পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা Rඥද් কখনো কোনো আপত্তি করে নি । শরতের রাগ ততক্ষণ চলে গিয়েছে। সে রাজলক্ষীর হাত ধরে বললে, কিছু মনে করিস নে রাজী— 環 —না, মনে তো করি নে, আমি জানি শরৎদি ছেলেমানষের মত, এই রেগে উঠল, এই জল হয়ে গেল। রাগ তোমার বেশীক্ষণ শরীরে থাকে না—গঙ্গাজলে ধোয়া মন যে ! সাধে কি বড়বংশের মেয়ে বলে তোমাকে শরৎদি ? শরৎ সলঙ্গ-মুখে বললে, যা যা বকিস নে—থাম তুই । এই সময় দর থেকে কেদারকে আসতে দেখে রাজলক্ষী বললে, কাকাবাব; আসছেন, শরৎদি—ও-সব কথা থাক, কি কি কাজ করতে হবে, কি গুছিয়ে দিতে হবে বলে দাও। —কি আর গছিয়ে দিবি ! দ-পচি দিনের জন্যে তো যাওয়া । হ’্যা রে, উত্তর দেউলে সম্বেদ-পিদিম দেওয়ার জন্যে বামী বাগদীকে ঠিক করে দিতে পারবি ? আমি এসে তাকে চার আনা পয়সা দেবো । রাজলক্ষয়ী বললে, বলে দেখবো—কিন্তু সে রাজী হবে না। সন্দে বেলা সে ঘোষবে উত্তর দেউলের অরণ্যে বিজেবনে ? বাপারে । তার চেয়ে এক কাজ করা যাক না কেন ? আমি তোমার সন্দে দেবো রোজ রোজ– শরৎ বিঙ্গিমত হয়ে ওর মুখের দিকে চেয়ে বললে, তুই দিবি সন্দে-পিদিম—উত্তর দেউলে ? রাজলক্ষয়ী হেসে বললে, কেন হবে না ? পানকে সঙ্গে নিয়ে আসবো—আর সন্দের এক ঘণ্টা আগে আলো জেলে রেখে চলে যাবো । তোমাদের ঘরবাড়িও তো দেখাশুনো করতে হবে আমায় ? অমনি দিয়ে যাবো পিদিম জেলে । —তা হলে তো বেচে যাই রাজলক্ষী। ওই একটা মস্ত ভাবনা আমার তা জানিস ? মনে মনে ভাবি, আমি বেচে থাকতে পাবপুরুষের দেউলে আলো জলবে না—তা কখনই হতে দেবো না প্রাণ ধরে । আর একটা কথা শিখিয়ে দি, যখন পিদিম হাতে নিয়ে দেউলে যাব তখন বেতবনের জঙ্গলে বারাহী দেবীর যে ভাঙা মত্তি আছে সেখানটাতে একবার উদ্দেশ্যে পিদিমটা তুলে দেখাবি ৷ রাজলক্ষীর মুখে কেমন ভয়ের ছায়া নামলো—সে বললে, ওমা, ওই ভাঙা কালীর মাত্তি । ওখানে যেতে ভয় করে। —কালী নয়—ও বারাহী বলে এক পরোনো আমলের দেবীমত্তি । বহুকাল পুজোও হয় নি। কেমন চড়কের সময় সমিসিরা একবার ওখানে এসে নেচে যায় দেখিস নি ? —তা যাক নেচে । আমি ওখানে যেতে পারবো না শরৎদি । মাপ করো। —তুই যদি না পারিস-তবে আমার যাওয়া হবে না। আমি বারাহী দেবীকে ফেলে রেখে যেতে পারবো না । রাজলক্ষী বললে, না দিদি, সত্যি কিছু ভাল লাগছে না। তুমি চলে যাবে, আমার মন কাঁদবে সত্যিই । তাই বলছিলাম পারবো না, যদি তোমার যাওয়ায় বাধা দিতে পারি। কিন্তু এখন আমার মনে হচ্ছে, এ কাজ ভাল না। শরৎ দিদি কখনো কোনো জায়গায় যায় না, কিছু দেখে নি—ও-ই যাক । ঘরে আসকি । কেদার গামছা পরে পরুর থেকে স্নান করে এসে বললেন, ওমা শরৎ, একটা ডাব খাওয়াতে পারবি ? —না বাবা, একটা ছোট ডাব ওবেলা ঠাকুরদের দিয়েছি—এবেলা আর কিছু নেই। পণ্য বান্দীকে ডেকে নিয়ে আসবো ?