পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্বাদশ পরিচ্ছেদ কলিকাতার কম কঠোর, কোলাহলমুখর, বাস্তব জগতে প্রত্যাবৰ্ত্তন করিয়া গত কয়েকদিনের জীবনকে নিতান্ত স্বপ্ন বলিয়া মনে হইল অপর । একথা কি সত্য—গত শক্লেবার বৈশাখী পণিমার শেষরাত্রে সে অনেক দরের নদী-তীরবত্তী এক অজানা গ্রামের অজানাগ,হসহবাটির রপেসী মেয়েকে বলিয়াছিল—আমি এ বছর যদি আর না আসি অপণা ?••• প্রথমবার মেয়েটি একটু হাসিয়া মুখ নিচু করিয়াছিল, কথা বলে নাই।. অপ আবার বলিয়াছিল—চুপ করে থাকলে হবে না, তুমি যদি বলো আসব, নৈলে আসব না, সত্যি অপণা। বলো কি বলবে ? মেয়েটি লৎজারত্তমখে বলিয়াছিল—বা রে, আমি কে ? মা রয়েছেন, বাবা রয়েছেন, ওদের–আপনি ভারী— —বেশ আসব না তবে । তোমার নিজের ইচ্ছে না থাকে— —আমি কি সে কথা বলেছি ? عے —তা হলে ? —আপনার ইচ্ছে যদি হয় আসতে, আসবেন—না হয় আসবেন না, আমার কথায় কি হবে ? so ও-কথা ইহার বেশী আর অগ্রসর হয় নাই, অন্য সময় এ ক্ষেত্রে হয়ত অপর অত্যন্ত অভিমান হইত, কিন্তু এ ক্ষেত্রে কৌতুহলটাই তাহার মনের অন্য সব প্রবৃত্তিকে ছাপাইয়া উঠিয়াছে—ভালবাসার চোখে মেয়েটিকে সে এখনও দেখিতে পারে নাই, যেখানে ভালবাসা নাই, সেখানে অভিমানও নাই । 動 সেদিন বৈকালে গোলদীঘির মোড়ে একজন, ফেরিওয়ালা চাঁপাফুল বেচিতেছিল, সে আগ্রহের সহিত গিয়া ফুল কিনিল। ফুলটা আঘ্রাণের সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু মনের মধ্যে একটা বেদনা সেসপেস্ট অনুভব করিল, একটা কিছু পাইয়া হারাইবার বেদনা, একটা শুন্যতা, একটা খালি-খালি ভাব-“মেয়েটির মাথায় চুলের সে গন্ধটাও যেন আবার পাওয়া যায়।••• অন্যমনস্কভাবে গোলদীঘির এক কোণে ঘাসের উপর অনেকক্ষণ একা বসিয়া বসিয়া সেদিনের সেই রাতটি আবার সে মনে আনিবার চেষ্টা করিল । মেয়েটির মুখখানি কি রকম যেন ?“ভারী সদর মুখ“কিন্তু এই কয়দিনের মধ্যেই সব যেন মুছিয়া অস্পষ্ট হইয়া গিয়াছে—মেয়েটির মখ মনে আনিবার ও ধরিয়া রাখিবার যত বেশী চেষ্টা করিতেছে সে, ততই সে-মুখ দ্রুত অস্পষ্ট হইয়া যাইতেছে। শুধ নতপল্লব কৃষ্ণতার-চোখ-দটির ভঙ্গি অলপ অলপ মনে আসে, আর মনে আসে সম্পণে নতুন ধরণের সে স্নিগ্ধ হাসিটুকু। প্রথমে ললাটে লৎজা ঘনাইয়া আসে, ললাট হইতে নামে ডাগর দটি চোখে, পরে কপোলে—তারপরই যেন সারা মুখখানি অলপক্ষণের জন্য অন্ধকার হইয়া আসে ‘‘ভারী সুন্দর দেখায় সে সময় । তারপরই আসে সেই অপব্ব সন্দের হাসিটি, ওরকম হাসি-আর কারও মুখে অপ; কখনও দেখে নাই । কিন্তু মুখের সব আদলটা তো মনে আসে না—সেটা মনে আনিবার জন্য সে ঘাসের উপর শইয়া অনেকক্ষণ ভাবিল, অনেকক্ষণ প্রাণপণে চেষ্টা করিয়া দেখিল—না কিছুতেই মনে আসে না—কিংবা হয়ত আসে অতি অলপক্ষণের জন্য, আবার তখনই অপস্ট হইয়া যায় । অপণা—কেমন নামটি•••? জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি প্রণব কলিকাতায় আসিল । বিবাহের পর এই তাহার সঙ্গে প্রথম দেখা । সে আসিয়া গল্প করিল, অপণার মা বলিয়াছেন—তাঁহার কোন পণ্যে এরকম তরণ দেবতার মত রূপবান জামাই পাইয়াছেন জানেন না—তাহার কেহ কোথাও নাই শনিয়া চোখের জল রাখিতে পারেন নাই ।