পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ՀԵՆ --سیمس বিভূতি-রচনাবলী আসকে, সে এখানে না খেয়ে মরবে—মরতে তার ভয় নেই। একবার আশা ছিল বাবার সঙ্গে দেখা করে সব কথা খালে বলে –কিস্ত বাবার দশানলাভ অদণ্টে বোধ হয় নেই। বিকেল হয়ে আসছে। পাশের বাড়ির গায়ে লবা ছায়া পড়েছে। শরৎ বসে বসে একটা উপায় ঠিক করলে। সে যেই দেখবে পাশের বাড়ির জানলায় লোক, তাকে সে নিজের অবস্থার কথা জানাবে। তার কথা শুনে দয়া হবে না কি ওদের ? বাড়ির চাবিটা খলিয়ে দেবে না তারা ? হঠাৎ সে দেখলে পাশের বাড়ির জানলায় একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে । সে চে’চিয়ে বললে, শনন, এই ষে এদিকে— মেয়েটি ওর দিকে বিস্ময়ের দৃষ্টিতে চেয়ে বললে, আমায় বলছো—কি ভাই ? আমায় এ বাড়িতে আটকে রেখেছে । আমি পাড়াগা থেকে এসেছি—আমায় দোরটা খলে দিন দয়া করন আমার ওপর। - এ তো হেনা দিদির বাড়ি । হেনা নেই ? —হেনা কে জানি নে । তবে কেউ এখন এ-বাড়িতে নেই। আমায় তালা দিয়ে বন্ধ করে রেখে চলে গিয়েছে - -- তোমার বাড়ি কোথায় ? --অনেক দুরে । গড়শিবপুর বলে একটা গ! —যশোর জেলা— - এখানে কার সঙ্গে এসেছ ? -- প্রভাস আর অরণ বলে দুজন লোক —আমাদের গায়ের – মেয়েটি মচকি হেসে বললে, তার পর ঝগড়া হয়েছে বুঝি ? থাকো ভাই, থাকো । এসেছে যখন, তখন যাবে কোথায় ? শরৎ বাগ্রস্বরে বললে, না না -আপনি বুঝতে পারছেন না। ওরা আমায় ঠকিয়ে এনেছে, আমি ভদ্রলোকের মেয়ে। আমায় দোর খালে দিন কাউকে বলে দয়া করে--অামায় বচিান— আমার সব কথা শুনন - মেয়েটি ঠেটি উলেট বললে, সবাই বলে ঠকিয়ে এনেছে । তবে এসেছিলে কেন ? ওসব আমি কিছু করতে পারবো না- কে হ্যাঙ্গামা পোয়াতে যাবে বাপ তোমার জন্যে ? যারা এনেছে, তাদের কাছে বোঝাপড়া করো গে – কথা শেষ করে মেয়েটি জানলা থেকে সরে গেল । শরৎ জানত না যে এ পাড়ায় আশপাশের বাড়িতে যে-সব পত্রীলোক বাস করে, তারা কেউ ভদ্রঘরের নয়, মনে, চরিত্রে, পেশায় তারা হেনারই সগোত্র । এদের কাছ থেকে সাহায্য ড্রিক্ষা নিৰ্ম্মফল । কিছুক্ষণ কেটে গেল । বিকেল বেশ ঘনিয়ে এসেছে । এমন সময় সিড়িতে পায়ের শব্দ শনে শরৎ তাড়াতাড়ি ছুটে বাইরের বারান্দায় এসে দেখতে গেল। সিড়ি দিয়ে উঠে আসছে একা কমলা । ওর পেছনে কেউ নেই । ওকে দেখে কমলা হাসিমুখে বললে –কি ভাই গঙ্গাজল ? তার পর তাড়াতাড়ি দু-তিনটে সিড়ি একলাফে ডিঙিয়ে এসে শরতের গলা জড়িয়ে ধরে বললে, গঙ্গাজল--কি কস্ট ওরা তোমাকে দিলে ! কোনো ভয় নেই ভাই, আমি যখন এসে গিয়েছি । তুমি পালাও -আমি লুকিয়ে দেখতে এসেছিলাম তোমার কি দশা হচ্ছে—হয়তো এতক্ষণে একটা উপায় হয়েছে ভেবেছিলাম। তুমি চলে যাও—আমার কাছে এ বাড়ির একটা চাবি থাকে, তাই রক্ষে । এতক্ষণ শরৎ কথা বলবার অবকাশ পায় নি, এত তাড়াতাড়ি সব ব্যাপারটা ঘটল । সে এইবার বললে, ভগবান আছেন গঙ্গাজল, তাই তোমায় পাঠিয়ে দিয়েছেন ভাই--