পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত ২৩ সশী, ইত্যাদি। বীরেন বোস মিথ্যা বলে নাই, চারিদিকে আত্মীয় বন্ধ থাকিলেই রোজ পত্র আসে—তাহার চিঠি তো আর আকাশ হইতে পড়িবে না । আজকাল আর সে দিন নাই। পত্র লিখিবার লোক হইয়াছে এতদিনে। o জন্মাষ্টমীর ছয়টিতে বাড়ি যাওয়ার কথা, কিন্তু দিনগলা মাসের মত দীঘ । অবশেষে জন্মাষ্টমীর ছয়টি আসিয়া গেল। এডিটারকে বলিয়া বেলা তিনটার সময় অফিস হইতে বাহির হইয়া সে স্টেশনে আসিল । পথে নববিবাহিত বন্ধ অনাথবাব বৈঠকখানা বাজার হইতে আম কিনিয়া উদ্ধৰ বাসে ট্রাম ধরিতে ছয়টিতেছেন। অপর কথার উত্তরে বলিলেন—সময় নেই, তিনটে পনেরো ফেল করলে আবার সেই চারটে প’চিশ, দু’ঘণ্টা দেরি হয়ে যাবে বাড়ি পৌছতে—আচ্ছা আসি, নমস্কার ! দাড়িটা ঠিক কামানো হইয়াছে তো ? মখে রৌদ্রে, ধলায় ও ঘামে যে বিবণ হইয়া যাইবে তাহার কি ? কী গাধাবোটগাড়িখানা, এতক্ষণে মোটে নৈহাটি ? বাড়ি পে"ছিতে প্রায় সম্পধ্যা হইতে পারে। খুশির সহিত ভাবিল, চিঠি লিখে তো যাচ্ছি নে, হঠাৎ দেখে অপণা একেবারে অবাক হয়ে যাবে এখন— বাড়ি যখন পেশছিল, তখনও সন্ধ্যার কিছ দেরুি বধ বাড়ি নাই, বোধ হয় নিরুপমাদের বাড়ি কি পাকুরের ঘাটে গিয়াছে। কেহ কোথাও নাই। অপর ঘরের মধ্যে ঢুকিয়া পটলি নামাইয়া রাখিয়া সাবানখানা খুজিয়া বাহির করিয়া আগে হাত মুখ ও মাথা ধইয়া ফেলিয়া তাকের আয়না ও চিরনীর সাহায্যে টেরী কাটিল। পরে নিজের আগমনের সকল চিহ্ন বিলুপ্ত করিয়া বাড়ি হইতে বাহির হইয়া গেল । আধঘণ্টা পরেই সে ফিরিল । বধ ঘরের মধ্যে প্রদীপের সামনে মাদর পাতিয়া বসিয়া কি বই পড়িতেছে। অপর পা টিপিয়া টিপিয়া তাহার পিছনে আসিয়া দাঁড়াইল। এটা অপর পরানো রোগ ; মায়ের সঙ্গে কতবার এরকম করিয়াছে। হঠাৎ কি একটা শব্দে বধ পিছন ফিরিয়া চাহিয়া ভয়ে ধড়মড় করিয়া উঠিবার চেণ্টা করিতে অপ হো হো করিয়া হাসিয়া উঠিল । বধ অপ্রতিভের সরে বলিল—ওমা তুমি । কখন—কৈ—তোমার তো— অপ হাসিতে হাসিতে বলিল—কেমন জাদ । আচ্ছা তো ভীতু। বধ ততক্ষণে সামলাইয়া লইয়া হাসি মখে বলিল—বা রে, ওই রকম করে বঝি আচমকা ভয় দেখাতে আছে ? ক’টার গাড়িতে এলে এখন—তাই বুঝি আজ ছ-সাত দিন क्रािंठे एप७झा श्ञ्च नि-ठाशि उकार्बाश् অপ বলিল—তারপর, তুমি কি রকম আছ, বল ? মায়ের চিঠিপত্র পেয়েছ ? —তুমি কিন্তু রোগা হয়ে গিয়েছ, অসংখ-বিসাখ হয়েছিল বঝি ? —আমার এবারকার চিঠির কাগজটা কেমন ? ভালো না ? তোমার জন্যে এনেছি প’চিশখানা । তারপর রাত্রে কি খাওয়াবে বল ? —কি খাবে বলো ? ঘি এনে রেখেছি, আলপটলের ডালনা করি—আর দধে আছে— পরদিন সকালে উঠিয়া অপ দেখিয়া'অবাক হইল, বাড়ির পিছনের উঠানে অপণা ছোট ছোট বেড়া দিয়া শাকের ক্ষেত, বেগনের ক্ষেত করিয়াছে। দাওয়ার ধারে ধারে নিজের হাতে গাঁদার চারা বসাইয়াছে । রান্নাঘরের চালায় পাইলতা, লাউলতা উঠাইয়া দিয়াছে । দেখাইয়া বলিল,—আজ পই-শাক খাওয়াব আমার গাছের । । ওই দোপাটিগুলো দ্যাথো ? কত বড়, না ? নিরুপমা দিদি বীজ দিয়েছেন। আর একটা জিনিস দ্যাখো নি ? এসো দেখাব—-