পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা ఏbసి —এমনি বলছি—থাকো না বাড়িতে । সকাল সকাল থেয়ে নাও—রান্না হয়ে গেল, একটু চা করে দেবো নাকি ? কেদার চা খেতে তেমন অভ্যস্ত নন, মেয়েও এত আদর করে তাঁকে চা খেতে বলে না কোনোদিন । ইতস্ততঃ করে বললেন, তা কর না হয়—খাওয়া যাক । তুইও খা একটু— —আজ একটা গলপ করো না বসে আমার কাছে ? করবে ? ভাল কথা, সন্ধ্যে-আহ্নিকটা সেরে নাও দিকি ? জায়গা করে দিই । মেয়ে মুশকিলে ফেললে দেখা যাচ্ছে । কেদার একটু বিব্রত হয়ে পড়লেন । তিনি আসলে এসেছিলেন খানিকটা রজন সংগ্রহ করতে বেহালার ছড়ে দেবার জন্যে ! ছিবাস মদির আন্ডায় রজন ছিল, ফুরিয়ে গিয়েছে কিংবা হারিয়ে গিয়েছে। এত রাত্রে এ গ্রামের আর কোথাও ও জিনিস পাওয়া গেলে কেদার কখনই বিপদের মুখে পা দিতেন না। করাই বা যায় কি ? অগত্যা কেদার সম্পধ্যা-আহিকে বসলেন । পাঁচ মিনিটের মধ্যে সাঙ্গও করে ফেললেন । তার পর তিনি ভাবছেন এখন কি ভাবে বাইরে যাওয়া যায়। শরৎ আবার আবদারের সরে বললে—বাবা, বল একটা গলপ— আজ তোমাকে যেতে দেবো না— কেদারের বকের ভিতরটা কেমন করে উঠল । আজ শরৎ যেন ছেলেমানষের মত হয়েছে। কতদিন শরতের গলায় এমন আবদারের সরে তিনি শোনেন নি । এমনি অন্ধকার রাত্রে তাঁর স্ত্রী লক্ষীমণি বাপের বাড়ি থেকে ফিরে এসেছিল গরুর গাড়ি করে। শরৎ তখন ছ-মাসের শিশী । কেদার চিরদিনই এক রকম বাইরে বাইরে ফেরেন—বাড়িতে কেদারের আপন বন্ধা জ্যাঠাইমা ছিলেন—তিনি কানে অত্যন্ত কম শনতেন। লক্ষীমণি ও তার বাপের বাড়ির গাড়োয়ান অনেক ডাকাডাকি করেও ব্য-ধার ঘমে ভাঙাতে পারে নি। অগত্যা তার ঘরের দাওয়াতেই বসে ছিল কেদারের আগমনের অপেক্ষায় ।••• রাত এগারটার সময় কেদার গানবাজনার আড্ডা থেকে বাড়ি ফিরে দেখেন এই কা"ড । কেদারের মনে আছে, লক্ষীমণি অন্ধকারের মধ্যে তাঁর কোলে ছ-মাসের মেয়েকে তুলে দিয়েই কৌতুকে আমোদে খিলখিল করে হেসে উঠেছিল । —কেমন, বড় যে মেয়েকে ঘেন্না করতে "মেয়ে যেন হয় না, হলে গড়ের পর্কুেরে ডুবিয়ে মারব ?--ইস, মার না দেখি ডুবিয়ে ? সেই নবযৌবনা রুপবতী স্ত্রীর মুখের হাসি আজও মাঝে মাঝে যেন কানে বাজে-“তখন পৃথিবী ছিল তরণ, তিনি ছিলেন তরণ, লক্ষীমণি ছিল তরণী । আর একজন এসেছিল তারপর---কিস্ত থাক, তার কথা কেদার এখন ভাববেন না । সেই মেয়ে শরৎ—সেই ছোট্ট শুিশ ! কি সুখে তাকে রেখেছেন কেদার ? শরৎ চা করে এনে দিলে। . —শ্ধ চা খেও না, দড়িাও কি আছে দেখি । —দটো বড়ি ভেজে কেন দ্যাও না, সে বেশ লাগে আমার— শরৎ একটু আচারনিষ্ঠ মেয়ে, ভাতের শকড়ি কড়াতে সে বড়ি ভেজে এখন চায়ের সঙ্গে দিতে রাজী নয় বাবাকে । বাবা নিতান্ত নাস্তিক, তাঁর না আছে ধৰ্ম্মম’-না আছে কম"বাবার ওসব শেলচ্ছাচার শরৎ পছন্দ করে না আদৌ । —বড়ি আবার এখন কি খাবে, হে'সেলের জিনিস—দুটি মুড়ি মেখে দিই তার চেয়ে । কেদার অগত্যা মুড়ির বাটি নিয়ে বসলেন । না, আজ আর আন্ডায় যাওয়া গেল না। শরৎ তাঁর মনকে বড় অন্যমনস্ক করে দিয়েছে। ভাল রজন নিতে এসেছিলেন তিনি ! —আচ্ছা বাবা, উত্তর দেউলের কথা যে লোক বলে—তুমি কিছ জানো ?