পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ર88 বিভূতি-রচনাবলী কেদার বললেন, প্রভাস আর অরণের জন্যে খাবার করে রাখো মা, যদি ওরা সকালে এসে পড়ে ? 素 কিন্তু তারা সকালের দিকে এল না। দপুরের পর কেদার একটু ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। তাঁর দিবানিদ্রা অভ্যাস নেই—অথচ রাস্তাঘাট না চেনার দরুন কোথাও যেতেও পারেন না। এই বাগানবাড়ির চতুঃসীমায় বন্দীজীবন যাপন করার মত লোক নন তিনি । শরৎকে ডেকে বললেন, হ’্যা মা, গঙ্গা কোনদিকে ঝিকে জিজ্ঞেস করো তো ? শরৎ ঘরে এসে বললে, গঙ্গা নাকি এখান থেকে দক্লোশ পথ, বাবা । কেন, গঙ্গা কি হবে ? —না, একটু বেরিয়ে আসতাম গঙ্গার ধারে । বেলা তিনটের পর প্রভাস একা মোটর হকিয়ে এল । தி বললে, ওবেলা কাজ ছিল জরুরী—আসতে পারলাম না। কোন অসুবিধে হয় নি তো কাকাবাব ? —নাঃ, অসুবিধে কি হবে ? অর,ণ এল না ? —তার সঙ্গে দেখাই হয় নি আজ সারাদিন । তবে সেও কাজে ব্যস্ত আছে মনে হচ্ছে । নইলে.নিশ্চয় আসত । —তুমি চা খেয়ে নাও, শরৎ মা, তোমার প্রভাসদাকে— আধ ঘণ্টার মধ্যে কেদার চা পান শেষ করে মেয়েকে নিয়ে মোটরে উঠলেন । বললেন, কলকাতার দিকে না গিয়ে এবার চলো না বেশ গঙ্গার ধারে নিজন জায়গায়— —পেনেটিতে দ্বাদশ শিবের মন্দিরে যাবেন ? শরৎ আগ্রহের সরে বললে, তাই চলো প্রভাসদ, দেখি নি কখনো। কেদার শিবমন্দির দেখবার কোনো আগ্রহ দেখালেন না—তীথ দশনে পণ্য অঙ্গজনি করবার ওপর লোভ জীবনে তাঁর কোনো দিনই দেখা যায় নি । বারাকপুর ট্রান্তক রোডে পড়ে মোটর তীরবেগে পেনিটির দিকে ছটল । রাস্তার দুধারে কত বিচিত্র উদ্যানরাজি, কত সন্দের বাড়ি—কলকাতার বড় লোকেদের ব্যাপার। পেনিটির দ্বাদশ শিবের মন্দির দেখে শরৎ খাব খুশী । সামনে গঙ্গা, ওপারে কত কলকারখানা, মন্দির ঘরবাড়ি । এপারে সারি সারি বাগানবাড়ি—বিকেলের নীল আকাশ গঙ্গার বিশালবক্ষে ঝুকে পড়েছে—নেীকো স্টীমারের ভিড় । শরৎ অবাক হয়ে গঙ্গার বাঁধাঘাটে রানার ওপর দাঁড়িয়ে দেখে দেখে বললে—এমন কখনো দেখি নি বাবা, ওপারের দিকটা কি চমৎকার । প্রভাস বললে, ভাল লাগছে, শরৎদি ? —উঃ, ইচ্ছে করে এখানেই সব সময় থাকি আর গঙ্গাস্নান করি—ভাল কথা, প্রভাসদা, কাল গঙ্গা নাওয়াও না কেন ? —বেশ ভালোই তো। কোন সময়ে আসবো বলো—কোথায়'নাইবে ? —এখানেই এসো। এ জায়গা আমার ভারি ভালো লেগেছে— J —এখানই আসবে, না কালীঘাটে ? কাকাবাব কি বলেন ? --তুমি যেখানে ভাল বোঝো । বাবার কথা ছেড়ে দাও—উনি ওসব পছন্দ করেন না। সন্ধ্যার আগে অস্ত-দিগন্তের চিত্রবিচিত্র রঙীন আকাশের ছায়া গঙ্গার জলে পড়ে ষে মায়ালোক সষ্টি করল, শরৎ সে-রকম দশ্য জীবনে কোনোদিন দেখে নি। গড়শিবপর জলের দেশ নয়—এত বড় নদী, জলের বকে এমন রঙীন মেঘের প্রতিচ্ছায়া সে এই প্রথম