পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


३१९ বিভূতি-রচনাবলী যাওয়া যায় । সন্ধ্যার সময় দমদমা থেকে সাত মাইল দুরে যশোর রোডের ধারে গাছতলায় বসে একটি বন্ধ ব্রাহ্মণকে হাউ হাউ করে কাঁদতে দেখে দু-চারজন পথিকের ভিড় জমে গেল । একজন বললে, কি হয়েছে মশায় ? আর একজন বললে, বাড়ি কোথায় আপনার ? কি হয়েছে ? লোকজনের মধ্যে বেশির ভাগ চাষী লোক, দুজন দমদমায় এইচ-এম-ভি গ্রামোফোন কোম্পানীর কারখানায় কাজ করে, ছয়টির পর সাইকেলে গ্রামে ফিরছিল । তাদের একজন এগিয়ে এসে বললে—কি হয়েছে মশাই ? আমিও ব্রাহ্মণ, আসন আমার বাড়ি—এই কাঁচা রাস্তা দিয়ে নেমে গিয়ে গরানহাটি কেশবপুরে আমার বাড়ি— কেদার বললেন, না ও কিছল না—আমি এখন হেটে যাবো— — কাঁদছেন কেন, কি হয়েছে আপনার বলতেই হবে--আসন আপনি দয়া করে। এ অন্ধকার রাতে একা যাবেন কোথায় ? কেদার কাকুতি মিনতির সরে বললেন, না বাবন, আমি যাবে না। আমার কিছুই হয় নি—এই গিয়ে মাঝে মাঝে পেটে ফিক ব্যথা ধরে কি না। ও কিছ নয়, এক্ষুনি সেরে যাবে—সেরে গিয়েছে অনেকটা । 穹 কেদার প:টুলি নিয়ে অন্ধকারের মধ্যে উঠে বারাসাতের দিকে রওনা দিলেন পথ ধরে। সকলে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলে । ওদের মধ্যে একজনমচাঁক হেসে বললে, পাগল-পাগল ও, দেখেই চেনা যায়। পাগল— সন্ধ্যা উত্তীণ হয়ে পথে রাত এল । অন্ধকার রাত। কেদারের দকপাত নেই—কোথায় যাচ্ছেন তা তিনি এখনও জানেন না । মাঝে মাঝে মোটরের হন বাজে পেছন থেকে, মাল বোঝাই লরি যশোর রোড বেয়ে বারাসাত কি বনগাঁয়ে মাল নিয়ে চলেছে—কেদার হন শুনলেই পথের ধারের গাছের গড়ির আড়ালে লুকিয়ে পড়েন, প্রভাসদের মোটর তাঁর সন্ধানে পলিস নিয়ে বেরিয়েছে কি না কে জানে। সারাদিন পেটে কিছল যায় নি, কিন্তু আশচয্যের বিষয় কেদার এখন আহারের কোন প্রয়োজন পযf্যস্ত অনুভব করছেন না। শরীর এবং মন যেন তাদের সমস্ত অনুভুতি হারিয়ে একটি মাত্র অনুভুতিতে পয‘্যবসিত হয়েছে, সেটা সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ৰমশঃ তীক্ষন ও স্পষ্ট হয়ে উঠছে । অন্য কিছ নয়-কন্যার উপর তাঁর গভীর স্নেহ ও একটি অভূত কর্ণা । শরৎ যেন ছবিশ বছরের যুবতী নেই, তাঁর মনোরাজ্যে সে কখন শিশু মেয়েটি হয়ে ফিরে এসেছে, যে গড়শিবপুরের বাড়িতে জঙ্গলের ধারে কুচফল তলে খেলা করতো–তার খেলাঘরে ধুলোর ভাত ও পাথরকুচি পাতা মাছ খেতে হয়েছে বসে বসে । তার এখনও কি বন্ধিই বা হয়েছিল, চিরকাল পাড়াগাঁয়ে কাটানোর ফলে শহরের ব্যাপার কি বা সে বোঝে ! একবার ভাবলেন, কলকাতায় ফিরে গিয়ে পাশের বাগানের চাটুজে মশায়ের কাছে সব কথা ভেঙে বলে তাঁর সাহায্য চাইলে কেমন হয় । কিন্ত পলিসের আইন বড় কড়া । সেখানে চাটুজে মশায় কতটুকু সাহায্য করতে পারবেন ? বিশেষ করে এমন একটা কথা তিনি কি চাটুজে মশায়কে খালে বলতে পারবেন ? তবে কথা গোপন থাকবে না। ওই ঝিটা এতক্ষণ কথাটা পাড়াময় রাষ্ট্র করেছে—ঝি কি আর এতক্ষণ এ কথা না জেনেছে। ওই প্রভাস ও গিরীনই তাকে সব কথা প্রকাশ করে বলেছে এতক্ষণ । না, সেখানে আর ফিরবার উপায় নেই—এখন তো নয়ই, এর পর --কত পরে তা তিনি এখনও জানেন না—যা হয় একটা কিছু করবেন তিনি। বারাসাতের বাজারে পৌছে কেদারের ইচ্ছে হ’ল এখানে চা কিনে খান দোকান বেছে—