পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কৈদার রাজা ఫిలిపి প্রথমে যশোর রোডের দ-ধারে বাগানবাড়ি ও কচুরীপানা-বোঝাই ছোট বড় জল ছাড়িয়ে বেলগেছের মোড়ের আলোকোজল দশ্য দেখে পিতাপত্রেী বিস্ময়ে নিবাক হয়ে পড়ল । ওদের দুজনের মুখে আর কোনো কথা নেই। গাড়ি ওখান থেকে এসে পড়ল কণাওয়ালিস সীটে—এবং দু-ধারে দোকান পসার, থিয়েটার, সিনেমা, ইলেকট্রিক আলোর বিজ্ঞাপন, দোকানের বাইরে শো-কেসে বহুবিচিত্র কাপড়, পোশাক, পতুল, আয়না, সেন্ট, সাবান, সেনা প্রভূতির সদশ্য সমাবেশের মধ্য দিয়ে গাড়ি এসে পড়ল হ্যারিসন রোডের মোড়ে এবং এখান থেকে গাড়ি ঘরে গেল হাওড়ার পলের ওপর, ও পার হয়ে হাওড়া স্টেশনের গাড়িবারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। পল পার হবার সময় প্রভাস বললে, এই দেখুন হাওড়ার পল, নিচে গঙ্গা—আমরা যাচ্ছি হাওড়া স্টেশনে । এবারও কেদার বা শরৎ কারো মুখ থেকে কোনো কথা বেরলো না । প্রভাস গাড়ি থামিয়ে বললে, কাকাবাব, চলন স্টেশনের রেস্টোরেস্ট থেকে আপনাকে চা খাইয়ে আনি—খাবেন কি ? 冷 কেদারের কোনো আপত্তি ছিল না-কিন্তু মেয়ে বাপের পরকালের দিকে অত্যন্ত সতক দটি রেখেছে—বাবা নাস্তিক মানুষ—ও’র এ বয়সে কোনো অশাস্ত্রীয় অনাচারের সংস্পশে কখনো সে আসতে দেবে না কেদার তা ভাল জানতেন। তিমি মেয়ের মুখের দিকে করণ দটিতে চাইলেন বটে, কিন্ত শরৎ তাঁর মথের দিকে ভাল করে না চেয়েই বললে, চলন প্রভাসদা, উনি ওখানে খাবেন না— অগত্যা প্রভাস আবার গাড়ি ছেড়ে হাওড়ার পলের ওপর এল এবং আস্তে আস্তে চলতে লাগল । আঙ্গল দিয়ে দেখিয়ে বললে, ওই দেখনে সব জাহাজ, শরৎদি দ্যাখো সমুদ্রে যে সমস্ত জাহাজ যায়, ওই দাঁড়িয়ে আছে । সট্র্যাণ্ড রোড দিয়ে গাড়ি এল আউট্রাম ঘাটে । ওদের দুজনকে নামিয়ে নিয়ে প্রভাস আউট্রাম ঘাটের জেটিতে গিয়ে একখানা বেচিতে বসলো । সামনের গঙ্গাবক্ষে ছোট বড় স্টীমার বাঁশি বাজিয়ে চলেছে, বড় বড় ভড় ও বজরা ডাঙার দিকে নোঙর করে রেখেছে, সাচ্চ'লাইট ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে লাল একখানা বড় স্টীমার আস্তে আস্তে যাচ্ছে নদীর মাঝখান বেয়ে, সুবেশা নরনারীরা জেটির ওপর বেড়িয়ে বেড়াচ্ছে—চারিদিকে একটা যেন আনন্দ ও উৎসাহের কোলাহল । একটা বড় বয়া ঢেউয়ের স্রোতে দলেছে দেখে শরৎ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বললে, ওটা কি ? প্রভাস বললে, জাহাজ বাঁধে ওই আংটাতে, বয়া বলে ওকে । আরও অনেক আছেনদীতে— এতক্ষণে ওদের দু-জনের কথা যেন ফুটলো । কেদার নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, বাপ রে, এ কি কাপড় 1 হ’্যা, শহর তো শহর, বলিহারি শহর বটে,বাবা । শরৎ বললে, সত্যি বাবা, এমন কখনো ভাবি নি। এ যেন জাদুকরের কাণ্ড । আচ্ছা, এখানে জলের ওপর ঘর কেন ? প্রভাস বুঝিয়ে দিয়ে বললে, শরৎদি, কাকাবাবকে এবার চা খাওয়ানো চলবে এখানে ? খুব ভাল বন্দোবন্ত । শরৎ রাজী হল না । বাবাকে পরকালে যমের বাড়ি সে কখনো পাঠাতে পারবে না। যা নাস্তিক উনি, এমনি কি গতি হয় ও'র কে জানে। তার ওপর রাশ আলগা দিলে কি আর রক্ষা আছে ? বাবা ধেই ধেই করে নত্য করে বেড়াবেন এই কলকাতা শহরে। প্রভাসের নিবন্যাতিশয্যে শরৎ একটু বিরক্তই হল । সে যখন বলছে বাবা যেখানে