পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৬২ বিভূতি-রচনাবলী এখানে থাকো। প্রভাস গিয়ে খবর দ্বিষে আসকে তোমার বাবাকে । রাজী ? শরৎ দ্বিধার সঙ্গে বললে, আজ ; তা—না ভাই আজ বরং আমায় ছেড়ে দাও-কাল বাবাকে বলে – —তাতে কি ভাই ! প্রভাস ঠাকুরপো গিয়ে এখনি বলে আসছে। যাবে আর আসবে —ডাকি প্রভাসবাবকে –তুমি আর অমত কোরো না । বসো আমি আসছি—তুমি থাকলে কমলাকে দিয়ে সারারাত গান গাওয়াবো । শরৎ এমন বিপদে কখনো পড়ে নি । কি সে করে এখন ? এদের অনুরোধ এড়িয়ে চলে যাওয়াও অভদ্রতা—যখন এতটাই পীড়াপীড়ি করছে তার থাকার জন্যে, থাকলে মজাও হয় বেশ -কমলার গান শনতে পাওয়া যায় । কিন্ত অন্যদিকে বাবাকে বলে আসা হয় নি, বাবা কি মনে করতে পারেন । তবে প্রভাসদা যদি মোটরে করে গিয়ে বলে আসে, তবে অবিশ্যি বাবার ভাববার কারণ ঘটবে না। তবুও কি তার নিজের মন তাতে শান্তি পাবে ? কোথায় বাগানের মধ্যে নিষ্ঠজন বাড়ি, সেখানে একলাটি পড়ে থাকবেন বাবা, রাত্রে যদি কিছদ দরকার পড়ে তখন কাকে ডাকবেন, কে তাঁকে দেখে ? সে ইতস্ততঃ করে বললে, না ভাই, আমার থাকবার জো নেই --আজ ছেড়ে দাও, বাবাকে বলে কাল আসবো । হঠাৎ প্রভাসের বৌদিদি উঠে হাত বাড়িয়ে দরজা আগলে দাঁড়িয়ে বললে, যাও দিকি কেমন করে যাবে ভাই ? কক্ষনও যেতে দেবো না-কই, যাও তো কেমন করে যাবে ? এমন আমোদটা আমাদের মাটি করে দিয়ে গেলেই হ’ল ! শরৎ তার কান্ড দেখে হেসে ফেললে । এমন সময় বাইরে থেকে প্রভাসের গলা শনতে পাওয়া গেল—ও বৌদিদি– প্রভাসের বৌদিদি বললে, দড়িাও ভাই আসছি—ঠাকুরপো ডাকছে --বোধ হয় চা চান, বন্ধু-বান্ধব এসেছে কিনা ? ঘন ঘন চা – সে বাইরে যেতেই প্রভাস তাকে বারান্দার ও-প্রাস্তে নিয়ে গিয়ে বললে, কি হ’ল ? তার সঙ্গে অরণ ও গিরীনও ছিল । গিরীন ব্যস্তভাবে বললে, কতদর কি করলে হেনা ? — বাবাঃ --সোজা একগয়ে মেয়ে ! কেবল বাবা আর বাবা । এত বোঝাচ্ছি, এত কাণ্ড করছি এখনও মাথা হেলায় নি—কমলা আবার ঢেকি মেরে চুপ করে রয়েছে। আমি একা বকে বকে মুখে বোধ হয় ফেনা তলে ফেললাম ধন্যি মেয়ে যা হোক। যদি পারি, আমায় একশো কিস্ত পরিয়ে দিতে হবে । কমলা কিছুই ফরছে না- ওর টাকা - গিরীন বিরক্তির সরে বললে, আরে দর, টাকা আর টাকা ! কাজ উদ্ধার করো আগে – একটা পাড়াগেয়ে মেয়েকে সন্দে থেকে ভুলোতে পারলে না—তোমরা আবার বৃদ্ধিমান, তোমরা আবার শহরে— প্রভাসের বৌদিদি মথনাড়া দিয়ে বলে উঠল--বেশ, তুমি তো বৃদ্ধিমান, যাও না, ভজাও গে না, কত মনুরোদ । তেমন মেয়ে নয় ও -আমি ওকে চিনেছি। মেয়েমানুষ হয়ে জন্মেছি, আমরা চিনি মেয়েমান্য কে কি রকম। ও একেবারে বনবিছাটি-তবে পাড়াগাঁ থেকে এসেছে, আর কখনো কিছু দেখে নি—তাই এখনও কিছু সন্দেহ করে নি, নইলে ওকে কি যেমন তেমন মেয়ে পেয়েছ ? প্রভাস বিরক্ত হয়ে বললে, যাক, আর এক কথা বার বার বলে কি হবে ? সোজা কাজ হলে তোমাকেই বা আমরা টাকা দিতে যাবো কেন হেনা বিবি, সেটাও তো ভাবতে হয়—