পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত సిరి জজ বলিয়াছেন, যুদ্ধশেষে ভারতবর্ষকে আমরা আর পদানত করিয়া রাখিব না। ভারতকে দিয়া আর ক্রীতদাসের কাষ" করাইয়া লইলে চলিবে না । Indians must not remain as hewers of wood and drawers of water. এই সময়েই একদিন ইনস্টিটিউটের লাইব্রেরিতে কাগজ খলিয়া একটা সংবাদ দেখিয়ে সে অবাক হইয়া গেল । জোয়ান অব আককে রোমান ক্যাথলিক যাজক-শক্তি তাঁহাদের ধৰ্ম্ম সম্প্রদায়ের সাধর তালিকাভুক্ত করিয়াছেন । 叠 তার শৈশবের আনন্দ-মহেত্তের সঙ্গিনী সেই পল্লীবালিকা জোয়ান-ইছামতীর ধারে শান্ত বাবলা-বনের ছায়ায় বসিয়া শৈশবের সে স্বপ্নভরা দিনগুলিতে যাহার সঙ্গে প্রথম পরিচয় । ইহার পর সে একদিন সিনেমাতে জোয়ান অব আর্ণের বাৎসরিক সমৃতি-উৎসব দেখিল । ডমরেমির নিভৃত পল্লীপ্রান্তে ফ্রান্সের সকল প্রদেশ হইতে লোকজন জড়ো হইয়াছে—পথিবীর বিভিন্ন স্হান হইতে কত নরনারী আসিয়াছে, সামরিক পোশাকে সজ্জিত ফরাসী সৈনিক কমচারীর দল---সবসন্ধ মিলিয়া এক মাইল দীঘ বিরাট শোভাযাত্রা --জোয়ানের সঙ্গে তার নাড়ীর কি যেন যোগ—জোয়ানের সম্মানে তার নিজের বক যেন গবে ফুলিয়া উঠিতেছিল, শৈশবের সবপ্নের সে-মোহ অপর এখনও কাটাইয়া উঠিতে পারে নাই । 蠟 বড় হইয়া অবধি সে এই মেয়েটিকে কি শ্রদ্ধার চোখে ভৰ্ত্তির চোখে দেখিয়া আসিয়াছে এতদিন, সে-কথা জানিত এক অনিল—নতুবা কল্পনা যাহাদের পঙ্গ, মন মিনমিনে, পানসে —তাহাদের কাছে সে-কথা তুলিয়া লাভ কি ? কলেজে পড়িবার সময় সে বড় ইতিহাসে জোয়ানের বিস্তত বিবরণ পড়িয়াছে—অতীত শতাব্দীর সেই অবব নিষ্ঠুরতা, ধৰ্ম্মমতের গোঁড়ামি, খটিতে বধিয়া হৃদয়হীন দাহন—সযf্যদেবের রথচক্লের দ্রত আবৰ্ত্তনে অসীম আকাশে যেমন দােপর হয় বৈকাল, বৈকাল হয় রাত্রি, রাত্রি হয় প্রভাত—মহাকালের রথচক্লের আবৰ্ত্তনে এক শতাব্দীর অন্ধকারপঞ্জে তেমনি পরের শতাব্দীতে দ্রীভূত হইয়া যাইতেছে। সত্যের শ্যকতারা একদিন যে প্রকাশ হইবেই, জীবনের দুঃখ দৈন্যের অন্ধকার শুধ যে প্রভাতেরই অগ্রদত কলকাকলিময়, ফুল-ফোটা অমত-ঝরা প্রভাত । অন্যমনস্ক মনে সিড়ি দিয়া নামিয়া সে খাদ্য-বিভাগের ঘরে ঢুকিতে যাইতেছে, কে তাহাকে ডাকিল। ফিরিয়া চাহিয়া দেখিয়া প্রথমটা চিনিতে পারিল না—পরে বিসময়ের সরে বলিল-প্রীতি, না ? এগজিবশন দেখতে এসেছিলে বুঝি ? ভাল আছ ? প্রীতি অনেক বড় হইয়াছে। দেখিয়া বুঝিল, বিবাহ হইয়া গিয়াছে। সে সঙ্গিনী একটি প্রৌঢ়া মহিলাকে ডাকিয়া, বলিল—মা, আমার মাস্টার মশায় অপববাব –সেই অপদেববাব । অপ প্রণাম করিল। প্রীতি বলিল-আচ্ছা আপনার রাগ তো ? এক কথায় ছেড়ে দিয়ে চলে গেলেন ! দেখুন, কত ছোট ছিলম, বঝেতুম-কি কিছ ? তারপর আপনাকে কত খোঁজ করেছিলাম, আর কোনও সন্ধানই কেউ বলতে পারলে না। আপনি আজকাল কি করছেন মাস্টার মশায় ? —ছেলেও পড়াই, রাত্রে খবরের কাগজের অফিসে চাকরিও করি— —আচ্ছা মাস্টার মশাই, আপনাকে যদি বলি, আমাদের বাড়িকি আপনি আর যাবেন না ? অপর মনে পৰবতন ছাত্রীর উপর কেমন একটা স্নেহ আসিল । কথা গছাইয়া বলিতে জানিত না, কি বলিতে কি বলিয়া ফেলিয়াছিল সে সময়—তাহারও অত সহজে রাগ করা ঠিক হয় নাই । সে বলিল,—তুমি অত অপ্রতিভ ভাবে কথা বলছ কেন প্রীতি ! দোষ । আমারই, তুমি না হয় ছেলেমানষে ছিলে, আমার রাগ করা উচিত হয় নি—