পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

কৈদার রাজা పిసిసి রাজা জয়ী হয়ে ফিরে এসে যখন দেখলেন তাঁর অসতকতার পরিণাম—তিনি আর রাজকম পরিচালনা করেন নি, ভাইয়ের হাতে রাজ্যভার তুলে দিয়ে তিনি নাকি উত্তর দেউলে বারাহী দেবীর বেদীমলে বসে প্রায়োপবেশনে দেহত্যাগ করেন । o এ অঞ্চলে প্রবাদ, উত্তর দেউলে এক বিশালকাশিত পরষকে কখনো কখনো নাকি দেখা গিয়েছে—হাতে তাঁর বেত্ৰদণ্ড, মুখে তৎজ’নী সহাপন করে তিনি চিত্রাপিতের মত উত্তর দেউলের বারদেশে দাঁড়িয়ে । কিন্তু এসব শোনা-কথা মাত্র । কেউ এমন কথা বলতে পারে না যে, সে নিজের চোখে কিছ দেখেছে । অথচ গ্রাম্য লোক ভয় পায়, সন্ধ্যার পর উত্তর দেউলের ওদিকে কেউ বড় একটা যাতায়াত করে না । কেদারও কিছ জানেন না, অপর পাঁচ জনে যা জানে, তিনি তার বেশী কিছ জানেন না, জানবার কোন চেণ্টাও করেন নি। আর কে-ই বা বলবে ? শরৎ বললে, বাবা, এসব কত দিনের কথা ? —তা কি করে বলবো রে পাগলী ? আমি কি দেখেছি ? ' —রাণীর নাম কি ছিল বাবা ? —কি করে বলবো মা ?--ইয়ে তা হলে আমি এখন— - —আচ্ছা বাবা, তিনি আমার সম্পকে কেউ নিশ্চয় হতেন—আমাদেরই বংশের তো— কেদার একটু ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন—এখনও যদি ছিবাস মদির দোকানে গিয়ে পৌছতে পারেন—রাত বেশী হয় নি এখনও । 聽 তিনি অধীর ভাবে বললেন, হ্যা হ’্যা, তাই হবেন বৈকি—তোমার ঠাকুরমা-টাকুরমা হতেন আর কি— শরৎ হেসে বললে, ঠাকুরমা কি বাবা, সে হ’ল কোন যুগের কথা—তোমার মা-ই তো আমার ঠাকুরমা হতেন । কেদারের মন এখন অত কুলজী-নিণয়ের দিকে নেই। তিনি তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন— আচ্ছা, তুমি ততক্ষণ রান্নাটা নামিয়ে রাখো—আমি আসছি চট করে— —এত রাত্তিরে তোমূায় বাবা আর যেতে হবে না। না, থাকো আজ— —কেন, তোর ভয় করছে নাকি মা ? —হ’্যা তাই । থাকো আজকে— কেদার একটু আশ্চয্য হলেন, শরৎ কোনোদিন এমন করে বাধা দেয় না। গল্প-টাপ শনে ভয় পেয়েছে ছেলেমানষে থাক, আজ আর তিনি যাবেন না। রজন আনতে বাড়ি এসে যে ভুল তিনি করে ফেলেছেন, তার আর চারা নেই। শরৎ বললে, বাবা, সেই কলসাঁটার কথা মনে আছে ? —হ’্যা খুব আছে। কলসীটা কোথায় রে ? —রাজলক্ষীদের বাড়িতে চেয়ে নিয়েছিল দেখবার জন্যে । সেখানেই আছে। —নিয়ে এসে রেখে দিও, নিজের জিনিস বাড়িতে রাখাই ভালো । আজ বছর ছ'সাত আগে একটা মাটির কলসী গড়ের খাতের মধ্যে এক জায়গায় পাওয়া যায়—কলসীটার ওপরে নানারকম ছক কাটা, নক্সা অাঁকা—কেদারই কলসীটা প্রথমে দেখতে পান, টাকাকড়ি পোঁতা আছে হয়তো পলবপরীষের—প্রথমটা ভেবেছিলেন। কিন্তু শেষে কলসীটা খড়ে বের করে আধ খচিটাক কড়ি পান তার মধ্যে । গ্রামের হীর ও সাধন কুমোর দেখে বলেছিল—এ পোড়ের কলসী আজকাল আর হয় না,