পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Rථo বিভূতি-রচনাবলী প্রভাস হতাশ মুখে বললে, তিনি বাড়ি নেই ! এঃ, তবে তো সব দিকেই গোলমাল হয়ে গেল । —কেন, কি গোলমাল ? —আমি এসেছিলাম তোমাদের কলকাতা ঘুরিয়ে আনতে। মোটর ছিল সঙ্গে। সেই ভেবেই অরণকে সঙ্গে নিয়ে এলাম । —তাই তো, সে এখন কি করে হয় ? --নিতান্তই আমার অদষ্ট । —সে কি, আপনার অদ্যটি কেন প্রভাসদা, আমাদের অদম্পট । —তা নয় দিদি, মাথে যাই বলো, প্রাচীন রাজবংশের মেয়েকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে সব দেখিয়ে বেড়ানোর মধ্যে যে আনন্দ আছে—তা কি সকলের ভাগ্যে ঘটে শরৎদি ? বিশেষ করে তুমি আর কাকাবাব; যখন কখনো কলকাতাতে যাও নি। —কোথাও যাই নি—তার কলকাতায় । অরণ এবার কথা বললে । সে অনেকক্ষণ থেকে একদণ্টে শরতের দিকে চেয়ে ছিল । শরতের কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অরণে জিভ ও তালর সাহায্যে একপ্রকার খেদসচক শব্দ উচ্চারণ করে বললে, ও, ভাবলে একদিকে কট হয়, একদিকে আনন্দ হয় । আপনার এই সরলতার তুলনা নেই । অভিজ্ঞতা সব জায়গাতেই যে পজো পাবে তা পাবে না। অনভিজ্ঞতার মুল্য অনেক সময় অভিজ্ঞতার চেয়ে অনেক—অনেক বেশি। প্রভাস বললে, তাই তো, বড় ভাপনায় পড়া গেল দেখছি । —ভাবনা আর কি, অন্য এক সময় নিয়ে যাবেন প্রভাসদা । প্রভাস কিছুক্ষণ বসে ভেবে ভেবে বললে, আচ্ছা, কোনো রকমেই এখন যাওয়া হয় না ? ধরো তুমি আর কাউকে নিয়ে না হয় আমাদেরই সঙ্গে গেলে— —আমি একাও আপনার সঙ্গে যেতে পাবি প্রভাসদা । আমার মন তেমন নীচ নয়। কিস্ত সেজন্যে নয়—বাবার বিনা অনুমতিতে কোথাও যেতে চাই নে। যদিও আমার মনে হয় আপনি নিয়ে গেলে বাবা তাতে অমত করবেন না । অরণ এবার বললে, তবে চলন না কেন, গাড়ি রয়েছে—কাল সকালে বেরলে বেলা বারোটার মধ্যে কলকাতা পৌঁছে যাওয়া যাবে । ইচ্ছে করেন, কাল রাতেই আবার আপনাকে এখানে পৌঁছে দেবো । কি বলেন প্রভাসবাব ? প্রভাস ঘাড় নেড়ে বললে, তা তো বটেই । তাই চলো যাওয়া যাক—অবিশ্যি যদি তোমার মনের সঙ্গে খাপ খায় । কাল সকালে আমরা আসবো এখন আবার— এরা উঠে গেলে রাজলক্ষী দেখলে শরৎ একটু অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছে। কি যেন ভাবছে আপন মনে । কিছুক্ষণ পরে শরৎ নিজেই বললে, তুই তো সব শনলি, তোর কি মনে হয়— যাবো ওদের সঙ্গে ? খুব ইচ্ছে করছে। কক্ষনো দেখিনি কলকাতা শহর— —তোমার ইচ্ছে শরৎদি । তুমি আমার চেয়ে অনেক বধিমতী । —তুই যাবি ? —আমার যেতে খুব ইচ্ছে—কিস্ত আমার যাওয়া হবে না শরৎদি । বাবা মা যেতে দেবে না । —আমার সঙ্গে যাবি, এতে আর দোষ কি ? —তুমি যদি যাও, লোকে কোনো কথা ওঠাতে সাহস করবে না শরৎদি। কিন্তু আমায় কেউ ছেড়ে কথা বলবে না । শেষকালে বাপ-মা মুশকিলে পড়ে যাবে বিয়ে দেবার সময় । —বাবাং, এর মধ্যে এত কথা আছে ? ধন্যি সব মন বট ।