পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


e অপরাজিত ఇ& অপ বলিল—একটা টিপ পরো না খাকী ! ভারী সন্দের মানাবে তোমার কপালে— অপণা সলঙ্গ হাসিয়া বলিল—যাও— —সত্য বলছি আপণা, আছে টিপ ?-- 龜 —আমার বয়সে বুঝি টিপ পরে ? আমার ছোট বোন শাস্তির এখন টিপ পরবার বয়স তো— কিন্তু শেষে তাহাকে টিপ পরিতেই হইল। সত্যই ভারী সন্দর দেখাইতেছিল, প্রতিমার চোখের মত টানা, আয়ত সন্দর চোখ দটির উপর দীঘ, ঘনকালো, জোড়া ভুররে মাঝখানটিতে টিপ মানাইয়াছে কি সুন্দর । অপর মনে হইল—এই মুখের জন্যই জগতের টিপ সটি হইয়াছে—প্রদীপের স্নিগ্ধ আলোয় এই টিপ-পরা মুখখানি বার-বার সতৃষ্ণ চোখে চাহিয়া দেখিবার জন্যই । অপণা বলে—ছাই দেখাচ্ছে, এ বয়সে কি টিপ মানায় ? কি করি পরের ছেলে, বললে তো আর কথা শুনবে না তুমি ! —না গো পরের মেয়ে, শোনো, একটু সরে এসো তো— —ভারী দন্ট্রে—এত জৰালাতনও তুমি করতে পার -- অপ বলিল--আচ্ছা, আমায় দেখতে কেমন দেখায় বলো—না সত্যি—কেমন মাখ আমার ? ভাল, না পে“চার মত ? 歌 অপণার মুখ কৌতুকে উeজল দেখাইল—নাক সিটকাইয়া বলিল—বিশ্ৰী, পেচার মত। অপর কৃত্ৰিম অভিমানের সরে বলিল—আর তোমার মুখ তো ভাল, তা হলেই হয়ে গেল। যাই, শুইগে যাই—রাত কম হয় নি—কাল ভোরে আবার— বধ খিল খিল করিয়া হাসিয়া উঠিল। 學 এই রাত্রিটা গভীর দাগ দিয়া গিয়াছিল অপর মনে। মাটির ঘরের আনাচে-কানাচে, গাছপালায় বাঁশবনে, ঝিম-ঝিম নিশীথের একটানা বষ*ার ধারা। চারিধারই নিস্তবধ । পৰবদিকের জানালা দিয়া বষাসজল বাদল রাতের দমকা হাওয়া মাঝে মাঝে আসে—মাটির প্রদীপের আলোতে, খড়ের মেজেতে মাদর বিছাইয়া সে ও অপণা ! অপর বলিল—দ্যাথো আজ রাত্রে মায়ের কথা মনে হয়—মা যদি আজ থাকত ! অপণা শান্ত সরে जिल-भा সবই জানেন, যেখানে গিয়াছেন, সেখানে থেকে সবই দেখছেন। পরে সে কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া চোখ তুলিয়া স্বামীর মুখের দিকে চাহিয়া বলিল—দ্যাখো, আমি মাকে দেখেছি । অপর বিস্ময়ের দটিতে স্ত্রীর দিকে চাহিল। অপণ"ার মুখে শাস্ত, স্হির বিশ্বাস ও সরল পবিত্রতা ছাড়া আর কিছু নাই । অপণা বলিল—শোন, একদিন কি মাসটায়, তোমার সেদিন চিঠি এল দাপরে বেলা । বিকেলে অচল পেতে পানচালায় পি'ড়েতে শয়ে ঘামিয়ে পড়েছি—সেদিন সকালে উঠোনের ঐ লাউগাছটাকে প্রতেছি, কণি কেটে তাকে উঠিয়েছি, খেতে অনেক বেলা হয়ে গিয়েছে, বাঝলে ? স্বপ্নে দেখছি—একজন কে দেখতে বেশ সন্দের, লালপেড়ে শাড়ি-পরা, কপালে সিদর, তোমার মুখের মত আদল, আমার আদর করে মাথার চুলে হাত বলিয়ে বলছেন— ও আবাগীর মেয়ে, অবেলায় শয়ো না, ওঠো, অস্ক-বিসাক হবে আবার ? তারপর তিনি তাঁর হাতের সিদরের কোঁটো থেকে আমার কপালে সিদর পরিয়ে দিতেই আমি চমকে জেগে উঠলাম—এমন পণ্ট আর সত্যি বলে মনে হ'ল যে তাড়াতাড়ি কপালে হাত দিয়ে দেখতে গেলাম সিদর লেগে আছে কি না—দেখি কিছুই না—বকে ধড়াস করে উঠল— চারদিকে অবাক হয়ে চেয়ে দেখি সন্ধ্যে হয়ে গিয়েছে—বাড়িতে কেউ নেই-খানিকক্ষণ না