পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কৈদার রাজা ఫిషిలీ হচ্ছে সবাই শোনো গো । একটা কথা, জ্যাঠামশাইকে যেন বোলো না শরৎদি। —বাবাকে ? ও বাপ রে । এখনি সারা গাঁ পরগনা রটে যাবে তা হলে। পাগল তুই, তা কখনো বলি ? o রাজলক্ষী বিদায় নিয়ে বাড়ি যাবার পথে গড়ের খাল পার হয়ে দেখলে কেদার একটা চুপড়িতে আধ-চুপড়ি বেগন নিয়ে হন হন করে আসছেন। ওকে দেখে বললেন, ও বাড়ি, ওঃ কত সজনে ফুল রে —কোথেকে ? তা বেশ। শরতের সঙ্গে দেখা করে এলি তো ? —হ’্যা জ্যাঠামশায়, শরৎদির সঙ্গে দেখা না করে আসবার জো আছে ? আর না খাইয়ে কখনো ছাড়বে না । —হ’্যাঃ, ভারি তো খাওয়া ! কি খেতে দিলে ? —মুড়ি মাখলে, ও খেলে, আমি খেলাম । – তা যা মা—বেলা হয়ে গেল আবার— রাজলক্ষয়ী দরে থেকে কেদারকে আসতে দেখে মখমলের বাক্সটা কাপড়ের মধ্যে লকিয়ে ফেলেছিল—সে একটু অস্বস্তি বোধ করছিল। কথা শেষ করে কেদারের সামনে থেকে পালিয়ে বাঁচলো সে । কিন্ত কিছু দরে যেতেই সে শুনলে কেদার তাকে পেছন থেকৈ ডাকছেন—ও বড়ি, শনে যা । একটু দাঁড়িয়ে যা— - —কি জ্যাঠামশায় ? –এই বেগন ক'টা আনলাম গেয়োহাটির তারক কাপালীর বাড়ি থেকে। তুই নিয়ে যা দটো । সজনে ফুলের সঙ্গে বেশ হবে এখন— • রাজলক্ষী বিব্রত হয়ে পড়ল ৷ এক হাতে সে বাক্সটা ধরে আছে, অন্য হাতে ফুলে ভক্তি" অচিল । বেগুন নেয় কোন হাতে ? কিন্ত কেদার সদাই অন্যমনস্ক, কোনোদিকে ভাল করে লক্ষ্য করে দেখবার সময় নেই । কোনো রকমে গোটা চারেক বেগন রাজলক্ষীর সামনে নামিয়ে রেখে তিনি চলে যেতে পারলে যেন বাঁচেন এমন ভাব দেখালেন । রাজলক্ষমী ভাবলে—জ্যাঠামশায় বড় ভাল। এ গাঁয়ে ওদের মত মানুষ নেই। শরৎদি কি ভালই বাসে আমায়। এ গা থেকে যদি বিয়ে হয়ে অন্য জায়গায় চলে যাই, শরৎদিকে না দেখে কি করে থাকবো তাই ভাবি ! পাছে বাড়িতে জ্যাঠাইমা টের পায়, এজন্যে রাজলক্ষয়ী বাক্সটা সন্তপণে লকিয়ে বাড়ি ঢুকলো । মাকে ডেকে বললে, এই দ্যাখো মা— রাজলক্ষীর মা বাক্সটা হাতে নিয়ে বললে, বাঃ দেখি, দেখি—কোথায় পেলি রে ? শরৎ দিলে ? চমৎকার জিনিসটা। . আমরা বাপ সেকেলে লোক, কখনো চক্ষেও দেখি নে এসব । শরৎ কোথায় পেলে রে ? রাজলক্ষী বললে, ওকে প্রভাসদা কাল দিয়েছিল। তা ও তো এসব মাখবে না—জানো তো ওকে। তাই আমায় বললে, তুই নিয়ে যা। এ কথা কাউকে বোলো না কিন্তু মা। দু-দিন পরে কেদার একদিন সকালে বললেন, শরৎ মা, আমি আজকে একবার তালপুকুর যাবো খাজনা আদায় করতে, অামার আসতে একদিন দেরি হতে পারে,একটু সাবধানে থেকো । শরৎ বলল, বেশি দেরি কোরো না বাবা, তুমি যেখানে যাও আসবার নামটি করতে চাও না তো ! আমি একলা থাকবো মনে কোরো । কেদার একবার বাড়ির বার হলে ফিরবার কথা ভুলে যান একথা শরৎ ভালভাবেই জানে। মুখে বললেও শরৎ জানে বাবা এখন দিন দু-তিনের মত গা-ঢাকা দিলেন । সেদিন সে