পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


રવ8 বিভূতি-রচনাবলী রাত্রিটা অগত্যা থেকে যেতে হ’ল । পরদিন সকালে তিনি যখন আবার বিদায় চাইলেন, গহ্বামী তিনটি টাকা তাঁর হাতে দিতে গেল। বললে—এই উঠেছে ঠাকুরমশায়, মিত্তির মশায় দিয়েছেন এক টাকা আর আমি সামান্য বিছ- এই নিয়ে যান - কেদার বিনীত ভাবে বললেন, আমি ও নিতে পারবো না— ঘোষ মশায় আশ্চয্য হয়ে বললে, নেবেন না ? কেন ? —আজ্ঞে—ইয়ে—ও আমার দরকার নেই। ঘোষ মশায় তাঁর মুখের দিকে চেয়ে বললে, এর চেয়ে বেশী উঠলো না যে ঠাকুর মশায় ? না হয় আমি আর একটা টাকা— কেদার বললেন, না-না-আপনি অতি মহৎ লোক, যা করেছেন তা কেউ করে না। কিন্ত আমি-আমি নিতে পারবো না। আমি আপনাকে এমনিই আশীবাদ করছি— আপনি ধনে পত্রে লক্ষীশ্বর হোন -ভগবান আপনাদের সখে রাখনে— কেদারের চোখে জল দেখে গহস্বামী বিস্মত হয়ে তাঁর দিকে চেয়ে রইল, তার পরে উঠে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বললে ।চ্ছিা, আপনি ঠিকমত পরিচয় দেন নি বোধ হয় । এ বাজারে চার টাকা ছেড়ে দেয় এমন লোক আমি দেখি নি—বলন আপনি কে –কি হয়েছে আপনার--- n কেদার উৎগত অশ্র, কোনোমতে চেপে তাড়াতাড়ি সেখান থেকে বিদায় নিয়ে রাস্তায় উঠতে উঠতে বললেন–কিছু হয় নি, কিছ হয় নি। আমি আসি, আমার বিশেষ দরকার আছে—কিছ মনে করবেন না— গহস্বামী টাকাটা হাতে করে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল । সেদিন সারাদিন অনবরত পায়ে হেটে সন্ধ্যার ণর কেদার গড়শিবপুর থেকে ছয় ক্লোশ দরে হলুদপুরের বাজারে পৌছলেন । এখানে কেট তাঁকে চিনতো না চার ক্লোশ দারের এ বাজারে তাঁর যাতায়াত বিশেষ ছিল না। না চেনে সে খুব ভালো। একটা পুকুরের বাঁধা ঘাটের চাতালে এসে বসলেন, এতদরে পয্যন্ত চলে এসেছেন কিসের ঝোঁকে, কিছদ বিবেচনা না করেই, এই বার তাঁর মনে প্রশ্ন জাগলো—কোথায় যাবেন তিনি ? গাঁয়ে ফেরা কি উচিত হবে ? মেয়ের কথা লোকে জিজ্ঞেস করলে কি উত্তর দেবেন তিনি ? কেদারের উদভ্ৰান্ত মন এ দু-দিন এসব কথা ভাববার অবকাশ পায় নি । ছয় রাত্রে শরতের ভাল ঘুম হ’ল না, অচেনা জায়গা ভাল ঘমে হবার কথা নয়, দেশের বাড়ি ছেড়ে এসে পৰ্য্যন্তই তার ঘুম তেমন হয় না। কিন্ত কাল রাত্রে কি জানি কেমন হ’ল, বাবার কথা মনে হয়েই হোক বা অন্য যে কারণেই হোক--শরৎ প্রথম দিকে তো চোখের পাতা একটুও বোজাতে পারে নি। প্রভাসের বৌদিদি তার পাশে শীয়ে দিবি ঘুমিয়ে পড়ল। এত শব্দ এত আওয়াজের মধ্যে মান্য পারে ঘনমতে ? মোটর গড়ি যাচ্ছে, লোকজনের কথাবাত্ত"া চলেছে—ভাল রকম অথকার হয় না, জানলাদিয়ে কোথা থেকে আলো এসে পড়েছে দেওয়ালের গায়ে—আর সারারাতই কি লোক-চলাচল করবে আর গান-বাজনা চলবে ? এখানে এতও গানবাজনা হয় । ডুগি-তবলার শব্দ, হারমোনিয়মের আওয়াজ, মেয়ে-গলার গান চলেছে আশেপাশের সব বাড়ি থেকে। দমদমার বাগানবাড়িতে থাকতে সে বুঝতে পারে নি আসল কলকাতা