পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


डिन শরৎ বাবাকে বললে, তুমি আজও তো কোথাও খাজনা আদায় করতে বেরলে না—কি করে কি হবে আমি জানি নে । ঘরে কাল থেকে চাল বাড়ন্ত, কোনো কাজের কথা বললে, সে তোমার কানে যায় না, আমি বলে-বলে হার মেনে গিয়েছি— কেদার বললেন, তা যাবো তো ভাবছি। তুই না বললেও কি আর আমি বাড়ি বসে থাকতাম ? একটু বেলা হোক— শরৎ গাহকমে’ মন দিলে । কেদার মোটা চাদরখানা গায়ে দিয়ে কিছুক্ষণ পরে বেরবার উদ্যোগ করতেই শরৎ বললে, না খেয়ে বেরিও না বাবা—আহ্নিক করে একটু জল মুখে দিয়ে যাও— কিছ খেতে অবিশ্যি কেদারের অনিচ্ছা ছিল না, কিন্তু তৎপশ্চাবে যে আনুষঙ্গিক অনুষ্ঠানটির কথা শরৎ উল্লেখ করলে, তাঁর যত আপত্তি সেখানে । এত সকালে তিনি আর ও হাঙ্গামার মধ্যে যেতে রাজী নন । সুতরাং তিনি বললেন, মামি এখন আর থাবো না, এসে বরং—সবাই বেরিয়ে যাবে কিনা এর পরে— 纖 তাঁদের গ্রামের পাশে রাজীবপর চাষাদের গাঁ । এখানে কেদারের তিন-চারটি প্রজা আছে । আজ কয়েক মাস যাবৎ কেদার তাদের কাছে খাজনার তাগাদা করে আসছেন, কিন্ত জোর করে কাউকে কিছু বলতে পারেন না বলে একটি পয়সাও আদায় হয়নি । প্রথমেই কেদার গেলেন একঘর মুসলমান প্রজার বাড়ি । দুখানি মাত্র খড়ের ঘর, উঠোনে ধানের মরাই আছে বটে, কিন্তু বৰ্ত্তমানে তাতে ধান নেই । আরও দিন পনেরো পরে মাঠ থেকে ধান আসবে । মুরগী চরছে ধানের মরাইয়ের তলায় । বছর দুই আগে এই বাড়ির মালিকের মৃত্যু হয়েছিল । ছেলে আর ছেলের বেী ছিল— গত চৈত্র মাসে ছেলেটির সপাঘাতে মৃত্যু ঘটে—এখন শধ্যে আছে বিধবা পত্রেবধ আর একটি মাত্র শিশু পৌত্র । সামান্য জমার জমির ধান আর রবিশস্য থেকে কোনো রকমে সংসার চলে এদের । 顧 কেদার উঠোনে গিয়ে দাঁড়িয়ে হে'কে বললেন, বলি, ও আবদলের মা, কোথায় গেলে ? বাড়িতে কেউ ছিল না সম্ভবতঃ । দু-একবার ডেকে কারো সাড়া না পেয়ে কেদার ধানের মরাইয়ের ছায়ায় একখানা কাঠ পেতে বসে পড়লেন । একটু পরে একটি অল্পবয়সী বেী কলসীকক্ষে উঠানে পা দিতেই কেদারকে দেখে জিব কেটে একহাতে ঘোমটা টেনে ক্ষিপ্রপদে উঠোন পার হয়ে ঘরে উঠল । * একটু পরে বৌটি একখানা পিড়ি নিয়ে এসে কেদারের বসবার জায়গা থেকে হাত দশেক দরে মাটির ওপর রেখে চলে গেল । কেদার সেখানা টেনে এনে তাতে বসলেন। মেয়েটি আরও প্রায় কুড়ি মিনিট পরে ঘোমটা দিয়ে ঘরের বার হয়ে ছচিতলায় নেমে দাঁড়াল। কোনো কথা বললে না । কেদার বললেন, আর বছরের দরণে এক টাকা পাঁচ আনা আর এ বছরের সমস্ত খাজনা— মোট সাড়ে চার টাকা তোমার কাছে বাকি, টাকাটা আজ দিয়ে দাও—বঝেলে ? মেয়েটি নমসরে বললে, বাপজী— কেদার চমকে উঠলেন। কখনো বৌটি তাঁর সঙ্গে কথা বলে নি—তা ছাড়া ওর মাখের ডাকটি তাঁর বড় ভাল লাগল। শরতের চেয়েও বেটির বয়েস কম।