পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


పిసిరి বিভূতি-রচনাবলী ঝুলছে তালকাঠের আড়া থেকে । বাইরের বাতাসে কি বনফুলের সগেন্ধ । কেদার আহারে বসে অভ্যাসমত এ-তরকারী ও-তরকারীর দোষ খণত বার করতে করতে 'খেতে লাগলেন । কাঁচকলা রান্না বড় শক্ত কথা, বেগনের তরকারীতে অত ঝাল দেওয়া সে কোথা থেকে শিখেছে ইত্যাদি । খেয়ে উঠে তামাক সাজতে গিয়ে কেদার দেখলেন তামাক একদম ফুরিয়ে গিয়েছে । মেয়ে আজকাল অত্যন্ত অমনোযোগী, কাজকমে আর আগের মত মন নেই—যদি থাকতো তবে তামাক ফুরিয়ে যাওয়ার একদিন আগে লক্ষ্য করে নি কেন ? এখন তিনি তামাক কোথায় পান এত রাত্রে ? শরৎ বললে, আচ্ছা বাবা, তোমার তামাক খেতে পেলেই তো হ’ল ? কলকেটা দাও— —কোথায় পাবি তামাক ? —তোমার সে খোঁজে দরকার কি ? দেখি কলকেটা— অসময়ের জন্যে সে প্রতিদিনের তামাক থেকে একটু একটু নিয়ে একটা ঘুলঘুলির মধ্যে লুকিয়ে রাখে । বাবার কাণড তার জানতে বাকী নেই, এই রকম রাতদপেরে তামাক ফুরিয়ে যাবে হঠাৎ ৷ বকুনি খেতে হবে সে-সময় তাকেই । বকুনির চেয়েও তার দুঃখ হয় যখন বাবার কোনো জিনিসের অভাব ঘটে—কোনো কিছর জন্যে তিনি কট পান । শরৎ তামাক সেজে এনে দিলে। কেদার তামাক পেয়েই সন্তুষ্ট, মেয়েকে আর বিশেষ জেরা করলেন না এ নিয়ে । রাত অনেক হয়েছে—আর এখন শয্যা আশ্রয় করলেই তিনি বাঁচেন । শরৎ সারাদিন খাটে, রাত্রে বিছানায় একবার শয়ে পড়লে তার জ্ঞান থাকে না । আর এক ছিলিম তামাক চেয়ে রাখলে হ’ত ওর কাছ থেকে, কিন্তু কেদার ভরসা পেলেন না । গভীর রাত্রে ঘুমের ঘোরে শরতের, মনে হয়, আর সে ভাঙাচোরা গড় নেই, কি সম্বর ‘রাজবাড়ি, পম্মদীঘিতে শ্বেতপদ্ম ফুটে জল আলো করেছে—দেউড়িতে দেউড়িতে পাহারা পড়ছে, ছাদে লাল সাদা নিশান উড়ছে—গড়ের এপারে ওপারে কত বাড়ি, কত অতিথিশালা, কত হাতী-ঘোড়ার আস্তাবল---উত্তর দেউলে প্রকাণ্ড বারাহী মাত্তির পুজো হচ্ছে, ধপধননো-গগগলের সবাসে চারিদিক আমোদ করছে, কাড়া-নাকাড়ার বাদিতে কান পাতা *यां ना । যেন এক রাণী এসে তার শিয়রে দাঁড়িয়েছেন, ও’র সন্দের মুখে প্রসন্ন হাসি, কপালে চওড়া করে সিদর পরা, রাপের দীপ্তিতে ঘর আলো হয়ে উঠেছে--তিনি সস্নেহ সরে যেন বলছেন—খকী, আমার বংশের মেয়ে তুই, বংশের মান বাঁচাবার জন্যে আমি দীঘির জলে ডুবে মরেছিলাম, তুইও বংশের ময্যাদা বজায় রাখিস, পবিত্র রাখিস নিজেকে । ঘামের মধ্যেও শরতের সধবর্ণাঙ্গ যেন শিউরে ওঠে । কেদার পাশের গ্রাম থেকে খাজনা আদায় করে ফিরছেন, এমন সময় ছিবাস মুদি রাস্তায় তাঁকে ডাকলে—চলন আমার দোকানে—দাদাঠাকুর, একটু তামাক খেয়ে যাবেন— রাস্তার ধলোতে কিসের দাগ দেখে কেদার বললে, এ কিসের দাগ হে ছিবাস ? —এ মটোর গাড়ির চাকার দাগ—প্রভাস বাড়ি এসেছে যে মটোরে চড়ে— —বেশ, বেশ । তা গাড়ি তো দেখতে হয় ছিবাস— —কখনো দেখেন নি বুঝি দাদাঠাকুর ? আমি সেবার যোগে গঙ্গাচানে গিয়ে নবদ্বীপে দেখে এইচি— _ —দর, মটোর গাড়ি দেখবো না কেন, সেদিনও তো কেন্টনগরে সদর খাজনা দাখিল করতে গিয়ে চার-পাঁচখানা দেখে এলাম । বড়লোকেরা কেনে, কেন্টনগরে বড়লোকের অভাব আছে নাকি ? তবে আমাদের গাঁয়ে মটোর গাড়ি নতুন কথা কি না—