পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


किप्राच्न झाछा ২৮৩ মোটামত লোকটা গন্জন করে বলে উঠল, ও কোথায় যাবে ? পরক্ষণেই সে শরতের দিকে ভাল করে চেয়ে,সর নরম করে ইতরের মত রসিকতার সরে বললে, তুমি আবার কে চাঁদ ? - শরৎ সে কথার কোনো উত্তর না দিয়ে কমলার হাত ধার তাকে ঘরের বাইরে আনতে গেল । বড়ো লোকটা বললে, ওকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ চাঁদ ঐ ওকে আমার দরকার আছে— তুমিও এখানে বসো না একটু-কোন ঘরে থাকো ? পরে কমলার দিকে চেয়ে কড়া সরে বললে, এই যাবি নে। বোস বলছি ? শরৎ বললে, আপনি একে মারছেন কেন ? --আমার ইচ্ছে –তুমি কে হে আমার কাজের কৈফিয়ৎ নিতে এসো ? আমার নাম হরি সা। বৌবাজারে আমার দোকানে ছাপান্ন হাজার টাকার জল বিক্ৰী হয় মাসে - শুধু জল, বাঝলে চাঁদ। বোতলভরা জল শরৎ ততক্ষণে কমলার হাত ধরে ঘরের বাইরে এনেছে । কমলার পিঠের কাপড় তুলে দেখলে, পিঠেও অনেক জায়গায় লম্বা লম্বা মারের দাগ । হেনা কখন এসে নিঃশব্দে ওদের পেছনে দাঁড়িয়েছে। শরৎ তার দিকে চেয়ে বললে, দেখন ওই কে একজন লোক কি রকম মার মেরেছে- কে ভাই উনি তোমার ? কমলা চুপ করে রইল, তখন সে নিঃশব্দে কদিছে । এ কথার উত্তর দিলে স্বয়ং হরি সা । কমলার পিছনে পিছনেই সে ঘরের বাইরে এসে বললে - আমি কে ওর ? শধে ওকে জিজ্ঞেস করে ওর পেছনে কত টাকা খরচ করেছি আমি। হাড়কাটা গলির দোকানখানাই উড়িয়ে দিয়েছি ওর পেছনে—আমার আচ্ছা আমি বসছি গিয়ে ধরের মধ্যে ও পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঘরে আসকে - শরৎ এতক্ষণও খুব খারাপ কোনো সন্দেহ করে নি। কমলার কোনো গরজেন হবে এতক্ষণ ভেবেছিল—যদিও লোকটার কথাবাত্তার ধরনে সে রাগ করেছিল খব। কিন্তু এবার তার বকের মধ্যেটা হঠাৎ ধৰক করে উঠল, এ কোন সমাজে সে এসে পড়েছে যেখানে দাদামশায়ের বয়সী বন্ধ নাতনীর বয়সী মেয়ের সম্বন্ধে এ ধরনের কথাবাত্ত" বলে ? সে কোথায় এসে পড়েছে । বড়ো লোকটার সঙ্গে কমলার সম্পক কি ? প্রভাসের বৌদিদিই বা তাকে এত মিথ্যে বলতে গেল কেন ? সে হেনার দিকে তীব্রদটিতে চেয়ে বললে, আপনি জেনেশনে আমায় কি সব কথা বলছিলেন এতক্ষণ ? আমায় আপনাবা কোথায় এনেছেন ? এ সব কি কাণ্ড । reনা ঠোঁট উলেট বললে, ন্যাও ন্যাও গো রাইমণি । অমন সতীপনা অনেককে করতে দেখেছি—প্রথম প্রথম যারা আসে, সবাই অমনি সতী থাকে কত দেখলাম, কত হ’ল আমাদের এ চক্ষের সামনে – শরৎ রাগের সরে বললে, তার মানে ? কি বলছেন আপনি ? — যা বলছি তা বলছি, ভেবে দ্যাথো । আর ঢং দেখাতে হবে না তোমাকে । বেরিয়ে এসেছ তো প্রভাসের আর গিরীনের সঙ্গে—কোথায় এসে পড়েছ বুঝতে পারছ না ? তোমার একুল ওকুল দ্বতুল গিয়েছে। এখন যেখানে এসে উঠেছ সেখানেই থাকো—সুখে থাকবে। তোমার বাবা এখানে নেই - চলে গিয়েছে কাল । তুমি এখানে ওদের সঙ্গে পালিয়ে এসে উঠেছ শ্যনে— শরতের মুখ থেকে হঠাৎ সব রক্ত চলে গিয়ে সমস্ত মুখখানা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সে হাঁ করে হেনার মুখের দিকে চেয়ে রইল । মুখ দিয়ে কোন কথা বার হ’ল না, শধে তার ঠোঁট