পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२२४ বিভূতি-রচনাবলী রাজলক্ষী খিলখিল করে হেসে উঠে বললে, কিন্তু তোমায় প্রথমটা কেমন ভাবিয়েছিলাম, বলো না ? শরৎ বললে, যাঃ, আমি গোড়া থেকেই জানি। খুড়ীমা এখানে রাত্তিরে থাকতে না দিলে তোকে আলো নিয়ে আসতে দিতেন না । ও রাজলক্ষী“একটা মজা দেখবি ভাই ? বলেই শরৎ চিঠিখানা রাজলক্ষীর হাতে দিয়ে বললে, পড়ে দ্যাখ— রাজলক্ষী পড়ে বললে, এ কোথায় পেলে ? —উত্তর দেউলের সিড়ির ওপর একটা সিগারেটের খোলের মধ্যে ছিল । —আশ্চয", আচ্ছা কে লিখলে বলো তো শরৎদি । —তাই যদি জানবো তা হলে তো একেবারে শ্রান্ধের চাল চড়িয়ে দিই তাদের— —তুমি আগে যাদের কথা বলেছিলে— —তারাই হবে হয়তো । নাও হতে পারে । সিগারেট খাবে কে এ গাঁয়ে ? —কাউকে দেখলে, কি পায়ের শব্দ শনলে ? শরৎ সরে বদলে মাথা ঝাঁকুনি দিয়ে বললে, বাদ দে ও-সব কথা ! বাবা নেই কিনা বাড়িতে, বাবা না থাকলেই ওদের বিধি বাড়ে আমি জানি। যদি দেখতে পেতাম তবে না কথা ছিল ! রাজলক্ষী বললে, আচ্ছা যদি আমি না আসতাম, তবে তুমি ভয় পেতে না শরৎদি, এই সব চিঠি পেয়ে—জ্যাঠামশায় নেই বাড়ি—? —দরে, কি আর ভয় ! আমার ও-সব গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে— —একলাটি তো থাকতে হত ? —থাকিই তো । ভয় করে কি করবো ? চিরদিনই যখন একা -- —তোমার বলিহারি সাহস শরৎদি ! এই অরণ্যি বনের মধ্যে— —ঘরে বটি আছে, দা আছে—এগক দিকি কে এগবে শরৎ বামনীর সামনে—ঠান্ডা করে ছেড়ে দেবো না ? কি খাবি বল রাত্রে—ও কথা যাক । ভাত না রুটি ? —যা হয় করো। তুমি তো ভাত খাবে না, তবে রাটিই করো—দুজনে মিলে তাই খাবো । বাইরে বসে আটাটা মেখে ফেলি— —তুমি যাও শরৎদি, আমি মাখছি আটা— দ’জনে গল্পগুজবে রাঁধতে খেতে অনেক রাত করে ফেললে । তার পর দোর বন্ধ করে দ’জনে যখন শয়ে পড়ল, তখন খুব সুন্দর জ্যোৎসনা উঠেছে। বেশী রাত্রে শরৎ ঘমে ভেঙে উঠে রাজলক্ষীর গা ঠেলে চুপি চুপি বললে, ও রাজলক্ষী, ওঠ—বাইরে কার পায়ের শহর শোনা যাচ্ছে ষেন – রাজলক্ষী ঘামে জড়িত কণ্ঠে ভয়ের সরে বললে, কোথায় শরৎদি ? —চুপ, চুপ, ওই শোন না— রাজলক্ষী বিছানায় উঠে বসে উৎকণ' হয়ে শোনবার চেষ্টা করেও কিছয় শনতে পেলে না । শরং উঠে আলো জনাললে। তার ভয় ভয় করছিল । তব সে সাহস করে আলো হাতে দোর খলে বাইরে যাবার চেণ্টা করাতে রাজলক্ষী ছটে এসে ওর হাত ধরে বললে, খবরদার বাইরে যেও না শরৎদি, কার মনে কি আছে বলা যায় না । তোমার দটি পায়ে পড়ি— শরৎ কিন্ত ওর কথা না শুনেই দোর খালে দাওয়ায় গিয়ে দাঁড়াল । ফুট ফুট করছে জ্যোৎস্না, কেউ কোথাও নেই। তবুও তার শপস্ট মনে হল খানিক আগে কেউ এখানে ঘরে