পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৬৮ বিভূতি-রচনাবলী —দাস-ওরা কাম-কার । 警 —আহা দাঁড়ান, টেলিফোন গাইডটা দেখি। কিন্তু আপনি তো বলছেন ঠিকানা জানেন না, তবে তাতে কি হবে ? ওই নামে পঞ্চাশ জন মানুষ বেরবে-আচ্ছা, আপনি দয়া করে একটু অপেক্ষা করুন, আমি স্নানটা সেরে নি চট করে, বেলা হয়েছে। আপনাকে নিয়ে একবার থানায় যাবো কি না ভেবে দেখি । পলিসের সঙ্গে একবার পরামর্শ করা দরকার । পলিসের নাম শনে নিৰিবরোধী কেদার ভয় পেয়ে গেলেন । পলিসে যেতে হবে, ব্যাপারটা গুরতর দাঁড়াবে কি ? নাঃ । হয়তো মন্দির-টন্দির দেখতে বেরিয়েছে মেয়ে, ফিরে আসতে একটু বেলা হচ্ছে ! একেবারে পলিসে যাওয়াটা ঠিক হবে না। কেদার বললেন, আচ্ছা, আপনি স্নানাহার সেরে নিন-আমি ততক্ষণ একবার দেখে আসি এল কি না। আপনি খেয়ে একটু বিশ্রাম করন। আমি আসছি— বাগানবাড়িতে ফিরে কেদার এঘর ওঘর খুজলেন, ঝিকে ডাকলেন, শরৎ আসে নি । ঘড়িতে বেলা দটো । কিছুক্ষণ চুপ করে বিছানায় শয়ে মন শাস্ত করার চেষ্টা করলেন— পলিসে খবর দেবার আগে বরং একটু দেরি করা ভাল । ঘড়িতে আড়াইটে বাজল । এমন সময়ে ফটকের কাছে মোটরের হন শোনা গেল। কেদার উৎকণ হয়ে রইলেন – সকাল থেকে একশো মোটর গাড়ির বাঁশি শুনেছেন তিনি । কিন্ত মনে হ’ল - না, এই তো, গাড়ির শব্দ একেবারে বাগানের লাল কfকরের পথে । বাবাঃ, বাঁচা গেল । সমস্ত শরীর দিয়ে যেন ঝাল বেরিয়ে গেল কেদারের। ঝি ছুটে এসে বললে, বাব মোটর ঢুকছে ফটক দিয়ে দিদিমণি এসেছে— কেদার প্রায় ছটেই বাইরে গেলেন । মোটর সামনে এসে দাঁড়াল—তা থেকে নামল প্রভাস ও গিরীন । শরৎ তো গাড়িতে নেই ! ওরা এগিয়ে এল । কেদার ব্যস্ত ভাবে বললে, এসো বাবা প্রভাস – শরৎ আসে নি ? এত দেরি করলে, তাকে কি বাড়িতে— প্রভাস ও গিরীনের মুখ গম্ভীর। পাশেই বিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গিরীন বললে, শনেন, আপনার সঙ্গে একটা কথা আছে। ওদিকে চলন – ঝি হঠাৎ বলে উঠল, হ্যাঁ গা বাবা, দিদিমণি ভাল আছে তো ? গিরীন নামতা মুখস্থ বলার মত বললে, হ্যাঁ, আছে—আছে—আসন, চলন ওই ওদিকে। তুই যা না কেন, হাঁ ক'রে এখানে দাঁড়িয়ে কি—? ওদের রকম-সকম দেখে কেদার উদ্বিগ্ন মুখে প্রশ্ন করলেন, কি—কি হয়েছে ? শরৎ ভাল আছে তো ? প্রভাস বললে, হ্যাঁ, ভাল আছে । সেজন্য কিছ নয়, তবে একটা ব্যাপার হয়েছে, তাই আপনার কাছে— কেদার জিনিসটা ভাল বঝতে না পেরে বললেন, তা শরৎকে সঙ্গে নিয়ে এলেই হ’ত বাবাজি—তাকে আর কেন বাড়িতে রেখে এলে ? গিরীন বললে, আজ্ঞে না, তাঁকে নিয়েই তো ব্যাপার—সেই বলতেই তো— কেদারের প্রাণ উড়ে গেল—শরতের নিশ্চয় অসুখ-বিসখ হয়েছে, এরা গোপন করছে – তা ছাড়া আর কি হওয়া সম্ভব ? তিনি অধীর ভাবে কি একটা বলতে যাচ্ছিলেন, গিরীন এগিয়ে এসে গম্ভীর মুখে বললে, আপনাকে বলতেই তো আমাদের আসা । কিন্তু কি করে যে বলি, তাই বুঝতে পারছি নে। আসল কথাটা কি জানেন, আপনার মেয়েকে কাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না-মানে এখন পাওয়া গিয়েছে। তবে—