পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা RSసి কে একজন বললে, ও ছিবাস জ্যাঠা—চৌকিদার হকিছে যে বামনপাড়ায়, অনেক রাত হয়েছে তবে ! - দ-এক জন উৎকণ হয়ে শনে বললে, তাই তো, রাতটা বেশী হয়ে গিয়েছে। বাবাঠাকুর, আজ বন্ধ করে দিলে হত না ? আপনি আবার এতটা পথ যাবেন— বিশ কুমোরের ছেলে এ পয্যন্ত গোটা আন্টেক গানের তালিম দিয়ে এবং কেদারের কাছে বিস্তর ধমক খেয়ে বড় ক্লাস্ত হয়ে পড়েছিল—সে করণ দৃষ্টিতে কেদারের দিকে চাইলে । কেদার বললেন, ঘমে আসছে, না ? তোর কিছদ হবে না বাবা । কুমোরের ছেলে, চাক ঘোরাবি, ভাঁড় আর তিজেল হাঁড়ি গড়বি, তোর এ বিড়ম্ববনা কেন বল দিকি বাপ ? সেই সন্দে থেকে তোকে পাখীপড়া করছি, এখনও একটা গানও নিখত করে গলায় আনতে পারলি নে—তোর গলায় নেই সরে তার কোথেকে কি হবে ? বেসরো গলা নিয়ে গান গাওয়া চলে ? আসলে তো একথা ঠিক নয়। বিশ ছেলেটি বেশ সকণ্ঠ গায়ক, সবাই জানে, কেদারও তা ভালই জানেন—কিস্ত তিনি বড় কড়া মাসটার এবং তাঁর কথা বলবার ধরনই এই ৷ ছেলেটির এ রকম তিরস্কার গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে, সুতরাং সে কেদারের কথায় দুঃখিত না হয়ে বললে—দাদাঠাকুর, বাড়িতে মার অসংখ—বাবা সকাল সকাল যেতি বলে দিয়েল— —তা যা যা । আজ তবে থাক এই পযf্যস্ত, কাল সবাইoসকালে সকালে আসা হয় যেন । চল হে ছিবাস, চল হে রিষিকেশ— 酸 নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও কেদার উঠে পড়েলন, হশ না করিয়ে দিলে তিনি আরও কতক্ষণ এখানে থাকতেন কে জানে । কিন্তু মহলা-ঘরের বাইরে পা দিয়ে তিনি একটু অবাক হয়ে বললেন, একি, হ’্যা ছিবাস, জ্যোৎসনা উঠে গিয়েছে যে ! —আজ্ঞে হ’্যা বাবাঠাকুর, তাই তো দেখছি— —তাই তো হে, আজ নবমীনা ? কৃষ্ণপক্ষের নবমী, ও অনেক রাত হয়ে গিয়েছে তা হলে । পথে কিছদরে পয্যন্ত এক সঙ্গে এসে বিভিন্ন পাড়ার দিকে একে একে সবাইবেরিয়ে গেল কেদারকে ফেলে। দু-তিনজন কেদারকে বাড়ি পয্যন্ত এগিয়ে দিতে চাইলে—কিন্ত কেদার সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে একাই বাড়ির দিকে চললেন । গড়ের খাল পার হবার সময় নিশীথ রান্ত্রির জ্যোৎস্নালোকিত বন-ঝোপের দিকে চেয়ে চেয়ে কেদারের বেশ লাগল। কেদারের পিতামহ রাজা বিষ্ণরামের স্বহস্তে রোপিত বোম্বাই আমের গাছে প্রচুর বউল এসেছে এবার—তার ঘন সগেন্ধে মাঝরান্ত্রির জ্যোৎস্নাভরা বাতাস ষেন নেশায় ভরপর, ভারি আনন্দে জীবনের দিনগলোঁ কেটে যাচ্ছে মোটের উপর তাঁর । সকাল থেকে এত রাত পয্যন্ত সময় যে কোথা দিয়ে কেটে যায় তা তিনি বুঝতেই পারেন না। কি চমৎকার দেখাচ্ছে জ্যোৎস্নায় এই গড়বাড়ির জঙ্গল, ভাঙা ইট-পাথরের ঢিবিগুলো ! সবাই বলে নাকি অপদেবতা আছে, তিনি বিশ্বাস করেন না । সব বাজে কথা ! কই এত রাত পয্যন্ত তো তিনি বাইরে থাকেন, একাই আসেন বাড়ি, কখনো কিছল তো দেখেন নি । বাল্যকাল থেকে এই বনে-ঘেরা ভাঙা বাড়িতে মানুষ হয়েছেন, এর প্রত্যেক ইটখানা, প্রত্যেক গাছটি, বনের লতাটি তাঁর প্রিয় ও পরিচিত। তাঁর অস্তিত্বের সঙ্গে এরা জড়ানো, তিনি যে চোখে এদের দেখেন, অন্য লোকে সে চোখ পাবে কোথায় ? কন্ট হয় শরতের জন্যে । ওকে তিনি কোনো সাথে সখী করতে পারলেন না। ছেলেমানষে, ওর জীবনের কোন সাধ পরলো না। সারাদিনের কাজকর্ম ও আমোদ-প্রমোদের ফাঁকে ফাঁকে শরতেরমুখখানা