পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


રવા? বিভূতি-রচনাবলী হেনা কমলাকে চোখ টিপে বললে, থাম বাপ তুই । তুই ভারি জানিস রাস্তা-ঘাট । তার পর দিদিকে নিয়ে যেতে একটা বিপদ হোক রাস্তায় ! যে গড়া আর বদমাইশের ভিড়— শরৎ বললে, সত্যি নাকি ভাই, বলুন না ? —আমি কি আর মিথ্যে কথা বলছি—ও ছেলেমানুষ, কি জানে ? এইবার কমলা বললে, না—তা -হ’্যা আছে বটে । —কি আছে ভাই গঙ্গাজল ? কমলাকে উত্তর দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই বললে, কি নেই কলকাতা শহরে বলতে পারো ? সব আছে । আজকাল আবার সোলজারগুলো ঘরে বেড়ায় সব জায়গায় । —সে আবার কি ? —সোলজার মানে গোরা সৈন্য । এরা যে অঞ্চলে আছে, তার রিসীমানায় মেয়েমানুষের যাওয়া উচিত নয় । না, তুমি যেও না ভাই । আমি তোমায় যেতে দিতে পারি নে। তোমার ভাল-মন্দর জন্যে আমি দায়ী যখন । প্রভাস-ঠাকুরপো আমার হাতে তোমায় যখন স’পে দিয়ে গিয়েছে। কমলা বললে, আমরা তৈল মাখলাম যে । — তেল মেখে বাড়ির বাথরুমে ও'কে নিয়ে চান করো । মিছিমিছি কেন ওকে বিপদের মধ্যে নিয়ে যাওয়া ? আড়ালে নিয়ে গিয়ে কমলাকে হেনা খুব বকলে । প্রভাসের কাছ থেকে সেও টাকা নেবে যখন, তখন এতটুকু বধি নিয়ে কাজ করলে কি চলে না ? বাড়ির মধ্যেই ওকে ধরে রাখা যাচ্ছে না, একবার বাইরের রাস্তায় পা দিলে আর সামলানো যাবে না ওকে। এত কম বৃদ্ধি কেন কমলার ! হরি সা লোকটাকে কাল রাত্রে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিলে কি কোম্পানীর রাজ্য অচল হ’ত ? সামলে না নিলে সব কথা ফাঁস হয়ে যেতো ধে আর একটু হলে ? ঘটে বন্ধি হবে কবে তার ?--ইত্যাদি। কমলা গর্জন-কত্তাক-তিরকতা-বালিকার ন্যায় চুপ করে রইল । হেনা বললে, তুমি আর ওঘরে যেও না । আমি করছি যা করবার-তুমি যাও । হরি সা যেন এখন আর না টোকে-- হেনা ঘরে ঢ.কে শরৎকে বললে, গঙ্গায় যাওয়া হবে না ভাই। পথে আজকাল বড় গোলমাল, তুমি বাথরুমে নেয়ে নাও, আমি সব যোগাড় করে রেখে এলাম— স্নান করে আসবার কিছর পরে হেনা শরৎকে বললে, তোমার খাওয়ার কি করবো ভাই ? আমাদের রামা চলবে না তো ? —আমার খাওয়ার জন্যে কি ভাই ! দুটো আলো চাল আনন, ফুটিয়ে নেবো । —মাছমাংস চলে না—না ? গা থেকে এসেছ, এখন চলকে না, কে আর দেখতে আসছে ভাই ? প্রভাসের বৌদিদির এ কথায় শরৎ বিন্মিত হয়ে ওর মাখের দিকে চেয়ে রইল। ব্রাহ্মণের ঘরের মেয়ে নয় বটে, কিন্তু হিন্দ তো—সে একজন ব্রাহ্মণের বিধবাকে একথা বলতে পারলে কি করে ? অন্য জায়গায় এ ধরনের কথা বললে শরৎ নিজেকে অপমানিতা বিবেচনা করত, তবে এরা কলকাতার লোক, এদের কথা স্বতন্ত্র । শরৎ গম্ভীর মুখে বললে, না ও-সব চলে না। ও কথাই বলবেন না আর— হেনা মনে মনে বললে, বাপ রে, দেমাক দ্যাথো আবার । কথা বলেছি তো ও’র গায়ে ফোকা পড়েছে । তোমার দেমাক আমি ভাঙবো, যদি দিন পাই - কত দেখলাম ওরকম, শেষ পয"াস্ত টিকল না কোনটা ।