পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২০২ বিভূতি-রচনাবলী বনের মধ্যে একটু যেন ভিজে ভিজে এখনও গাছপালা—বেলা বেশী হয়েছে বটে, কিন্ত: ঘন ছাতিম-বনের আবরণ ভেদ করে সযf্যকিরণ এখনও বনের তলায় পড়ে নি। কি একটা বনফুলের সমিন্ট গন্ধ ঠাণডা বাতাসে । প্রভাস সমস্ত পথ ঘোর অন্যমনস্ক ভাবে চলে এল । সে আজ যেন কেমন হয়ে গিয়েছে । গড়বাড়ি থেকে বার হয়ে গ্রামে ঢুকবার মুখে সে কেদারকে বললে, আপনি বাড়ি থাকেন না কোথাও চাকরি করেন ? কেদার বললেন, না বাবাজি, চাকরি-টাকরি কখনো আমাদের বংশে করে নি কেউ । বাড়িই থাকি । —আসন না একবার কলকাতায় ? আমাদের বাড়ি রয়েছে—দয়া করে সেখানে গিয়ে— —আমার কখনো কোথাও যাওয়া হয় না—বাড়ি ফেলে, তাছাড়া মেয়েটা একলা বাড়িতে —ইয়ে হ’্যা। এই সব কারণে যেতে পারি নে কোথাও । আর ধরো গিয়ে আমার বাড়ি একেবারে গায়ের বাইরে । মানুষজন নেই। ফেলে যাই কি করে ? এ কথার প্রভাস বিশেষ কোনো জবাব দিলে না। কেদার আবার বললেন, তুমি এখন ক-দিন থাকবে ? প্রভাস বললে, না আমি কালই যাবো বোধ হয় । কলকাতায় অনেক কাজ রয়েছে পড়ে । পরশন"তারিখের একটা পোস্ট-ডেটেড চেক রয়েছে মোটা টাকার—আমি না গেলে সেখানা ব্যাঙ্কে প্রেজেন্ট করা হবে না । কেদার আদৌ বঝেলেন না জিনিসটা কি। ব্যাক জিনিসটা তিনি জানেন, শুনেছেন বটে—কিন্ত পোস্ট-ডেটেড চেক কথার অর্থ কি, বা সে কি ব্যাপার—এ সব সম্বন্ধে কোনো জ্ঞান নেই তাঁর। তিনি শুধ বিজ্ঞের মত ঘাড় নেড়ে বললেন, ও ! ঠিক ঠিক । ওরা চলে গেল সবাই । কেদার এত বেলায় অন্য কোথাও যাওয়া উচিত না বিবেচনা করে বাড়ির দিকেই ফিরছেন এমন সময় গেয়োহাটির ক্ষেত্র কাপালির সঙ্গে দেখা । সে গড়ের খাল পার হয়ে তাঁর বাড়ির দিক থেকেই আসছে। কেদার বললেন, কি হে ক্ষেত্র, আমার ওখানে গিয়েছিলে নাকি ? —প্রাতপোম দা-ঠাকুর । মোদের গাঁয়ে ওবেলা যাতি হবে একেবারে ভুলে গিয়ে বসে ; আছো ৷ দা-ঠাকুর আমাদের একেবারে বোম ভোলানাথ। মনে নেই আজ আমাদের যাত্তারার দলের আখড়াই ? আপনি গিয়ে বেয়ালা না ধরলি আসর জমবে, না আসরে ঢোলক বাজবে ? চলো দা-ঠাকুর—তোমার বাড়ি গিয়েছিলাম, তা মা-ঠাকরণ বললেন তিনি কোথায় গিয়েছেন বেরিয়ে । * —ভালই তো–তা ক্ষেত্র, তুমিও দটো খেয়ে যাও আমার বাড়ি, চলো না ? বেলা হয়ে গিয়েছে, চলো । ক্ষ্যে কাপালি রাজী হ’ল না। - সে চলে গেল, যাবার সময় কেদারকে তাদের গ্রামে যেতে বলে গেল বার বার করে। কেদার বাড়ি ফিরে দেখলেন শরৎ রান্না সেরে বসে আছে । বললে, বাবা, নেয়ে নাও, ভাত হয়ে গিয়েছে কতক্ষণ । ওরা সব চলে গেল, ইট নিয়েছে ? —হ’্যা । ইট কাল গাড়ি পাঠিয়ে নিয়ে যাবে। —গেয়োহাটির ক্ষেত্র এসেছিল তোমার খোঁজে। দেখা হয়েছে ? —এই তো গেল। ওবেলা ওদের আখড়াই বসবে তাই ডাকতে এসেছিল কিনা ? খেয়ে একটু ঘামিয়ে নেবো–তার পর ষাবো ওদের গাঁয়ে। তেল দাও। ঘামিয়ে উঠে বেলা তিনটের সময় কেদার গেরোহাটি রওনা হবার উদ্যোগ করছেন, এমন