পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

কেদার রাজা పిషిd —তা হবে না কেন দাদাঠাকুর । আজকাল প্রভাসের বাবার অবস্হা কি ! কলকাতায় দরখানা বাড়ি, কারবার চলছে তোড়ে—রমারম টাকা আসছে । বলে লক্ষী যখন যারে দ্যান, ছাপড় ফুড়ে টাকা আসে-ওদেরই তো এখন দিন—এ কি আর আপনি আমি ? o —তা ভালোই তো । গাঁয়ে সবাই গরীব, দু-একজন যদি বড় হয়, অন্ততঃ গাঁয়ের রাস্তাঘাটগলো তো ভাল হবে । দুদিন মটোরে করে এলেই তখন রাস্তার দিকে নজর পড়বে— —হ’্যা, দুদিন মটোরে এসেই তোমার গায়ের রাস্তা অমনি পাথর দিয়ে বধিয়ে গ্যাংট্যাং রোড করে ফেলছে । তুমিও যেমন পাগল দাদাঠাকুর । ছাড়ান দ্যাও ওসব কথা । প্রভাস যে মোটরখানা এনেছে, সাতকড়ি চৌধুরীদের চণ্ডীমণ্ডপের সামনে সেখানা কাঁঠালতলার ছায়ায় দাঁড় করানো। চৌধুরীদের চণ্ডীমণ্ডপে আট-দশ জন লোকের ভিড় । কেদার সামনের রাস্তায় কালো চকচকে গাড়িখানার পাশে দাঁড়িয়ে ভাল করে জিনিসটা দেখতে লাগলেন । কেমন একটা গরম গন্ধ, কিসের গন্ধ কেদার ঠিক বুঝতে পারেন না । ঝক ঝক করছে পেতলের না কিসের ডান্ডা, হ্যাডেল—আরও কি সব যন্ত্রপাতি । বেশ জিনিস । o এত কাছে দাঁড়িয়ে কেদার কখনও মোটর গাড়ি দেখেন নি। .রাস্তায় যেতে যেতে গাড়িখানার ওধারে আরও দু-একজন পথচলতি চাষাভুষো লোক দাঁড়িয়ে গেল গাড়ি দেখতে ৷. কেদার তাদের দিকে চেয়ে হাসিমুখে বললেন, কালে কালে কত কাণ্ডই দেখা গেল— য়’্যা—কি বলো মোড়লের পো ? তাই না কি, বলো ঠিক করে ? দশ বছর আগে দেখেছিলে কেউ ? 蠟 একজন চাষীলোক স্টিয়ারিংয়ের চাকা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বললে, এখানডাতে চাকা একটা আবার কেন, হ্যাদে ও দাঠিাউর ? কেদার বিজ্ঞভাবে বললেন, ও হ’ল হ্যান্ডোলর চাকা । ওটা ঘোরায় । লোকটির নিকট সব ব্যাপারটা এক মহমত্তে পরিকার হয়ে গেল । সে হাসিমুখে বললে, দেখন দিখি দাঠাউর, বললেন আপনি, তবে আমি বোঝলাম । না বলে দিলে কি আমরা বুঝতি পারি ? সে কি বুঝলে তা অবিশ্যি সে-ই জানে । এই সময় কেদারকে দেখতে পেয়ে কে চণ্ডীমণ্ডপ থেকে ডেকে উঠল—ও কেদার রাজা, ওহে ও কেদার রাজা—শোন শোন, এদিকে এস না একবার— প্রভাসকে ঘিরে গ্রামের অনেকগুলি ভদ্রলোক বসে । জগন্নাথ চাটুজেও আছে ওদের মধ্যে, কেদারকে ডাক দিয়েছে সে-ই । চণডীমণ্ডপের মালিক সাতকড়ি চৌধুরী বললেন, কেদার-দা যে ! আরে এস, এস— বসতে দাও হে—কেদার-দা'কে বসাও-- জগন্নাথ বললে, আরে ভায়া কেদার রাজা, এসে পড়েছ ঠিক সময়ে—তোমার কথাই হচ্ছিল । কেদার বিস্ময়ের সরে বললেন—আমার কথা । তাঁর কথা কোথাও মজলিসে আলোচিত হবার মত গণ তাঁর কি আছে ? কেদার ভেবে পেলেন না। কখনও আলোচিত হয়ও নি । জগন্নাথ বললে, তোমার কথা কেন, সকলেরই কথা । প্রভাস, চিনতে পেরেছ কেদার ভায়াকে ? রাজবাড়ির কেদার-রাজা। এ হ’ল প্রভাস—আমাদের গায়ের রাসা বিশ্বেসের নাতি—