পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२१७ বিভূতি-রচনাবলী —ওই পাশের বাড়ি, দোতলার জানলাটা খোলা রয়েছে দেখছ তো, ওই ঘর। দাঁড়াও আসছি— শরৎ শনলে বড়ো মাতালটা হঠাৎ এই যে হেনা বিবি বলিহারি যাই ! বলি সাসি" জানলা বন্ধ করে’—এই পৰ্য্যস্ত চে’চিয়ে বলে উঠেই চুপ করে গেল। কে যেন তার মুখে থাবা দিয়ে চুপ করিয়ে দিলে। কিছুক্ষণ পরে কমলাও ঘরে ঢুকল। শরৎহাসিমুখে বলেউঠল—এসো ভাই গঙ্গাজল এসো-তোমাকেই খুজছি—গঙ্গা নাইতে চলো না কেন যাই সবাই মিলে ? কমলা সত্যিই সন্দের" মেয়ে । ঘুম ভেঙে সদ্য উঠে এসেছে, আলথাল চুলের রাশ খোঁপার বাঁধন ভেঙে ঘাড়ে পিঠে এলিয়ে পড়েছে, বড় বড় চোখে অলস দণ্টি, মুখের ভাবেও জড়তা কাটে নি--বেশ ফসর্ণ নিটোল হাত দটি কেমন চমৎকার ভঙ্গিতে ঘাড়ের পেছনে তুলে ধরে এলোচুল বধিবার চেণ্টা করছে । আসলে বাঁধার ছলে একটা কায়দা মাত্র, চল বধিবার চেয়ে ওই ভঙ্গিটা দেখাবার আগ্রহটাই ওখানে বেশি । শরতের হাসি পায়--ছেলেমানুষ কমলা ! শরৎ এসব বোঝে। সেও এক সময়ে সন্দেরী কিশোরী ছিল, ওই কমলার মত বয়সে, সে জানে, নিজেকে ভাল দেখানোর কত খুটিনাটি আগ্রহ অকারণে মেয়েদের মনে জাগে । তারও জাগত । এসব শিখিয়ে দিতে হয় না, বলে দিতে হয় না মেয়েদের । আপনিই জাগে । শরতের কেমন স্নেহ হয় কমলার ওপর । স্নেহের সরেই বলে—ভাই, চমৎকার দেখাচ্ছে তোমায় গঙ্গাজল -- —সত্যি ? —সত্যি বলছি । 岷 * কমলার মাথে লৎজার আভাস নেই, সে যে পথে পা দিয়েছে, সে পথের পথচারিণীরা ল-জাবতী লতা নয়, বনচাঁড়ালের পাতা -টুসি দিলে নাচে । কমলা হেসে বললে, আপনার ভাল লাগে ? —খবে, ভাই —খবে—তবে তো আমার ভবিষ্যতের পক্ষে ভালো- এদিকে আবার গঙ্গাজল পাতিয়েছি – কমলার কথার নিল"জ সদর শরতের কানে বাজল । সে মনে মনে ভাবলে, মেয়েটি ভালো, কিন্তু অলপ বয়সে একটু বেশী ফাজিল হয়ে পড়েছে। আমি ওর চেয়ে কত বড়। মা না হলেও কাকী খড়ীর বয়সী—আমার সঙ্গে কেমন ধরনের কথা বলছে দ্যাথো— কমলা বললে, আপনি চা খেয়েছেন ? শরৎ হেসে বললে, না ভাই, আমি বিধবা মানুষ, নাই নি, ধলই নি -এখনি চা খাবো কি করে ? চা খাওয়ার কোনো তাড়াতাড়ি নেই আমার । এখন গঙ্গা নাইবার কি ব্যবস্হা হয় বলো তো ? خاص ه - سگ —চলন না হে’টে গিয়ে নেয়ে আসি । এই তো আহিরীটোলা দিয়ে গেলে সামনেই গঙ্গা— প্রভাসের বৌদিদি ওদের ঘরের মধ্যে ঢুকতে যাচ্ছিল ; এমন সময়ে পেছন থেকে গিরীন ডাকলে—ও হেনা বিবি— হেনা দাঁড়িয়ে গিয়ে পেছন ফিরে বললে, কখন এলে ? কি ব্যাপার ? ওদিকে— গিরীন চোখ টিপে বললে, আস্তে । হেনা এবার গলার সরে নিচু করে বললে, কি হ’ল ? —এখনো হয় নি কিছু। আমরা এখনো বড়োর কাছে যাই নি । বেশী বেলা হলে যাবো। এদিকের খবর কি ?