পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఫిలిపి বিভূতি-রচনাবলী শরৎ কাল রাত্রে ভেবে ঠিক করেছে রাজলক্ষীর বিবাহের প্রস্তাবটা সে আজই প্রভাসের কাছে উখাপিত করে দেখবে কি দাঁড়ায়। রাজলক্ষীকে এজন্যে সে সরিয়ে দেবার জন্যে বললে, ভাই, তোদের বাড়ি থেকে এত ক'টা আটা কি ময়দা দৌড়ে নিয়ে আয় তো ? কাল রাত্রে আমাদের ময়দা ফুরিয়েছে। প্রভাসদা ও অরণবাবকে চায়ের সঙ্গে দখানা পরোটা ভেজে দিই । প্রভাস যেন একটু হতাশার সরে বললে, তা হলে যাওয়া হল না তোমার ? এবার গেলেই বেশ হত । শরৎ বললে, না এবার হবে না । —তোমার বন্ধটিকে নিয়ে চলো না কেন ? —কে ? রাজলক্ষীর কথা বলছেন ? “আচ্ছা, একটা কথা বলবো ? রাজলক্ষীকে কেমন লাগল আপনাদের ? প্রভাস একটু বিস্ময়ের সরে বললে, কেন বলো তো ? ভালই লেগেছে। —গরীব বাপ-মা, বিয়ে দিতে পারছে না। ওর জন্যে একটা পাত্র দেখে দিন না কেন প্রভাসদা ? বন্ড উপকার করা হবে । একটা কথা শুনন প্রভাসদা— প্রভাস শরতের পিছ পিছ; বাড়ির পিছনদিকে গেল । শরৎ বললে, আচ্ছা প্রভাসদা, অর্ণবাবর সঙ্গে রাজলক্ষীর বিয়ে দিন না কেন জটিয়ে ? পালটি ঘর । চমৎকার হবে— প্রভাস যেন ঠিক এ ধরণের কথা আশা করে নি শরতের মুখ থেকে। সে আশাহতের সরে বললে, তা–তা দেখলেও হয়। . শরতের যদি কিছমাত্র সাংসারিক ও সামাজিক জ্ঞান থাকতো তবে প্রভাসকে চিনে নিতে সৈ পারতো এই এক মহত্তেই । কিন্তু শরৎ যদিও বয়সে যাবতী, সারল্যে ও ব্যবহারিক অনভিজ্ঞতায় সে বালিকা ৷ সতরাং সে প্রভাসের স্বরূপ ধরতে পারলে না। সে আরও আগ্রহের সঙ্গে বললে—তাই দেখন না প্রভাসদা ? আপনি করলে অনেক সহজ হয়ে যায় কাজটা— প্রভাস অন্যমনস্কভাবে কি একটা কথা ভাবছিল । দু-একবার যেন কোনো একটা কথা বলবার জন্যে শরতের মাখের দিকে চাইলেও—কিন্তু শেষ পয্যন্ত বুললে না। দুজনকে চা করে দিয়ে শরৎ পথের দিকে চেয়ে আছে—এমন সময় দেখা গেল রাজলক্ষী ফিরে আসছে। সে দাওয়া থেকে নেমে রাজলক্ষীর কাছে গিয়ে বললে—এনেছিস ময়দা ? দে আমার কাছে । s —আমি যাই শরৎদি, মা বলে দিয়েছে বাড়ি ফিরতে— —কেন বল তো ? প্রভাসদ্বারা এখানে বসে আছে বলে ? রাজলক্ষী অপ্রতিভ মুখে বললে—তাই শরৎদি, জানোই তো, আমরা গরীব, এখানে ওদের সঙ্গে বসে থাকলে হয়তো কথা উঠবে । মা বড় ভয় করে ওসব । —তাহলে তুই যা—গিয়ে মান বজায় রাখ– রাজলক্ষী হাসতে হাসতে চলে গেল । প্রভাসদের খাবার করে দিতে বেলা প্রায় আটটা বেজে গেল । ওরা উঠতে যাবে এমন সময় শরৎ গড়ের খালের দিকে চেয়ে আহমদের সঙ্গে বলে উঠল—বাবা আসছেন। প্রভাস ও অরণ দুজনেই যেন চমকে উঠে সেদিকে চেয়ে দেখলে । ওদের মুখ দেখে মনে হবার কথা নয় যে কেদারের অপ্রত্যাশিত প্রত্যাবৰ্ত্তনে তারা খুব খাশী।