পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা సిk}& যাই নি—বেড়িয়ে আসি একবার । এক বছর পথে পথে থাকবো— —লাগছে ভাল এরকম হেটে বেড়ানো ? —আহা, বড় ভাল লাগছে রাজামশায় । নদীর ধার, বটগাছের তলা, মাঠে যবের ক্ষেত, মেয়েদের ক্ষার-কাচা পিড়ির ওপরে, হয়তো কোন পুকুরের পাড়—যা দেখি তাতেই অবাক হয়ে থাকি । বড় ভাল লেগেছে আমার । যেখানে নদে জেলা শেষ হ’ল সেখানে একটা বড় শিমল গাছ আছে রাস্তার ধারে। জেলার শেষ কখনো দেখি নি—হী করে জায়গাটাতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম কতক্ষণ । বেশ রন্দর তখন মাঠে, আকাশে বড় বড় চিল উড়ছে, কেউ কোনদিকে নেই । আমার এক বন্ধ ছিল, মারা গিয়েছে অনেক কাল, নাম ছিল কেশব —সেও দেশ দেখতে ভালবাসতো বড় । তার কথা মনে পড়লো— কেদার বিস্ময়ে ও কৌতুহলের সঙ্গে বন্ধের গল্প শনছিলেন । তিনিও বেশীদার কোথাও যান নি, অবস্হার জন্যেও বটে—তাছাড়া সংসার ফেলে নড়তে পারেন না । তাঁর বড় ইচ্ছে হ’ল মনে, নদে জেলা যেখানে শেষ হয়েছে, সেই শিমল গাছের তলাটাতে গিয়ে একবার দাঁড়ান। কখনও তিনি দেখেন নি জেলা কি করে শেষ হয়। বন্ধের বণনা শুনে মনে মনে অনেক দনরের সেই অদেখা শিমল গাছের তলায় চলে গিয়েছে তাঁর মন । জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা গোপেশ্বরবাব, সেই যেখানে শিমল্ল গাছ, তার এপারে ওপারে তো দই জেলা ? একহাত তফাতেই নদীয়া, এধারে আবার যশোর। ধরন আমার যদি একখানা বেগনের ক্ষেত থাকে সেখানে, একটা বেগন গাছ থাকবে নদে জেলায়, আর দহাত তফাতের বেগুন গাছটা হবে যশোর জেলায় ! ভারি মজা তো ? সেখানে এমন জমি আছে ? বন্ধ হেসে বললে, কেন থাকবে না ? ওদিকের জমি হবে কেন্টনগর সদরের তৌজিভুক্ত, আর এদিকের জমি হবে যশোর বনগাঁ মহকুমায়— —বাঃ বাঃ চমৎকার ! কেদারের মুখচোখ উজ্জল হয়ে উঠলো বিস্ময়ে ও কৌতুহলে। তাঁর ইচ্ছে হ’ল জায়গাটা এখান থেকে কতদর হবে জিজ্ঞেস করে নেন । কিন্তু পরক্ষণে মনে পড়লো বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাবার ষো নেই তাঁর, শরৎকে একা এই বনের মধ্যে রেখে একদিনও তাঁর নড়বার উপায় আছে কোথাও ? ছেলেমানুষ শরৎ••• জেলার সীমা দেখা তাঁর ভাগ্যে নেই।” সন্ধ্যার সময় বন্ধকে নিয়ে কেদার ছিবাস মদির দোকানে গিয়ে হাজির হলেন। রাত দশটা পৰ্য্যন্ত সেখানে পরোদমে গান-বাজনা চললো। সকলেই বন্ধের হাতে তবলা বাজানোর প্রশংসা করলে। খুব দ্রত এবং খুব মিঠে হাত। সেই আন্ডাতেই আবার এসে জটলো জগন্নাথ চাটুজে । কোন দিন আসে না, আজ কি ভেবে এসে পড়েছে কে জানে। জগন্নাথ চাটুজে মন দিয়ে খানিকক্ষণ গোপেশ্বরের বাজনা শনে কেদারের কানে কানে বললে, ওহে কেদার রাজা, এ ভদ্রলোকটি বেশ গুণী দেখছি। একে জোটালে কোথা থেকে হে ? e কেদার পরিচয় দিলেন । জগন্নাথ শমনে থব খুশী । তাঁর ইচ্ছে কেদারের বাড়িতে এসে লোকটির সঙ্গে কাল সকালে আরও আলাপ জমান। কেদার বললেন, তা বেশ তো দাদা, আসন না সকালে— বাড়ি ফিরতে রাত এগারোটা হয়ে গেল। রায়ের আহারের ব্যবস্হা শরৎ ভালই করেছে। মেয়ের ওপর ভার দিয়ে কেদার নিশ্চিস্ত থাকেন কি সাধে ? কোথা থেকে সে কি করে, কেদার কোনদিন খবর রাখেন নি । সে রাগ করকে, ঝাল কর্ক, সংসারের কাজকর্ম সব ঠিকমত করে যাবে, সে বিষয়ে তার তলটি ধরবার উপায় নেই। ঠিক ওর মায়ের মত ।