পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা ఫిసిసి বেড়াচ্ছিল, তার কোন ভুল নেই। হঠাৎ তার মনে পড়ল, আজ রয়োদশী তিথি । তাদের এখানে প্রবাদ অাছে, বারাহী দেবীর পাষাণ-মাত্তি রয়োদশী থেকে পণিমা তির্থি পৰ্য্যন্ত তিন দিন, গভীর রাত্রিকালে নিজের জায়গা থেকে নড়ে চড়ে বেড়ায় গড়বাড়ির নিজ'ন বনজঙ্গলের মধ্যে । সেই সময় যে সামনে পড়ে, তার বড় অশুভ দিন । শরতের সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল । যদি সত্যিই তাই হয় ? যদি সত্যিই বারাহী দেবীর বনভূক্ষ্য ভগ্ন পাষাণ-বিগ্রহ রক্তের পিপাসায় তাদেরই ঘরের আনাচে কানাচে শিকার খুজে বেড়াতে বার হয়ে থাকে ? শরৎ ভয় পেলেও মুখে কিছু বললে না । ধীরভাবে ঘরে ঢুকে দোর বন্ধ করে দিলে । রাজলক্ষী কলসী থেকে জল গড়িয়ে খাচ্ছিল, বললে, কিছু দেখলে শরৎদি ? —না কিছু না । তুই শয়ে পড় । পরদিন বৈকালের দিকে প্রভাস ও আর একটি তরণ সাদশ’ন যুবক হঠাৎ এসে হাজির । রাজলক্ষী তখন সবে কি একটা ঘরের কাজ সেরে দীঘির ঘাটে শরতের কাছে যাবার যোগাড় করছে—এমন সময় ওদের দেখে জড়সড় হয়ে উঠল । 變 প্রভাস বললে, খাকী, তুমি কি এ বাড়ির মেয়ে ? না, তোমাকে তো কখনো দেখি নি ? বাড়ির মানুষ সব গেল কোথায় ? রাজলক্ষী সলঙ্গমখে বললে, শরৎদি দীঘির পড়ে। ডেকে আনছি। —হ’্যা, গিয়ে বলো প্রভাস আর অরুণবাব এসেছে । শেষের নামটা উচ্চারিত হতে শুনে রাজলক্ষীর মুখ তার নিজের অজ্ঞাতসারে রাঙা হয়ে উঠল। সে জড়িত পদে কোন রকমে ওদের সামনে থেকে নিজেকে সরিয়ে আড়ালে এনে এক ছটে ঘাটের পাড়ে গিয়ে খবরটা দিল শরৎকে । শরৎ অবাক হয়ে বললে, তুই দেখে এলি ? —ও মা, দেখে এলাম না তো কি } এসো না— শরং ব্যস্তভাবে দীঘির ঘাট থেকে উঠে এল । প্রভাস ততক্ষণ নিজেই মাদর পেতে বসে পড়েছে ওদের দাওয়ায় । হাসিমুখে বললে, আবার এসে পড়লাম। এখন একটু চা খাওয়াও তো দিদি— —বসন প্রভাসদা। এক্ষনি চা করে দিচ্ছি— প্রভাস পকেট থেকে একটা কাগজের প্যাকেট বার করে বললে, ভাল চা এনেছি । আর এতে আছে চিনি— —আবার ও-সব কেন প্রভাসদা ? আমরা গরীব বলে কী একটু চা দিতে পারি নে আপনাদের । —ছিঃ অমন কথা বলতে নেই । সে ভেবে আনি নি, এখানে সব সময় ভাল চা তো পাওয়া যায় না পয়সা দিলেও । আর এ চিনি সে চিনি নয়, এ চায়ে খাওয়ার আলাদা চিনি । দ্যাখো না—এ পাড়াগাঁয়ে কোথায় পাবে এ চিনি ? শরৎ হাতে করে দেখলে চোকো চৌকো লেবেণ্ডসের মত জিনিসটা । এ আবার কি ধরণের চিনি। কখনো সে দেখেই নি। শহর বাজারে কত নতুন জিনিস আছে । প্রভাস বললে, কাকাবাব; কোথায় গেলেন ? —বাবা গিয়েছেন খাজনার তাগাদায়। দ-তিন দিন দেরি হবে ফিরতে ।