পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা ՀԵ& গিরীন কৃত্ৰিম ভয়ের ভান করে হেনার পেছনে লকোবার অভিনয় করলে। বললে-ও বাবা, শালে দেবার না ফাঁসিতে লটকাবার হকুম হয়েগেল বুঝি । তাল সামলাওহেনা বিবি – শরৎ বললে, সে দিন নেই, আজ আমার বাবা গরীব, আমরা গরীব-নইলে আপনাদের মত ছোটলোককে শালে ফাঁসে দেওয়া খুব বেশী কথা ছিল না গড়শিবপরে—যাক, আমায় যেতে দিন, আমি চলে যাবো।-- গিরীন বললে, কোথায় যাবে চাঁদ ? সে পথ বন্ধ- আমি তো— শরৎ বলে উঠল, আবার ওই ইতরের মত কথা ! আমি কোনো কথা শুনবার আগে আপনি আমার সামনে থেকে চলে যান-ভদ্রলোক বলে ভুল করে ঠকেছি-- শরতের কথাবাত্ত"ার ভঙ্গীর মধ্যে ও কণ্ঠস্বরে এমন কি একটা জিনিস ছিল যাতে গিরীন কু-ডু যেন সাময়িক ভাবে ভয় পেয়ে চুপ করল । হেনা ওকে আড়ালে চুপি চুপি বললে, কেন ও বাঙালনীকে রাগাচ্ছ । রাগিয়ে কাজ পাবে না ওর কাছে । —বাপরে ! কেবলই যে ফেসি ফোঁস করে ? আঞ্জ ওকে এখানে রাখো— -আমি পারবো না, আমার থিয়েটার আজ-- o —তুমি নিয়ে যাও কমলাকে । হরি সাকে আমি নিয়ে ফ্ল্যাটে তলা দিয়ে যাচ্ছি। থাকুক এখানে চাবি দেওয়া আটকানো— o হেনা ফিরে গিয়ে বললে, তোমার কথা হ’ল । বাড়ি যাবে কোথায় ? সেখানে সব রটে গিয়েছে -গাঁয়ে যাবে কোন মুখে ? এখানে সুখে থাকবে । —সে ভাবনা আপনি ভাববেন না । আমার যে দিকে দু-চক্ষ যায় চলে যাবো । মাগঙ্গা তো আছেন, শেষ পযর্ন্যস্ত । এমন কি করেছি আমি যাতে মা আমায় কোলে স্থান দেবেন না ? শরতের গলা আবার কান্নার বেগে আটকে গেল । বললে-লোককে বিশ্বাস করে আজ আমার এই দশা—কি করে জানবো যে মানুষের পেটে এত থাকে ! হেনা বললে, আচ্ছা, তাই হবে । না হয় মোটরে করে তোমাকে ইন্টিশানে রেখে আসকে —দেখে আসি নীচে– সে চলে গেল। কমলাকে গিরীন কি বলতে নিয়ে গেল পাশে । শরৎ খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে দড়িয়ে হেনার ওপরে উঠে আসবার অপেক্ষা করলে । তার পর তার দেরি হচ্ছে দেখে সি*ড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে দেখলে বাইরের দরজা বন্ধ । বাইরে থেকে ওরা তালা দিয়েছে । শরৎ আবার ওপরে উঠে এল । একবার মনে করলে তালা দেয় নি, ওরা গাড়ির সন্ধানে গিয়েছে । আনতে দেরি হচ্ছে হয়তো । শরৎ এসে চুপ করে ওপরে অনেকক্ষণ বসে রইল । বাড়ি নিউজ’ন, নিস্তষধ। জলতেণ্টা পেয়েছে বড়, জল আছেও কিস্ত এ বাড়িতে সে জলপশ করবে না, জলতেন্টায় মরে গেলেও না। প্রভাসদার বাবার কি সত্যিই অসুখ । হয়তো সব মিথ্যে কথা ওদের । কথাতে কথাতে বিশ্বাস করেই আজ তার এই দশা। প্রভাসও লোক ভাল নয় নিশ্চয়ই । অনেকক্ষণ কেটে গেল। কেউ আসে না । শরৎ জানলা দিয়ে পাশের বাড়িতে উ*াক মেরে দেখবার চেষ্টা করলে। কোন লোক দেখা গেল না । দ্য ঘণ্টা তিন ঘণ্টা কেটে গেল, শরৎ বসে বসে হাপস নয়নে কাঁদতে লাগল । সম্পণে অসহায়, কেউ তাকে জানে না, কেউ চেনে না। কি সে এখন করে ? শেষ পৰ্য্যস্ত সে ভাবলে, এও ভালো, দ" গরর চেয়ে শান্য গোয়ালও ভালো। ওরা না