পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৬৬ বিভূতি-রচনাবলী এনে রেখেছি, ঘি এনে রেখেছি, যদি এসে খাবার করে খায়— কেদার অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিলেন–ঝিয়ের দীঘ" উক্তির খুব সামান্য অংশই তাঁর কণগোচর হ’ল । ঝিয়ের কথার শেষের দিকে প্রশ্ন করলেন-কে খাবার করে খেয়েছে বললে ? —খায় নি গো খায় নি, যদি খায় তাই এনে রাখন সব গুছিয়ে । আটা ঘি— * কেদার বললেন, তাই তো ঝি, এখনও এল না কেন বল দেখি ? বারোটা বাজে –কি তার বেশীও হয়েছে— —তা কি করে বলি বাবা । —হ্যt ঝি, থিয়েটার দেখতে যায় নি তো ? তা হলে কিস্ত অনেক রাত হবে । না ? —তা জানি নে বাবা । রাত একটা বেজে গেল-দুটো । কেদারের ঘমে নেই, বিছানায় শয়ে উৎকণ' হয়ে আছেন। বাগানবাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে অত রাতেও দু-একখানা মোটর বা মাল-লরীর যাতায়াতের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে ; কেদার অমনি বিছানার ওপর উঠে বসেন । এই এত ক্ষণে এল প্রভাসের গড়ি কিছুই না। আবার শয়ে পড়েন । নয়তো উঠে তামাক সাজেন বসে বসে, তবুও একটু সময় কাটে । হলের ঘড়িটা টং টং করে তিনটে বাজলো। কত রাত্রে কলকাতার থিয়েটার ভাঙে ! কারণ এতক্ষণে তিনি ঠিক করেই নিয়েছেন যে প্রভাস ওকে থিয়েটার দেখাতে নিয়ে গিয়েছে, প্রভাস এবং অরণের বাড়ির সবাই গিয়েছে, মানে মেয়েরা। তাদের সঙ্গেই—তা তো, সব বুঝলেন তিনি, কিন্তু থিয়েটার ভাঙে কত রালে । কাকে জিজ্ঞেস করেন এত রাত্রে কথাটা ! আবার শয়ে পড়লেন । একবার ভাবলেন, গেটের কাছে দাঁড়িয়ে কি দেখবেন ? শেষ রাত্রে কখন ঘমে এসে গিয়েছিল চোখে তাঁর অজ্ঞাতসারে, যখন কেদার ধড়মড় করে বিছানা ছেড়ে উঠলেন, উঃ, এ যে দেখছি রোদ উঠে বেশ বেলা হয়ে গিয়েছে । ডাকলেন--ও ঝি—ঝি - ঝি এসে বললে, আমি বাজারে চনন বাবা, এর পর মাছমিলবে না, ওই মুখপোড়া ইটের কলের বাবগণো হন্নে শেয়ালের মত— —হ্যাঁরে, শরৎ আসে নি ? —না বাবা, কই ? এলে তো তখনি উঠে দরজা খালে দিতাম বাব । আমার ঘমে বন্ড সজাগ ঘমে । * ঝি বাজারে চলে গেল । কেদারের মনে এখন আর ততটা উদ্বেগ নেই । তিনি এইবার ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছেন। অনেক রাত্রে থিয়েটার ভেঙে গেলে প্রভাসের বাড়ির মেয়েদের সঙ্গে শরৎ তাদের বাড়িতে গিয়ে শয়েছে - এ তো সম্পণে স্বাভাবিক ব্যাপার। রাত্রের অন্ধকার মানুষের মনে ভয় ও উদ্বেগ আনে, দিনের আলোয় তাঁর মনের দুশ্চিন্তা কেটে গিয়েছে। মিছিমিছি ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই এর মধ্যে। কলকাতার জীবন-যারা প্রণালী গড়শিবপুরের সঙ্গে এক নয়-এ তাঁর আগেই বোঝা উচিত ছিল । কেদার নিজেই জল ফুটিয়ে চা করে খেলেন, ঝি দোকান থেকে খাবার নিয়ে এল-আটটা ন'টা দশটা বাজলো, কেদার বিকে বলে দিয়েছিলেন কি কি আনতে হবে, মেয়ে এসে মাছ রাধবে বলে ভাল মাছও আনতে দিয়েছেন–ঝি বাজার থেকে ফিরে এল, অথচ এখনও শরতের সঙ্গে দেখা নেই। বাজার পড়ে রইল, ঝি জিজ্ঞেস করল—দিদিমণি তো এখনও এলো না, মাছ কি কটে রাখবো ?