পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা Slyరి বন্ধ বললে, কতদর মশাই গড়শিবপর ? —এই বেশী নয়, ক্লোশখানেক হবে। আপনাদের বাড়ি কোথায় ? —বাড়ি অনেকদরে, মেহেরপরের কাছে, নদে জেলায়। —কোথায় যাবেন ? —দেশ বেড়িয়ে বেড়াচ্ছি। যেদিকে যখন ইচ্ছে, তখন সেদিকেই যাব— —আপনারা ? —ব্রাহ্মণ, কাশ্যপ গোত্র, অভিনন্দ ঠাকুরের সন্তান, খড়দ মেল—আমার নাম শ্ৰীগোপেশ্বর চট্টোপাধ্যায়। কেদারের বয়স হয়েছে, সুতরাং তিনি জানেন ব্রাহ্মণদের পরিচয় দেবার এই প্রথাই ছিল আগের কালে । তাঁর ছেলেবেলায় তিনি দেখে এসেছেন বটে। এমন লোককে অতিথিশালায় পাঠিয়ে দেওয়া যায় না, নিজের ঘরে রোধে খাওয়াতে হয় । গ্রামের মধ্যে ঢুকে ব্রাহ্মণ বললে, রাজবাড়ি দেখিয়ে দিয়ে আপনি চলে যান, আমার সঙ্গে অনেকদরে তো এলেন—আর কণ্ট করতে হবে না আপনার— —চলন, আমিও সেই বাড়ি যাব, সেই বাড়ির লোক— —আপনি রাজবাড়ির লোক-বঝি ? —আজ্ঞে হ’্যা—আমি—ইয়ে— গড়ের খাল পেরিয়ে বন্ধ ব্রাহ্মণ বিসময়ের চোখে দ-ধারের জঙ্গলে ভরা ধংসস্তুপগুলির দিকে চেয়ে চেয়ে দেখে বললে—রাজবাড়ি কতদনর ? কেদার কৌতুকের সঙ্গে বললেন, দেখতেই পাবেন, চলন না— দেউড়ির ধবংসস্তাপ পার হয়ে নিজের চালাঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে কেদার বললেন, এই রাজবাড়ি—আসনে— বন্ধ কেদারের মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে চাইলে । কেদার হাসিমুখে বললেন, আমিই রাজবাড়ির রাজা—আমারই নাম কেদার রাজা— ইতিমধ্যে শরৎ বার হয়ে বাবাকে কি বলতে এল, সকালে উঠে সে স্নান সেরে নিয়েছে, ভিজে চুলের রাশি পিঠময় ছড়ানো, গায়ের রঙের সগৌর দীপ্তি রোদে দশগণ বেড়েছে, বন্ধ ব্রাহ্মণ অবাক হয়ে এই সন্দরী মেয়েটির দিকে চেয়ে রইল । কেদার বললেন, আমার মেয়ে, ওর নাম শরৎসন্দেরী । প্রণাম করো মা, ব্রাহ্মণ অতিথি— শরৎসন্দেরী বাবাকে আড়ালে ডেকে জিজ্ঞেস করলে, তার পর, নিয়ে তো এলে, এখন উপায় ? ঘরে তো এক দানা চাল নেই। বেলাও হয়েছে, কি করি বলো ? কেদার বললেন, যা হয় করে মা তুমি। আমি কিছ জানি নে—ওবেলা আমি বরং— শরৎসন্দেরী রাগ করে নিজের গালে চড় মারতে লাগল। ফস" গাল রাঙা হয়ে গেল । মেয়ে এরকম প্রায়ই করে থাকে বেশী রাগ হলে—কেদার অপ্রতিভ মুখে বললেন, ও কি করো মা, ছেলেমানষি ! না—ছিঃ—অমন করতে নেই । শরৎ জলভরা চোখে রাগের ও ক্ষোভের সরে বললে, আমার ইচ্ছে করে গলায় দড়ি দিয়ে কি মাথায় ইট ভেঙে মরি, আমার এ যন্ত্রণা আর সহ্যি হয় না বাবা । বেলা দাপরের সময় তুমি এখন নিয়ে এলে ভদ্রলোক অতিথি, নিজেদের নেই খাবার যোগাড়—কি করবো—বলো বঝিয়ে আমায়। নিত্যি তোমার এই কাণ্ড—কত বার না তোমায় বলেছি ? কেদার চুপ করে রইলেন, বোবার শত্র নেই। শরৎ তাঁর সামনে থেকে চলে গেলে তিনি অতিথির সঙ্গে এসে বসে গল্প করতে লাগলেন, কারণ শরৎ যে একটা যা হয় কিছু ব্যবস্থা করে ফেলবেই এ বিষয়ে তাঁর কোনো সন্দেহ ছিল না। শরৎ রাগী তেজী মেয়ে বটে, কিন্ত