরি হয়ে গেল । শরৎ বললে—তোমার সঙ্গে কিসের পরামশ । ভারি পরামর্শদাতা তুমি কি না ? তোমার সঙ্গে পরামর্শ না করলে তাদের কাজ আটকে গিয়েছে ভারি— কেদার নীরবে হাত পা ধয়ে ঘরে উঠলেন, মেয়ের সঙ্গে বেশি তকাতকি করে ঝগড়া