পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী في 8ج —কিন্ত কি বাবা ? —এখানে বেশীদিন মন টে'কে না। আমাদের গড়শিবপুরের সেই জঙ্গলা ভালো—নামা ? —যা বলেছ বাবা । বাগানের পুকুরটা দেখে আমার এইমাত্র কালো পায়রার দীঘির কথা মনে পড়ছিল— —আর কত দিন থাকবে এখানে ? প্রভাস কিছল বলেছে ? —তুমি যে ক'দিন বলো বাবা। এখনও কালীঘাট দেখি নি, বায়কোপ দেখি নি—দেখি সেগুলো ? আর কি কি আছে দেখবার বাবা ? . . —চিড়িয়াখানাটা আমার সেবারও দেখা হয় নি—এবার দেখবো । —সেবার মানে কি বাবা ? হয়তো ত্রিশ-বরিশ বছর আগেকার কথা। আমার জন্মাবার অনেক আগে—না ? —হ’্যা—তা হবে । তোমার মায়ের জন্যে একখানা শাড়ী, বেশ ভাল,ডুরে শাড়ী কিনে নিয়ে যাই, মনে আছে । —তুমি হাত ধয়ে নাও বাবা, আমি চা করে আনি—খাবার কি খাবে ? এমন সময় গেটের পথে মোটরের শব্দ শোনা গেল—সঙ্গে সঙ্গে প্রভাসের মোটর এসে বারান্দার সামনের লাল কাঁকরের পথের ওপর এরিকা-পাম কুঞ্জের ছায়ায় দাঁড়িয়ে গেল । প্রভাস নেমে এসে বললে, চলন কাকাবাব, কালীঘাটে নিয়ে যাই—শরৎদি তৈরী হয়ে নাও । শরৎ খাঁশিতে উৎফুল্ল হয়ে বললে, সে বেশ হবে প্রভাসদা, চলো বাবা, চা করে নিয়ে এলাম বলে, বসো সব । সত্যিই এ ক'দিন অদ্ভুত উত্তেজনা ও আনন্দের মধ্যে শরতের দিনগুলো কেটে যাচ্ছে । কৈদার বন্ধ হয়েছেন, নতুন জায়গা এখন আর তাঁর মনে তেমন ধাক্কা দেয় না, জীবনের সমস্ত আকাশটা জড়ে গড়শিবপুরের ভাঙা রাজ-দেউড়ি ও বনজঙ্গলে ঘেরা গড়খাই সেখানে পণে অধিকারের আসন পেতেছে, আর আছে ছিবাস মদির দোকান, ওপাড়ার কৃষ্ণযাত্রার আখড়াইয়ের আসর—তার সঙ্গে হয়তো সতীশ কলর দোকান—তাদের ছোট খড়ের বাড়িখানা। এ বয়সে নতুন কোন জিনিস জীবনে স্থান দখল করতে পারে না । জীবনের ব্যুত্ত পরিধিকে শেষ করে ওদিকের বিন্দতে মিলবার চেণ্টায় রয়েছে—নব অনুভুতিরাজির সঞ্চার এ বয়সে সম্ভব কবি ও বৈজ্ঞানিকের পক্ষে, প্রতিভাবান শিল্পীর পক্ষে, কেদার সে দলে পড়ে না । প্রভাসের মোটর এবার স্ট্যান্ড রোড ধরে চলল হ্যারিসন রোড দিয়ে পড়ে। প্রভাস বললে, ইডেন গাডে'নটা একবার দেখিয়ে নিয়ে যাই আপনাদের কেদার বললেন, সেটা কি বাবাজি ? —আজ্ঞে একটা বাগান, বেশ ভাল, সবাই বেড়াতে আসে । —ও বাগান-টাগান আমরা আর কি দেখব, বন বাগান তো দেখেই আসছি, তুমি বরং আমাদের কালীঘাটটা নিয়ে চল । কালীঘাটে কালী মন্দিরের সামনের চত্বরে অরণ দাঁড়িয়ে আছে দেখতে পেয়ে শরৎখাশীর সরে বললে—বাবা, ওই অর্ণবাব, ডাকুন না প্রভাসদা ? প্রভাস বললে, এখানে আমাদের সঙ্গে মিশবার কথা ছিল ওর। ও অরণ–এই ষে । শরৎ কালী-গঙ্গায় স্নান সেরে মন্দিরে দেবী দশন করে এল । সঙ্গে রইল প্রভাস । কেদার মোটরে বসে চারিপাশের ভিড় দেখতে লাগলেন। অরণে একটা ছোট ঘর ভাড়ার চেন্টায় গেল, কারণ প্রভাস ও অরণ দুজনে শরৎকে বিশেষ করে ধরেছে, এখানে চড়ুইভাতি করতে হবে ।