পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা R&& তা বুঝতে পারে না । মাঝে মাঝে কেদার বলতেন গড়শিবপুরের বাড়িতে–শরৎ শোনো মা এই মালকোষখানা —বেহালার সরের মাছনায় রাগিণী পদায় পদায় মত্তি পরিগ্রহ করতো-বাবার ছড় ঘরোনোর কত কায়দা, ঘাড় দলনির কত তন্ময় ভঙ্গি—কিস্ত শরৎ মনে মনে ভাবতো বাবার এসব কিছই হয় না। এ ভালই লাগে না, বাবা হয়তো বোঝেন না, লোকে শনে হাসে •• 著 প্রভাস ওর বৌদিদির দিকে চেয়ে হেসে বললে, শুনিয়ে দাও একটা— মেয়েটি মদ হেসে হারমোনিয়মের কাছে গিয়ে বসল—তার পরে নিজে বাজিয়ে সকঠে গান ধরল— “পাখী এই যে গাহিলি গাছে, চুপ দিলি কেন ঝোপে ডুবে গেলি যেমন এসেছি কাছে।” শরৎ মগধ হয়ে শনলে, এমন কন্ঠ এমন সরে জীবনে সে কখনও শোনে নি । গড়শিবপুরের জঙ্গলে এমন গান কে কবে গেয়েছে ? আহা, রাজলক্ষয়ীটা যদি আজ এখানে থাকত ! রাজলক্ষী কত দুঃখদিনের সঙ্গিনী, তাকে না শোনাতে পারলে যেন শরতের অন্ধেক আমোদ ব:থা হয়ে যায় । সখের দিনে তার কথা এত করে মনে পড়ে। গান থেমে গেলে শরতের মুখ দিয়ে আপনা-আপনি বেরিয়ে গেল—কি চমৎকার! মেয়েটি ওর দিকে চেয়ে হেসে হেসে কি একটা বলতে যাবে—এমন সময় একটি উনিশ কুড়ি বছরের মেয়ে দোরের কাছে এসে বললে, আজ এত গানের আসর বসল এত সকালে, কে এসেছে গো তোমাদের বাড়ি ? আমি বলি তুমি— শরতের দিকে চোখ পড়াতে মেয়েটি হঠাৎ থেমে গেল। তার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল । ঘরে না ঢুকে সে দোরের কাছে রইল দাঁড়িয়ে । মেয়েটির পরনে লাল রঙের জরিপাড় শাড়ী, খেপিায় জরির ফি৩ে জড়ানো, নিখত সাজগোজ, মুখে পাউডার । শরৎ ভাবলে, মেয়েটি হয়তো কোথাও নিমন্ত্রণ খেতে যাবে, কুটুমবাড়ি, তাই এমন সাজগোজ করেছে । প্রভাসের বৌদি বললে, এই যে গানের আসল লোক এসে গিয়েছে। কমলা, একে তোমার গান শুনিয়ে দাও তো ভাল— কমলা বিষন্নমুখে বললে, তাই তো, আমার ঘরে যে এদিকে হরিবাব এসে বসে আছে— —আজ আবার দিন বুঝে সকাল সকাল— প্রভাস ওকে চোখ টিপলে মেয়েটি চুপ করে গেল । প্রভাসও বললে, না তোমার একখানা গান না শুনে আমরা ছাড়ছি নে—এদিকে এসো কমলা— কমলাও হারমোনিয়ম বাজিয়ে গান ধরলে ৷ থিয়েটারি গান ও হালকা সর—কলকাতার লোক বোধ এই সব গান পছন্দ করে । অন্য ধরনের গান তারা তেমন জানে না, কিন্ত গড়শিবপরে ঠাকুরদেবতা, ইহকাল পরকাল, ভবনদী পার হওয়া, গৌরাঙ্গ ও নদীয়া ইত্যাদি সংক্রান্ত গানের প্রাদাভাব বেশি। বাল্যকাল থেকে শরৎ বাবার মখে, কৃষ্ণযাত্রার আসরে, ফকির-বোন্টমের মখে এই সব গান এত শনে আসছে যে কলকাতায় প্রচলিত এই সব নতন সরের নাতন ধরনের গান তার ভারি সন্দর লাগল। জীবনটা যে শুধ, মশান নয়, সেখানে আশা আছে, প্রাণ আছে, আনন্দ আছে—এদের গান যেন সেই বাণী বহন করে আনে মনে । শধই হতাশার সরে বাজে না তাদের মধ্যে । শরৎ বললে, বড় চমৎকার গলা আপনার, আর একটা গাইবেন ?