পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা Sసిa একেবারেই। নিজের অনেক জমি ভিন্ন ভিন্ন গ্রামে বেহাতি হয়ে গেল, দেখেও দেখে না, ঐ হয়েছে ওর দোষ । @ একথা বললেন সাতকড়ি চৌধুরী । অনেক দিন আগে তাঁর নিজের জমিজমার দলিলসংক্রান্ত কি একটা জটিল ব্যাপারের ভাল মীমাংসা করে দেন কেদার, সেই থেকে কেদারের বৈষয়িক কাজকমে'র প্রতি সাতকড়ি চৌধুরীর যথেষ্ট শ্রদ্ধা । এই সময়ে চা এল । এখানে আর কেউ চা খায় না বলে বোধ হয় চা এসেছে শুধ প্রভাসের জন্যেই। শুধ চা নয়, খানকতক গরম পরোটা আর একটু আল-চচ্চড়িও এসেছে। সকলেই নানা অনযোগ অনুরোধ করে প্রভাসকে খাওয়াতে লাগল । কেদার চা খাবেন কি না এ কথা কেউ জিজ্ঞেস করলে না, সুতরাং চা পানের ইচ্ছা আপাততঃ কেদারকে দমন করতে হ’ল । প্রভাস চা পান শেষ করে উঠে পড়ল । সকলে গিয়ে তাকে তার মোটরে উঠিয়ে দিলে । সাতকড়ি বললেন, এখন যাবে কোথায় প্রভাস ? —এখন একবার রাণীনগর যাবো কাকা, হারাণ কাপালীর কাছে একখানা তিনশো টাকার হ্যান্ডনেট আছে, তামাদ্রির মুখে দাঁড়িয়েছে, বাবা বলে দিয়েছেন একবার গিয়ে তাগাদা দিতে । © —ওবেলা একবার এসো। গড়ের ইট কেদার-দা দিতে চেয়েছেন, তোমায় দেখিয়ে আনবো । কি বলো জগন্নাথ খড়ো ? তুমি টাকা দেবে, ইটগুলো তুমি দেখে নাও । এই, সব সরে যা গাড়ির কাছ থেকে, তোদের এত ভিড় কেন ? প্রভাসের গাড়ির চারিধারে বহন ছেলেমেয়ে এসে জড়ো হয়েছিল । সকলকে সরিয়ে সাবধান করে দু-চারবার হন দিয়ে প্রভাস গাড়ি ছেড়ে দিলে।-- জগন্নাথ চাটুজে পথের বাঁকে দতবিলীয়মান গাড়িখানার দিকে চেয়ে দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললেন—সব টাকা রে বাপ, টাকা । ওর ঠাকুর-দা এই গায়ের পর্বপাড়ার কামারের দোকান করতো, হোই-ও হোই-ও করে হাতুড়ী পেটাতো, আমরা ছেলেবেলায় দেখেছি। সাতু বাবাজি, রাস বিশ্বেসকে মনে আছে নিশ্চয়ই । সাতকড়ি চৌধুরীর বয়স আসলে চল্লিশের বেশী নয়। তার চেয়ে অন্তত পাঁচশ বছর বেশী বয়সের লোক জগন্নাথ চাটুজ্জে তাঁকে নিজের দলে টানবার চেষ্টা করছে দেখে তিনি ক্ষণমখে বললেন—আমার কি করে মনে থাকবে জগন্নাথ খড়ো, আমি দেখিই নি... কেদার বললেন, তোমার যে কাণ্ড জগন্নাথ-দাদা। ও দেখবে কোথা থেকে ? আমারই ভাল মনে হয় না । জগন্নাথ বললেন—তা সে যাই হোক, মোটের ওপর পয়সা করেছে বটে। ব্যবসা না করলে কি আর বড়লোক হওয়া যায় ? ওই রাসন কামারের ছেলে—আমরা রাসা কামার বলেই জানতাম ছেলেবেলায়—সেই রাসর ছেলে হারণে কলকাতায় গিয়ে ঘোড়ার গাড়ি সারানোর ছোট দোকান খুললে বৌবাজারে । ক্ৰমে দোকানের উন্নতি হতে লাগল-মাথা খলে গেল, তখন পরোনো গাড়ি কিনে তাই সারিয়ে বেচতে লাগল। তার পর দ্যাখো আজকাল ওদের অবস্থা। কলকাতায় চারখানা বাড়ি। সাতকড়ি চৌধুরী বললেন, আজকাল প্রভাসই কত্তা। ও-ই বলছিল ওর বাবা বাতে পঙ্গ, উঠে হেটে বেড়াতে পারে না। প্রভাসই দেখাশুনো করে। একজন কে বললে—তবে প্রভাস নাকি বাপের পয়সা বিস্তর উড়িয়েছে । জগন্নাথ চাটুজে বললেন—তা ওড়াবে না কেন ? হারাণ বিবেস কম টাকা করে নি তো ? ছেলে যদি না ওড়াবে তবে ওড়াবে কে বলো না ? ঘোর বওয়াটে আর মাতাল—