পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা షీ8ు কতকাল মেয়েমানুষ হয়েও সে জিনিসপত্রের লোভ করে নি। জিনিসপত্র অধিকার করে রাখবার মেয়েদের যে স্বাভাবিক প্রবত্তি চেপে চেপে রাখে মনের মধ্যে, শরতের সেসব বহুদিন চলে গিয়েছিল মন থেকে মুছে—কিন্তু আজ যেন আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে তারা । একটা দোকানে ক্লিস্ট্যালের চমৎকার ফুলদানি দেখে শরৎ ভাবলে—আহা, একটা ওইরকম ফুলদানি কেনা যেত !—বনোফুল কত ফোটে এই সময় কালো পায়রা দীঘির পাড়ের জঙ্গলে, সাজিয়ে রাখত সে রোজ রোজ । একটা চমৎকার পুতুল সাদা পাথরের, একটা কি অদ্ভুত কাঁচের বল তার মধ্যে বিজলির আলো জবলছে---কি চমৎকার চমৎকার শাড়ী একটা বাঙালীর দোকানে, রাজলক্ষীর জন্যে ওইরকম শাড়ী একখানা যদি নিয়ে যাওয়া যেত 1 জন্মে সে এরকম রঙের আর এরকম পাড়ের শাড়ী কখনো দেখে নি । প্রভাস বললে, এটাকে বলে নিউমাকেট । চৌরঙ্গী ছাড়িয়ে এলাম—চলন শরৎদির জন্যে কিছু ফল কিনি । শরৎ বললে, না, আমার জন্যে আবার কেন খরচ করেন প্রভাসদা ? ফল কিনতে হবে না আপনার । - - প্রভাস ওদের কথা না শুনে ফলের দোকানের দিকে সকলকে নিয়ে গেল । এর নাম ফলের দোকান ! শরৎ ভেবেছিল, বুঝি ঝুড়িতে করে তাদের দেশের হাটের মত কলা, পোপে, বাতাবী নেব বিক্রি হচ্ছে রাস্তার ধারে—এরই নাম ফলের দোকান। কিন্তু এ কি ব্যাপার । এত স্তুপীকৃত বেদানা, কমলালেব, কিশমিশ, আনারস, আঙ্গর যে এক-জায়গায় থাকতে পারে, এ কথা সে জানত এখানে আসবার আগে ? তবুও তো এগুলো তার পরিচিত ফল, পাড়াগাঁয়ের মেয়ে—অন্য কত শত প্রকারের ফল রয়েছে যা সে কখনো চক্ষেও দেখে নি— নামও শোনে নি । শরৎ জিজ্ঞেস করলে, কাগজে জড়ানো জড়ানো ওগুলো কি ফল প্রভাসদা ? —ও আপেল । কালিফোনিয়া বলে একটা দেশ আছে আমেরিকায়, সেখান থেকে এসেছে । তোমার জন্যে নেবো শরৎদি ? আর কিছ আঙ্গর নিই । কাকাবাব আনারস ভালবাসেন ? * একটা বড় ঠোঙায় ,ফল কিনে ওরা নিউমাকেটের বিভিন্ন দিকে বেড়াতে বেড়াতে এক জায়গায় এল—সেখানে একটা আস্ত বাঘের হা-করা মম" মেঝের ওপর দেখে শরৎ চমকে উঠে বাবাকে দেখিয়ে বললে, বাবা, একটা বাঘের মাথা । কেদারও অবাক হয়ে চেয়ে রইলেন সেদিকে । প্রভাস বললে, এরা জন্তুর চামড়া আর মাথা এরকম সাজিয়ে বিক্রি করে । এদের বলে ট্যাক্সিডারমিস্ট । এরকম অনেক দোকান আছে । এইবার সত্যি সত্যি একটা জিনিস পছন্দ হয়েছে বটে শরতের। ওই বাঘের মড়ে সদ্ধ ছালখানা । তার নিজের শাড়ীর দরকার নেই, গহনার দরকার নেই—সে-সব দিন হয়ে গিয়েছে তার জীবনে। কিন্তু এই একটা পছন্দসই জিনিস যদি সে নিজের দখলে নিজের ঘরে সাজিয়ে রাখতে পারত, তবে সুখ ছিল পাঁচজনকে দেখিয়ে, নিজে পাঁচবার দেখে, পাঁচজনকে ওর গল্প করে। ডেকে এনে পাঁচজনকে দেখাবার মত জিনিস বটে। মুখ ফটে সে প্রভাসকে দামটা জিজ্ঞেস করলে । প্রভাস দোকানে ঢুকে বললে, ওটা বিক্রির জন্যে নয়।—দোকান সাজাবার জন্যে। তবে ওরকম ওদের আছে,—অাড়াই শো টাকা দাম । অরণ বললে, এখন কোথায় যাওয়া হবে ? বি. র. ৩—১৬